সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রমআইন বাস্তবায়নের দাবিতে ১৪ জানুয়ারি হোটেল শ্রমিকদের কর্মবিরতি

December 10, 2025,

স্টাফ রিপোর্টার : মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত শ্রমিকদের এক সভায় হোটেল সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়ন এবং ৮ ঘন্টা কর্মদিবস, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র প্রদানসহ শ্রমআইন বাস্তবায়ন দাবিতে আগামী ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করার আহবান জানানো হয়।

৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার রাতে শহরের চৌমুহনাস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে হোটেল শ্রমিকনেতা তারেশ চন্দ্র দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মৌলভীবাজার ছাড়াও কুলাউড়া ও জুড়ী উপজেলার হোটেল শ্রমিকনেতারা অংশগ্রহণ করেন। সভায় বক্তব্য রাখেন জুড়ী উপজেলার হোটেল শ্রমিকনেতা আব্দুল করিম ও মোঃ বাপ্পি মিয়া, কুলাউড়া উপজেলার হোটেল শ্রমিকনেতা আবুল কালাম, নুরুল ইসলাম, বাহ্মণাজার অঞ্চলের প্রতিনিধি পবিত্র বিশ্বাস, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার প্রতিনিধি মোঃ শাহিন মিয়া, আব্দুল আহাদ, মোঃ জামাল মিয়া, রুহুল আমিন রোহিত, খোকন মিয়া প্রমূখ।

সভায় সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস ও রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ সোহেল মিয়া। সভায় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতির কারণে দেশের অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের মতই হোটেল ও রেস্তোরাঁ শ্রমিকরা এক দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে। খেয়ে না খেয়ে, অভাব-অনটন ও দু:খ-কষ্টে তাদের জীবন অতিবাহিত হচ্ছে। হোটেল মালিকরা প্রতিনিয়ত তাদের খাদ্য আইটেমের দাম বাড়ালেও শ্রমিকদেরকে নামেমাত্র মজুরি প্রদান করছেন।  চাল, ডাল, তেল, চিনি, শাক-সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতির পাশাপাশি বাড়িভাড়া, গাড়িভাড়া বৃদ্ধির কারণে জনজীবন দিশেহারা।

এমতবস্থায় দীর্ঘ ৮ বছরের বেশি সময় পর গত ৫ মে ২০২৫ হোটেল-রেস্তোরা শিল্প সেক্টরে সরকারের নিম্নতম মজুরি হার ঘোষণা করে যে গেজেট প্রকাশ করেন তা দিয়ে বর্তমান বাজারদরে ৬ সদস্যদের একটি পরিবারের ভরণপোষণের করা অসম্ভব। কিন্তু তারপরও সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি সর্বস্তরে কার্যকর করা হয়নি। শ্রম আইন অনুযায়ী যে মাসে গেজেট ঘোষণা হয় সেই মাস থেকেই ঘোষিত মজুরি কার্যকর করার কথা। অথচ ৮ মাসের বেশি অতিবাহিত হয়ে গেলেও হোটেল ও রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠানসমূহে ঘোষিত গেজেট বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। এছাড়া হোটেল-রেস্টুরেন্ট-সুইটমিট শ্রমিকদের শ্রমআইনের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত করা হয়।

হোটেল-রেস্টুরেন্ট-সুইটমিট শ্রমিকদের চাকুরির নিশ্চয়তা ও জীবনের নিরাপত্তা নেই। বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ৫ ধারায় নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র, ৬ ধারায় সার্ভিস বই, ২(১০) ধারায় চাকুরীচ্যূতি জনিত ৪ মাসের নোটিশ পে, প্রতিবছর চাকুরীর জন্য ১ মাসের গ্রাচ্যুয়েটি, ১০৩ ধারায় সপ্তাহে দেড়দিন সাপ্তাহিক ছুটি, ১০৮ ধারায় দৈনিক ৮ ঘন্টা সপ্তাহে ৪৮ ঘন্টা কাজ, অতিরিক্ত কাজের জন্য দ্বিগুণ মজুরি প্রদান, ১১৫ ধারায় বছরে ১০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি, ১১৬ ধারায় ১৪ দিন অসুস্থাতার ছুটি, ১১৭ ধারায় প্রতি ১৮ দিন কাজের জন্য ১ দিন অর্জিত ছুটি, ১১৮ ধারায় ১১ দিন উৎসব ছুটি প্রদানের আইন থাকলেও শ্রমিকদেরকে এই সকল আইনগত অধিকার হতে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একাধিক সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ হোটেল মালিক সমিতি বরাবর লিখিতভাবে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রমআইন বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। কিন্ত অদ্যাবধি হোটেল মালিকপক্ষ বা সরকারের পক্ষ থেকে নিম্নতম মজুরি ও শ্রমআইন বাস্তবায়নের কার্যকর কোন উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি।

এমতবস্থায় সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি এবং হোটেল সেক্টরে ৮ ঘন্টা কর্মদিবস, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র প্রদানসহ শ্রমআইন কার্যকর করার প্রেক্ষিতে শ্রমিকদের সামনে আন্দোলন সংগ্রামের বিকল্প নেই। ইতোমধ্যে হোটেল সেক্টরে সারাদেশে ক্রিয়াশীল সংগঠনসমূহের উদ্যোগে গত ২২ মে রাজধানীতে একসভায় মিলিত হয়ে ‘হোটেল রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি এবং শ্রমআইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে আগামী ১৪ জানুয়ারি’২৬ দেশব্যাপী কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় এই আহবানের প্রেক্ষিতে ১৪ জানুয়ারি কর্মবিরতি সফল করার লক্ষ্যে তারেশ চন্দ্র দাশকে আহবায়ক এবং হারুনুর রশিদ ভূইয়া ও আব্দুল করিমকে যুগ্ম-আহবায়ক করে ‘হোটেল রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি এবং শ্রমআইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ’ মৌলভীবাজার জেলা কমিটি গঠন এবং বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com