
স্টাফ রিপোর্টার : রংপুরে নিরিহ হোটেলের শ্রমিক শাওনকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে ও খুনী হোটেল মালিক মিজানুর রহমান মনুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এবং মোৗলভীবাজারের কুসুমবাগ এলাকার একটি হোটেলের মালিক মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকের সাথে অসদাচারণ করার মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
২০ জুন শনিবার সন্ধ্যায় শহরের চৌমুহনাস্থ কার্যালয়ে অনুষ্টিত প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তারেশ চন্দ্র দাশ। সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস ও মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো: সোহেল আহমেদ। সভায় বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো: শাহিন মিয়া, হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মো: শাহিন আহমদে ও জামাল মিয়া, শ্রমিক নেতা আলমগীর হোসেন, রুহুল আমিন প্রমূখ।
সভায় বক্তারা বলেন গত ১৬ জুন মঙ্গলবার রাত ৯ টার দিকে রংপুর মহানগরীর খামারের মোড় এলাকার আমিরের হোটেলে তুচ্ছ ঘটনাকে কর্মরত হোটেল শ্রমিক শাওনকে হোটেল মালিক মিজানুর রহমান মনু হাতুড়ি দিয়ে নৃশংসভাবে মাথায় আঘাত হত্যা করে। এই ঘটনায় শ্রমিক জনতা হত্যাকারী হোটল মালিককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। নেতৃবৃন্দ শ্রমিক শাওনের খুনীর দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানিয়ে বলেন এই ঘটনার মধ্যে আবারও হোটেল শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি সামনে আসে।
এর আগেও মৌলভীবাজারে খানদানি রেস্টুরেন্টের শিশু শ্রমিক তানিম, সিলেট মহানগরীরর কাজিরবাজার এলাকার শাপলা রেস্টেুরেন্টের শ্রমিক দিনার আহমেদ রুমন ও ঢাকার ঘরোয়া হোটেলের কিশোর শ্রমিক রিয়াদকে হত্যা করা হলেও দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করায় একের পর এক শ্রমিককে নির্মমভাবে খুন হতে হচ্ছে। হোটেল শাওন হত্যার দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সারাদেশের হোটেল শ্রমিকরা ফুঁসে উঠেছেন। রংপুরে হোটেল শ্রমিক বিক্ষোভ করেছেন, আগামীতে সারাদেশে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। নেতৃবৃন্দ বলেন শ্রমিকরা নিতান্ত জীবিকার তাগিদে কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেও যেমন পায় না ন্যায্য মজুরি তেমনি জীবনের নিরাপত্তা থাকে না। এমন কি শ্রমিকরা শ্রমআইন অনুযায়ী প্রাপ্য সুযোগটুকুও পায় না। হোটেল-রেস্টুরেন্ট-সুইটমিট শ্রমিকরা যে মজুরি পান তা দিয়ে বর্তমান ঊর্দ্ধগতির বাজারদরে পরিবার-পরিজন নিয়ে একজন শ্রমিক ১০ দিনও চলতে পারেন না। জ্বালানিতেল, বিদ্যুতসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতির পাশাপাশি বাড়িভাড়া, গাড়িভাড়া বৃদ্ধির কারণে জনজীবন দিশেহারা। এমতবস্থায় গত ৫ মে ২০২৫ হোটেল-রেস্টুরেন্ট শিল্প সেক্টরে সরকারের নিম্নতম মজুরি হার ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেন। ঘোষিত নিম্নতম মজুরি বর্তমান বাজারদর এবং ৬ সদস্যদের একটি পরিবারের ভরণপোষণের প্রেক্ষিতে শ্রমিকদের দাবি থেকে অনেক কম। কিন্তু তারপরও সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি সর্বস্তরে বাস্তবায়ন করা হয়নি। অথচ হোটেল মালিকপক্ষ সরকারী আইনের তোয়াক্কা না করলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে নির্বিকার। শ্রমআইনে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ ও বাসস্থানের বিধান থাকলেও শ্রমিকদের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতে ও থাকতে বাধ্য করা হয়। শ্রমিকদের আইনগত অধিকার বাস্তবায়নে হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা ভূমিকা রাখার কারণে প্রায়শঃই হোটেল মালিকদের রোষানলে পড়তে হচ্ছে ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দকে। গত ১৩ জুন রাতে মৌলভীবাজার শহরের কুসুমবাগ এলাকায় একটি হোটেলে সাংগঠনিক কাজে গেলে উক্ত হোটেলের মালিক মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহিন মিয়ার সাথে অসদাচরণ করেন। বাংলাদেশ শ্রমআইন আইন ১৯৫ ধারা মোতাবেক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দকে সাংগঠনিক কাজে বাঁধা প্রদান মালিকের পক্ষে অসদাচরণ এবং ২৯১ ধারাতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে উল্লেখ করা আছে। নেতৃবৃন্দ মালিকের এহেন আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং শ্রমদপ্তরকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানান।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.