রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভা, নিত্যপণ্যের দাম কমানো ও রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি
স্টাফ রিপোর্টার : মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের ৩য় জেলা সম্মেলনোত্তর নবনির্বাচিত কমিটির সভা ৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের চৌমুহনাস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় নিত্যপণ্যের দাম কমানো, রিকশা শ্রমিকসহ শ্রমজীবীদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু, রিকশা শ্রমিকদের উপর জুলুম নির্যাতন বন্ধসহ বিভিন্ন দাবি জানানো হয়।
জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো: সোহেল মিয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো: দুলাল মিয়ায় পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস ও রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা মো: জামাল মিয়া। সভায় বক্তব্য রাখেন রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মো: গিয়াস মিয়া, সহ-সভাপতি স্বাধীন মিয়া, সহ-সভাপতি মো: জসিমউদ্দিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো: জমিমউদ্দিন আহমেদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক সাহেল আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ আব্দুুল হান্নান খোকন, হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তারেশ চন্দ্র দাশ প্রমূখ।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতির এই সময়ে বাজারদরের সাথে সংগতিপূর্ণ আয়ের অনিশ্চয়তা, দ্রব্য মূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতি, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, শিল্প কারখানা বন্ধ, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব সর্বোপরি জনজীবনের সমস্যা-সংকট বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ জনসাধারণের বেঁচে থাকাই দায় হয়ে পড়ছে। জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রেই লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি ঘটলেও শ্রমিক-কৃষক-জনগণের আয় বাড়েনি। উপরন্তু দরিদ্র জনগণ সহায় সম্বল বিক্রি করে, মহাজন ও এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক কিনে যখন আত্নকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন তখন সরকার কখনো যানজট, কখনো দূর্ঘটনার অজুহাত তুলে; কখনো বা বিদ্যুত অপচয়ের অজুহাতে এই বাহনগুলো উচ্ছেদের তৎপরতা চালায়। অথচ ব্যাটারিচালিত রিকশা বিক্রিতে প্রশাসনকে কখনও উচ্ছেদ চালাতে দেখা যায়নি। উপরন্ত বর্তমানে রিকশা শ্রমিকদের নিকট হতে প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন রকম জরিমানা আদায় করা হচ্ছে।
শ্রমিকদের জীবন ও জীবিকার কথা বিবেচনা না করে ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান উচ্ছেদ চরম অমানবিক। বর্তমানে দেশের সকল জেলা ও উপজেলা এমন কি রাজধানীতেও ব্যাটারি চালিত রিকশা চলাচল বেড়েছে, এমনকি পা-চালিত রিকশা দেশের অনেক জেলা থেকে উঠে গেছে। বাংলাদেশের শ্রমিক-কৃষক-জনতার দুঃখ-কষ্ট, সমস্যা-সংকট, শোষণ-লুন্ঠন, নিপীড়ন-নির্যাতনের কারণ হচ্ছে প্রচলিত নয়াউপনিবেশিক-আধাসামন্তবাদী আর্থসামাজিক ব্যবস্থা। তাই সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা-মুৎসুদ্দি পুঁজি বিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা ব্যতিত শ্রমিক-কৃষক-জনতার মুক্তি অর্জনের বিকল্প নেই।
সভায় এক প্রস্তাবে ৩ জানুয়ারি বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের মোড়ল মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় নয়াউপনিবেশক ভেনিজুয়েলার ওপর নগ্ন হামলা চালানোয় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ল্যাটিন আমেরিকাসহ বিশ্বব্যাপী আন্তঃ সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিশ্বের শ্রমিকশ্রেণি, নিপীড়িত জাতি ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ধারাবাহিকভাবে মাদক বিরোধী অভিযানের নামে ভেনিজুয়েলায় হামলা চালিয়ে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে আটক করেছে।একই সাথে দেশটির প্রায় ২০টি স্থানে হামলা চালিয়েছে। আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতায় সাম্রাজ্যবাদী চীন-রাশিয়ার দালাল নয়াউপনিবেশক ভেনিজুয়েলার সরকারকে হঠানোর নামে সে দেশের জনগণের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান নেতৃবৃন্দ। একই সাথে নেতৃবৃন্দ বিশ্বব্যাপী আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের বিরুদ্ধে দেশে দেশে শ্রমিক-কৃষক-জনগণের সংগ্রাম বেগবান করার আহ্বান জানান।



মন্তব্য করুন