কুলাউড়ায় ফুটবল নিয়ে চমক দেখাতে চান সাবেক এমপি নওয়াব আলী আব্বাস

February 4, 2026,

স্টাফ রিপোর্টার : ভোটের সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। প্রতিদিনই গ্রামে-গঞ্জের চায়ের দোকানে চলছে প্রার্থীদের প্রতীক নিয়ে আলোচনা। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনের নির্বাচনী মাঠে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে জনপ্রিয় প্রতীক ফুটবল। এই ফুটবল প্রতীক নিয়েই বিজয়ের ‘গোল’ করে চমক দেখাতে চান সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য নওয়াব আলী আব্বাস খান।

এরআগে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন এম এম শাহীন। তিনি প্রায় ৭৬ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে তৎকালীন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদকে পরাজিত করে দেশব্যাপী আলোচনায় আসেন। সেই সময় ফুটবল প্রতীক কুলাউড়াসহ সারাদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে ফুটবল প্রতীক নিয়ে আবারও প্রতিদ্বন্ধিতা করেন সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন। যদিও তিনি পরাজিত হন, তবুও প্রায় ৬৪ হাজার ৯৪২ ভোট পেয়ে ফুটবল প্রতীকের জনপ্রিয়তা ধরে রাখেন। সেই সময় থেকেই কুলাউড়ায় ফুটবল প্রতীক একটি আলাদা ‘ক্রেজে’ পরিণত হয়।

দীর্ঘ ১৮ বছর পর আবারও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুলাউড়ার ভোটাররা ফুটবল প্রতীক ফিরে পেয়েছেন। তবে এবার ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন একসময়ের জনপ্রিয় নেতা ও তিন বারের সাবেক এমপি নওয়াব আলী আব্বাস খান।

উল্লেখ্য, ১৯৮৮, ১৯৯১ ও ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নওয়াব আলী আব্বাছ খান। তিনি জাতীয় পার্টির একজন ভ্যানগার্ড নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর ২০১৪ সালে এরশাদের জাতীয় পার্টি ত্যাগ করে কাজী জাফরের জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। এরপর আর নির্বাচনে অংশ নেননি। এবার বিএনপি জোটের মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়ে ফুটবল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বর্ষিয়ান এ রাজনীতিবিদ। ফুটবল প্রতীকের জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী মাঠে বড় চমক দেখানোর প্রত্যাশা তাঁর।

নওয়াব আলী আব্বাস খান বলেন, ‘কুলাউড়ার মানুষের কাছে জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি পরীক্ষিত। তিনবার সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সংসদে ও এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছি। সেই পুরোনো অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই। এটাই আমার জীবনের শেষ নির্বাচন।’

নওয়াব আলী আব্বাস খানের সমর্থক শাহজাহান চৌধুরী জানান, আওয়ামী লীগের একটি অংশের ভোট, চা শ্রমিকদের ভোট, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভোট, নিজস্ব সমর্থক গোষ্ঠী এবং ফুটবল প্রতীকের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তিনি এবারের সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হবেন বলে তারা আশাবাদী।

ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এডভোকেট নওয়াব আলী আব্বাস খান বলেন, কুলাউড়ার মানুষের কাছে আমি একজন পরীক্ষিত জনপ্রতিনিধি। তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংসদে ও এলাকায় উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছি। সেই অভিজ্ঞতা আবারও কাজে লাগাতে চাই। এটি আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। আমি বিজয়ী হলে কুলাউড়াকে শান্তির জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবো। উপজেলার প্রতিটি চা-বাগানের শ্রমিকসহ ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর লোকদের সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে ছিলাম। আশা করছি তারা এবার আমাকে পুনরায় মূল্যায়িত করবে। তিনি আরো বলেন, এমপি নির্বাচিত হলে কুলাউড়ার প্রধান সমস্যা শহরের যানজট নিরসন, পর্যটনের বিকাশ সাধনে হাকালুকি হাওরসহ সকল পর্যটন স্থানের উন্নয়ন, কৃষির উন্নয়নসহ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি সকল দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করবো।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com