১৫ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা মাওলানা আহমদ বিলালের
স্টাফ রিপোর্টার : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী প্রিন্সিপাল মাওলানা আহমদ বিলাল তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টায় মৌলভীবাজার শহরের রুমেল কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই ইশতেহার তুলে ধরেন।
ইশতেহার ঘোষণাকালে মাওলানা আহমদ বিলাল বলেন, মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর তাঁর গর্ব ও অহংকার। এই জনপদকে একটি পরিকল্পিত, উন্নত, পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি শহরকে যানজটমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও ডিজিটাল নগরীতে রূপান্তর করাই তাঁর লক্ষ্য।
ইশতেহারে তিনি প্রথমেই মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগরের প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন। বয়স্ক ও শিশু ভাতা নিশ্চিত করা, ভূমিহীন ও অসহায়দের পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা খাতে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, রাজনগর ডিগ্রি কলেজ, মৌলভীবাজার টাউন কামিল মাদরাসা ও রাজনগর দারুসসুন্নাহ ফাজিল মাদরাসার অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক সংকট নিরসন এবং অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে আসন সংখ্যা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি উলামায়ে কেরামের পরামর্শে কওমি মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন।
তিনি মৌলভীবাজার সদরে একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অথবা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি সংসদে জোরালোভাবে উত্থাপন ও বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে প্রবাসে গমনেচ্ছুক যুবকদের জন্য একটি আধুনিক ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন।
স্বাস্থ্য খাতে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নীত করার প্রক্রিয়া শুরু, গরিব রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত আইসিইউ বেড ও স্বল্পমূল্যে ডায়ালাইসিস সেবা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করেন তিনি। মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উন্নত ও নিরবিচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও করেন।
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কঠোর আইনি পদক্ষেপ এবং তরুণদের জন্য ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনার কথা ইশতেহারে তুলে ধরেন মাওলানা আহমদ বিলাল। পাশাপাশি জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমাল রক্ষা এবং সব মা-বোনের ইজ্জত রক্ষায় সর্বোচ্চ আইন প্রয়োগের অঙ্গীকার করেন।
শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি মাস্টার ড্রেনেজ সিস্টেম বাস্তবায়ন, পৌরসভার নাগরিক সেবা ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের আওতায় এনে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা এবং রাজনগর উপজেলাকে পৌরসভায় উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
যানজট নিরসনে কুসুমবাগ, চৌমুহনা ও বেড়ীরপার মোড়ে সমীক্ষা সাপেক্ষে ফ্লাইওভার অথবা বিকল্প বাইপাস সড়ক নির্মাণের কথা উল্লেখ করা হয়। শহরের বাইরে আধুনিক বাস ও ট্রাক টার্মিনাল স্থাপন এবং সিএনজি ও ইজি-বাইকের জন্য নির্দিষ্ট পার্কিং জোন তৈরির কথাও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের লক্ষ্যে সদর উপজেলায় দ্বিতীয় বিসিক শিল্প নগরী স্থাপন, শেরপুর ইকোনমিক জোনকে দ্রুত কর্মমুখর করা এবং একটি আধুনিক আইটি পার্ক বা হাই-টেক পার্ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। রাজনগরে বরফকল ও কৃষি, মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদভিত্তিক কোম্পানি চালুর পরিকল্পনাও তুলে ধরেন। নারীদের জন্য ঘরে ঘরে ক্ষুদ্র কুটির শিল্প গড়ে তোলার সহায়তা ও প্রশিক্ষণের কথাও বলেন।
গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে হাইল হাওর, কাউয়াদীঘি হাওর, কড়াইয়া হাওর এবং মনু ও ধলাই নদী তীরবর্তী মানুষের জানমাল রক্ষায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং জলমহাল প্রকৃত মৎস্যজীবীদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
চা শ্রমিকদের উন্নয়নে চা বাগান এলাকার স্কুলগুলোতে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, শ্রমিক সন্তানদের জন্য উচ্চশিক্ষায় বিশেষ বৃত্তি, চিকিৎসা সুবিধা ও সম্মানী ভাতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন মাওলানা আহমদ বিলাল।
পর্যটন ও সংস্কৃতি খাতে মৌলভীবাজারের পর্যটন স্পটগুলো পরিবেশবান্ধবভাবে সাজানো, বর্ষিজোড়া ইকোপার্ককে বিশ্বমানের করা, পাঁচগাঁও দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে রাজনগরের পর্যটন উন্নয়ন, পাঁচগাঁও গণকবর সংরক্ষণ ও সেখানে জাদুঘর নির্মাণের কথা উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি হাওরাঞ্চলে পর্যটন কেন্দ্র এবং মৌলভীবাজার ও রাজনগরে দুটি শিশুপার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
রাস্তাঘাট উন্নয়নে সদর উপজেলার ১২টি ও রাজনগরের ৮টি ইউনিয়নের সব কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ, সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক সড়কবাতি স্থাপন এবং গ্যাস সংকট নিরসনের অঙ্গীকার করেন তিনি। কুশিয়ারা নদীর ওপর রাজনগর-বালাগঞ্জ ব্রিজ, ধলাই নদীর ওপর কামারচাক ইউনিয়নে একটি ব্রিজ এবং মনু নদীর ওপর নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণের কথাও ইশতেহারে উল্লেখ রয়েছে।
ইশতেহারে আরও বলা হয়, বিগত কয়েক বছরে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণকারীদের বিশেষ সম্মান প্রদর্শন, নিহতদের পরিবার পুনর্বাসন, আহতদের চিকিৎসা ও ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি সরকারি অফিস-আদালতে ঘুষমুক্ত মানবসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ইশতেহারের শেষাংশে মাওলানা আহমদ বিলাল বলেন, তিনি মৌলভীবাজারের সন্তান এবং এই মাটির ঋণ শোধ করাই তাঁর দায়িত্ব। তাঁর লক্ষ্য ক্ষমতা নয়, সেবা। ভোট ও সমর্থন পেলে মৌলভীবাজার ও রাজনগরকে একটি আধুনিক, স্বনির্ভর ও নিরাপদ নগরীতে রূপান্তর করবেন—এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।



মন্তব্য করুন