
স্টাফ রিপোর্টার : উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হলে কিছুটা খুশির ঝিলিক কৃষকদের মনে জাগে। আজ শক্রবার দুপুরের পর থেকে আবারো বৃষ্টি নামাতে শুরু করলে কৃষকদের মধ্যে বেড়ে যায় দুশ্চিন্তা । অনেকেই জমির পাশে গিয়ে দেখছেন তার ডুবন্ত ফসল বেসে উঠছে কিনা। এমন চিত্র হাওড়া এলাকায় গেলে দেখা যায়। মৌলভীবাজার জেলার সবকটি নদীর পানি গত দুদিন থেকে কমতে শুরু করেছে। আজকের বৃষ্টির কারণে আবারো হাকালুকি হাওর এবং মনু প্রকল্পের ভেতর কাউয়াদিঘি হাওরে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাছেই কাঞ্জার হাওর ও অন্যান্য ছোট হাওয়ারে বোরোধন চার দিন থেকে তলিয়ে রয়েছে। এসব ধান পানির নিচে পচে নষ্ট হচ্ছে। যারা ধান কেটে স্থুপদিয়ে রেখেছেন সেগুলো সূর্যের আলো না থাকায় অংকুর চলে আসছে। চোখের সামনে বোরো ধানের ক্ষতি দেখে কৃষকরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
হাওর এলাকায় রয়েছে শ্রমিক সংকট। জমিতে পানি অতিরিক্ত থাকায় কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়ে ধান কর্তন করা যাচ্ছেনা। পেলেও শ্রমিকরাও অতিরিক্ত পানিতে নেমে ধান কর্তন করতে চাননা।
মনু প্রকল্পের ভেতর কাউয়াদিঘি হাওরে বোরো ধান তলিয়ে পঁচে যাচ্ছে। প্রকল্পের পাম্প সচল না রাখার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে । হাকালুকি হাওরেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
মৌলভীবাজারের ৫টি উপজেলা মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর, কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলায় হাওরের ধান সময় যতই যাচ্ছে ততই ক্ষতির পরিমান বাড়ছে।
বাংলাদেশ পানিউন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলিদ বলেন, প্রকল্পের ভেতর কাউয়াদীঘির হাওরে বৃষ্টিপাতের কারণে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এপ্রিল মাসের ২৭ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত এই তিন দিনে বৃষ্টি হইছে ২৬৬ মিলিমিটার। পূরো এপ্রিল মাসে গড়ে ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা। সে জায়গায় তিন দিনে বৃষ্টি হয়েছে ২৬৬ মিলিমিটার মৌলভীবাজারে। পানি নিষ্কাশন পাম্প তো ওভাবে ডিজাইন করা। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে নিষ্কাশন কোন সমস্য হতোনা। এক সঙ্গে বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে সমস্যা হয়েছে। যদি বৃষ্টি কম হয়, তাহলে চার-পাঁচ দিনের মধ্যে পানি কমানো সম্ভব হবে। এখন যতটুকু নিষ্কাশন হচ্ছে তার চেয়ে বেশি পানি আবার চলে আসতেছে বৃষ্টির কারণে।
তিনি আরও বলেন, ঝড়ের সময় দুইদিন বিদ্যুৎ ছিল না। ৮টি পাম্প চালাতে ৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। তবে আড়াই মেঘাওয়াট লোড পাচ্ছি। এ কারণে ৮টি পাম্প এর মধ্যে ৬টি চালাতে হয় ।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ জালাল উদ্দিন জানান, ৬২,৪০০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। ক্ষয়-ক্ষতি নিরুপনে জেলার ৭টি উপজেলার কৃষি আফিসাররা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.