ডাকাতের গু/লি/তে ডা/কাত গু/লি/বিদ্ধ, ২১ রাউন্ড গু/লি ও পাইপগানসহ ডা/কা/ত আ/ট/ক

স্টাফ রিপোর্টার : মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রামবাসীর ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ডাকাতের ছোড়া গুলিতে আরেক ডাকাত গুলিবিদ্ধ হওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার ১৩ এপ্রিল রাতে সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের বাউরভাগ গ্রামের মাজপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় গ্রামবাসীর হাতে ধরা পড়া ওই ডাকাত এর কাছ থেকে দেশীয় তৈরি পাইপগান ও ২১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশ অস্ত্র সহ আটক ডাকাত দলের সদস্য’র নাম সৈয়দ শামসুর রহমান ওরফে আতিক। তাঁর গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বর্ষিজোড়া এলাকায় হলেও পুলিশ জানিয়েছে তাঁর বর্তমান অবস্থান হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলায়। তাঁর বিরুদ্ধে ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে আরও ৩ টি মামলা রয়েছে।
তবে পালিয়ে যাওয়া অন্যান্য ডাকাত দলের সদস্যদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশের এক কর্মকর্তা।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে বৃষ্টি আর বৈশাখী ঝড়ের আভাস পেয়ে বাউরভাগ গ্রামের লোকজন মাছ ধরতে অন্ধকার ভেদ করে টচ লাইটের আলোয় ছুটোছুটি করছিল।
হটাৎ সাজ্জাদ মিয়া নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি দেখতে পান কবরস্থানের পাশে অন্ধকারের মধ্যে ৪ থেকে ৫ জন দাঁড়িয়ে আছে। তাদের কাছে গিয়ে দেখতে পান সবাই অচেনা। সাথে সাথে সেখান থেকে সরে গিয়ে সড়কের পাশের দোকানে থাকা লোকজনকে বিষয়টি জানালে সেখান থেকে কয়েকজন ছুটে গিয়ে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে দৌড়ে পালাতে থাকে তারা।
এ সময় আরও অনেকে জড়ো হয় সেখানে। পরে জড়ো হওয়া লোকজনের ডাকাত ডাকাত চিৎকারে বাড়তে থাকে লোকজনের সংখ্যা। এর পর ৫ জনের দল দৌড়ে পালিয়ে যাওয়া সময় তাদের একজনকে গ্রামবাসী কাদামাটির মধ্যে ধরে ফেলে গণপিটুনি দেয়। এ সময় ডাকাত দলের সদস্যরা গ্রামবাসীকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি ছুড়তে থাকে। তবে ওই গুলি লক্ষভ্রষ্ট হয়ে গিয়ে পড়ে গ্রামবাসীর হাতে আটক ডাকাতের শরীরে।
পরবর্তীতে গ্রামে ডাকাত প্রবেশ করেছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রাম থেকেও জড়ো হয় আরও হাজারো জনতা। এ ঘটনায় গোটা এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ডাকাত আতঙ্ক।
খবর পেয়ে শেরপুর ফাঁড়ি পুলিশ ও মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্রামবাসীর হাতে আটক ওই ডাকাতকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করে প্রথমে নিয়ে আসেন মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে। পরবর্তীতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুলিশ প্রহরায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা গাজী আবেদ জানান, সোমবার রাতে ডাকাতির পূর্ব প্রস্তুতির সময় সাজ্জাদ মিয়া নামে আমাদের এলাকার এক ব্যবসায়ী অচেনা কয়েকজনকে দেখতে পেয়ে আশপাশের লোকজনকে জানালে সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা দৌড়ে পালাতে থাকে। এসময় তাদের একজনকে ধরে ফেলে লোকজন। অন্যরা দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় গুলি ছুড়তে শুরু করে। তবে সবগুলো গুলিই লাগে আটক ব্যক্তির শরীরে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খয়ের জানান, পালিয়ে যাওয়া ডাকাত দলের সদস্যদের পরিচয় পাওয়ার চেষ্টা চলছে। তাদেরকে ধরতে পুলিশের অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।



মন্তব্য করুন