
চৌধুরী ভাস্কর হোম : শ্রীমঙ্গল উপজেলার রূপসপুর আবাসিক এলাকায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে তিন দিনব্যাপী হনুমান জয়ন্তী উৎসব। স্থানীয় সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন ‘রামদূত সংঘ’ এর উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসব ভক্তদের ব্যাপক অংশগ্রহণে পরিণত হয়েছে ভক্তি, শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিকতার এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
১ এপ্রিল বুধবার বিকেল ৫টায় প্রতিমা স্থাপনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। প্রতিমা স্থাপনের পর থেকেই মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের ঢল নামে, আর চারপাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ভক্তিময় আবহ। পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় পূজা-অর্চনা, যেখানে দূর-দূরান্ত থেকে আগত ভক্তরা অংশ নেন প্রার্থনা ও আরাধনায়।
সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হয় অঞ্জলি প্রদান, যা ভক্তদের অংশগ্রহণে হয়ে ওঠে এক আবেগঘন আচার। অঞ্জলি শেষে দুপুর ১টায় ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। এতে বিপুল সংখ্যক ভক্ত-অনুসারীর উপস্থিতি উৎসবের প্রাণচাঞ্চল্য আরও বাড়িয়ে তোলে।
উৎসবের দ্বিতীয় দিনের সন্ধ্যায় বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ কামনায় সন্ধ্যা ৬টায় প্রদীপ প্রজ্বলন করা হবে। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে সন্ধ্যা আরতি। আধ্যাত্মিক এই পরিবেশনার পর রাত সাড়ে ৭টায় নৃত্যানুষ্ঠান এবং রাত সাড়ে ৮টায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করবে স্থানীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বর্ণমালা সঙ্গীত বিদ্যালয় এর শিল্পীরা।
আয়োজকরা জানান, তিন দিনব্যাপী এই উৎসবে রয়েছে ভক্তিমূলক বন্দনা, পূজা-অর্চনা, আরতি, ধর্মীয় আলোচনা এবং নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এসব আয়োজনের মাধ্যমে ভক্তদের মাঝে ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।
রামদূত সংঘের পক্ষ থেকে আয়োজক কমিটির সদস্য প্রীতম পাল জয় ও বাপ্পি রায় বলেন, বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ কামনায় আমরা এই উৎসবের আয়োজন করেছি। হনুমান জয়ন্তী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। এ উপলক্ষে আমরা ভক্তদের একত্রিত করে ভক্তি ও আধ্যাত্মিকতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরাও আমাদের অন্যতম উদ্দেশ্য।
তারা আরও জানান, শুক্রবার সকালে সমাপনী পূজা ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে এই তিন দিনব্যাপী উৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটবে। ইতোমধ্যেই উৎসবকে ঘিরে এলাকাজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, আর শেষ দিনেও ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
শ্রীমঙ্গলের এই আয়োজন যেন শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং সম্প্রীতি, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.