
আব্দুর রব : বড়লেখায় কয়েক দিনের টানা বর্ষণ, ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। কালবৈশাখি ঝড়ে উপজেলার ১০ ইউনিয়নের শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পাহাড়-টিলার পাদদেশে নিম্নভূমিতে ঝুঁিকপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার। বন্যা ও পাহাড়-টিলা ধ্বসে আক্রান্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের জন্য উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত করেছে ২৩টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র।
জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে পরপর কালবৈশাখি ঝড়, ভারি বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। বিভিন্ন জায়গায় দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। কালবৈশাখি ঝড়ে উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটিতে গাছপালা উপড়ে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চালা উড়ে গেছে ও বিদ্যুৎ লাইন লন্ডভন্ড এবং অসংখ্য বৈদ্যুতিক খুটি পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। তিনটি আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি জরুরি সভা করে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপসহ তৎপর থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেওয়ায় মঙ্গলবার ২৩টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- বর্নি ইউনিয়নের পাকশাইল উচ্চ বিদ্যালয়, ফকিরবাজার উচ্চ বিদ্যালয়, বর্নি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দাসেরবাজার ইউনিয়নের দাসেরবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়, নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়নের ইটাউরী মহিলা আলিম মাদ্রাসা,পরগোনাহী দৌলতপুর মাদ্রাসা, কবিরা হাজী মোহাম্মদ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তালিমপুর ইউনিয়নের খুটাউরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয়, হাল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টেকাহালী উচ্চ বিদ্যালয়, সুজানগর ইউনিয়নের ছিদ্দেক আলী উচ্চ বিদ্যালয়, আজিমগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নে গাংকুল পঞ্চগ্রাম আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও রাঙাউটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব আলম মাহবুব জানান, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতে বড়লেখায় বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাচ্ছে পানি। বন্যা কবলিত লোকজনকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ২৩টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া কাল বৈশাখি ঝড়ে উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করে আক্রান্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করে বুধবার জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.