
কমলগঞ্জ প্রতিনিধি : কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের মানগাঁও গ্রামের এক প্রবাসীর পৈত্রিক জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছে একই এলাকার প্রতিপক্ষ। ভুক্তভোগী প্রবাসী পরিবারের লোকজন আইনের দারস্থ হয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন। ফলে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন প্রবাসী আবু মিয়া ও আজিজুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা।
ভূক্তভোগীর অভিযোগে সরেজমিনে জানা যায়, জমির এক অংশে ধানের চারা তৈরী করা হয়েছে। অপর অংশে একটি পাকা ঘর রয়েছে। মূলত এই ঘরটি বাধা অপেক্ষা করে রাতারাতি নিমার্ণ করেছেন প্রতিপক্ষ ও পাশের বাড়ির হবিব উল্যার ছেলে মখলিছ মিয়া ও তার সহযোগীরা। জমির অবশিষ্ট অংশে চাষাবাদ করেছেন প্রবাসী পরিবারের লোকজন। পুরো জমির চার পাশে সীমানা পিলার থাকার পরও নিজের পৈত্রিক জমি দাবি করে কৃষিক্ষেত করতে আপত্তি জানিয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছে। তবে থানা পুলিশ এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছে।
প্রবাসী আবু মিয়া ও আজিজুর রহমান জানান, জীবিকার তাগিদে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে প্রবাসে দুবাই ও কাতারে চাকুরি করছি। আমাদের বাড়ির এক বড় ভাই ছাড়া আর কোন পুরুষ মানুষ নেই। আমরা প্রবাসে থাকা অবস্থায় আমাদের নিজস্ব ও ভোগদখলকৃত চাষাবাদী জমিতে প্রতিপক্ষ ও নিকট আত্মীয় মখলিছ মিয়া, আমরু মিয়া, আখলিছ মিয়া, আসিক মিয়া এবং আমরু মিয়ার ছেলে মুমিন মিয়া, ফরিদ মিয়া জোরপূর্বক কলাগাছসহ গাছগাছালি কেটে জমি দখল করার চেষ্টা করছে। আমরা বৈধ মালিক হয়েও কোন আইনি প্রতিকার পাচ্ছি না। আমাদের আওয়ামীলীগ পরিবার বলেও বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে আমাদের সব জমিই দখলে নিতে চাইছে এবং নানা ধরনের হুমকি ধামকি দিচ্ছে। আমরা ছেলে মেয়েদের নিয়ে খুবই আতঙ্কে আছি। প্রতিপক্ষের হাত খেকে আমাদের জমি যেন সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে রক্ষা করেন এমনটাই তারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।
তবে অভিযুক্ত ও ঘর নিমার্ণকারী আমরু মিয়া জানান, ‘আমরা এই জায়গায় পৈত্রিক সূত্রে মালিক। আমাদের জায়গাতেই ঘর নিমার্ণ করেছি। এখন প্রতিপক্ষ রইছ মিয়ার ছেলে রাকিব মিয়া ও তাদের সহযোগিরা এ জমি তাদের বলে দাবি করায় গ্রামের পঞ্চায়েত ও থানা পুলিশের মাধ্যমে সমাধা করেই আমি ঘর নির্মাণ করছি।’
গ্রামের প্রবীণ মুরব্বী তৈমুছ আলী জানান, এই জমি পৈত্রিক সূত্রে মূল মালিক প্রবাসী রকিব মিয়াসহ তিন ভাই। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রতিপক্ষ মখলিছ মিয়াদের সাথে সালিশ বৈঠকে সামাধানের পর পঞ্চায়েতনামা করা হয়। আমরু মিয়া যে জমিতে ঘর বানিয়েছেন সেই জমি প্রবাসীদের সাথে বিনিময় করা হয়েছে। পরে দলিল করে দিবেন বলে বিনিময় কাগজ রয়েছে। তারপরও আমরু ও মখলিছ মিয়া প্রবাসীদের কৃষিজমিতে তারা দাবি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে জমিতে ক্ষেত করতে আপত্তি জানিয়েছে। এই জমি আমাদের জানামতে রইছ মিয়ার ছেলেদের পৈত্রিক সম্পত্তি। বিষয়টি গ্রামের সবাই অবগত।
এব্যাপারে শরীফপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুন মিয়া জানান, এ জমি নিয়ে অনেকবার বিচার বৈঠক হয়েছে। বর্তমানে মখলিছ মিয়ারা থানায় অভিযোগ করছেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুই পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে। যাদের জমির কাগজপত্র ঠিক থাকবে সেভাবেই সমাধান করা হবে। জমির ডকুমেন্টস এর ভিত্তিতেই সমাধা হবে।
কুলাউড়া থানার এএসআই আব্দুল খালেক জানান, এই বিষয়ে মখলিছ মিয়াদের একটি অভিযোগ রয়েছে। এজন্য আইন শৃঙ্খল্ াবজায় রাখতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। উভয়পক্ষকে থানায় ডেকে এনে বলা হয়েছে স্থানীয় মায় মুরব্বী ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে এলাকায় বসে সমাধা করার জন্য।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.