ধানের শীষে ভোট দিলে চা শ্রমিকদের মজুরি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হবে-নাসের রহমান

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি ক্ষমতায় গেলে চা বাগানে বসবাসরত শ্রমিক পরিবারের নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু এবং চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ২৪৫ টাকায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মৌলভীবাজার-৩ (রাজনগর-মৌলভীবাজার) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এম নাসের রহমান।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির এ সদস্য নাসের রহমান আরও বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে চা বাগানে বসবাসরত শ্রমিক পরিবারের নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতিমাসে নারী শ্রমিকরা চাল, ডাল, লবণ, তেলসহ আনুষঙ্গিক ভোগ্যপণ্য বিনামূল্যে পাবেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজনগর চা বাগানের নাচ মন্দিরে আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিপুল সংখ্যক নারী ও পুরুষ চা শ্রমিক অংশ নেন।
এর আগে গত ২২ জানুয়ারি মৌলভীবাজারের আইনপুর মাঠে বিএনপির নির্বাচনী বৃহত্তম জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান চা শ্রমিকদের জন্যও বিশেষ কর্মসূচির আওতায় আনার ঘোষণা দেন।
মি: রহমান বলেন, ওই সভায় তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অনুরোধ করার পর চা শ্রমিক পরিবারের নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নাসের রহমান বলেন, চা বাগানের শ্রমিক ভাই-বোনেরা যদি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেন, তাহলে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ২৪৫ টাকায় উন্নীত করার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং ভূমির অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, একসময় চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ছিল মাত্র ৩৫ টাকা। মরহুম সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান এবং মরহুম সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে সেই মজুরি ১২০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছিল। অথচ নৌকার সরকার শেখ হাসিনার সাড়ে পনেরো বছরের শাসনামলে মাত্র ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে, তাও সারাদেশে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে।
চা শ্রমিকদের উদ্দেশে এম নাসের রহমান বলেন, ‘আপনারা যাদেরকে দীর্ঘদিন ভোট দিয়েছেন, তারা আপনাদের যথাযথ মূল্যায়ন করেনি। কারণ তারা জানত, চা বাগানের ভোট এমনিতেই পাবে। ওরা কিছু দিক বা না দিক, তাতে তাদের কিছু যায় আসে না। এখন কিছু না করেও যদি ভোট পায়, তাহলে তো কিছুই দেবে না—এটাই স্বাভাবিক।’
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময় চা শ্রমিকদের জন্য কাজ করেছে। আপনারা যদি আগে আরও বেশি করে ধানের শীষকে মূল্যায়ন করতেন, তাহলে আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা পেতেন। এখন আপনারা ধানের শীষে ভোট দেবেন শুনে ভালো লাগছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকল চা বাগানের মা-বোনেরা সকলে মিলেমিশে সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবেন। নাসের রহমান বলেন, চা শ্রমিকদের নিয়ে তাঁর একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি সংসদে গেলে চা শ্রমিকদের মজুরি ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে একটি বিল আকারে সংসদে উত্থাপনের চেষ্টা করবেন। একই সঙ্গে একজন চা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ২৪৫ টাকায় উন্নীত করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবেন।
উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মহরম আলীর সভাপতিত্বে এবং চা শ্রমিক নয়ন সিংহের পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন এম নাসের রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা মাহিবা রহমান, রাজনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল ইসলাম শেলুন, চা শ্রমিক নেত্রী গীতা কানু, বর্তমান মেম্বার বাবুল মাদ্রাজি পাশী, মন্টু নুনিয়া ও দুলো অলমিক। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বকসী মিসবাউর রহমান, মো. হেলু মিয়া, আশারাফুজ্জামান খান নাহাজ, রাজনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলী মাস্টারসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।



মন্তব্য করুন