
স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডের যে বিচার, ওই বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের সদিচ্ছা আমরা দেখি নাই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যখন প্রথম দেশে এসেছেন, উনি বলেছিলেন এ বিষয়ে বিচার করবেন, তারপর ওনার কবর জিয়ারত করেছেন, কিন্তু সেটা একটা লোক দেখানো কাজ ছিল। যদি এটা সত্যিকারেরই হতো তাহলে এই বিচার প্রক্রিয়া আমরা বুঝে পেতাম। রামিসার ধর্ষণের হত্যাকাণ্ডের অলরেডি হলেও বিচার হয়েছে এবং আসামিও গ্রেপ্তার আছে। কিন্তু ওসমান হাদীর এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে সরকার নয় ছয় করছে এবং সরকার এখানে প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে। সরকারের সদিচ্ছা নাই। বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে যখন আবার রাজপথে নামবে তখন বলবে মফ করো কেন? আমরা জনগণ মাঠে নামার আগে ওসমান হাদী ভাইয়ের যিনি আজাদির অন্যতম পুরুষ ছিলেন আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ওনার বিচার বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানাচ্ছি। না হলে বাংলাদেশের রাজপথ আবার প্রকম্পিত হবে। তখন হয়তোবা এটা সরকার পতনের দিকেও যেতে পারে।
মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ভারতীয় হাই কমিশনারের উদ্দেশ্যে ভিসা চালুর পাশাপাশি পুশ-ইন ও সীমান্ত হত্যা পুরোপুরি বন্ধ করে প্রকৃত বন্ধুত্বের মর্যাদা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভারতের একজন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ১০ হাজার মানুষকে পুশ-ইন করা হয়েছে। এই পুশ-ইনের বিষয়টি যদি সত্য হয়, তবে সরকারের ভূমিকা কী তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং সরকারের কাছে জবাবদিহিতা দাবি করা হয়েছে। আর যদি এটি সত্য না হয়, তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য বা স্টেটমেন্ট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন যে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের সম্মান ধরে রাখার মতো কোনো শক্ত পদক্ষেপ বা স্টেটমেন্ট দিচ্ছেন না। এই পুশ-ইন বন্ধের জন্য নাকি ১৩ বার চিঠি দেওয়া হয়েছে। এটিকে তিনি “লজ্জাজনক” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন যে, চিঠি দিয়ে কাজ না হলে হাই কমিশনারকে তলব করাসহ আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল।
আজকে সীমান্তে নিহত মুজিবুরের বাড়িতে আসছি। যার দুটি সন্তান রয়েছে এবং অপর একটি সন্তান এখনো ভূমিষ্ঠ হয়নি। পরিবারের অসহায়ত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থতার কারণেই এই সীমান্ত হত্যা ও পরিবারগুলোর ক্ষতি হচ্ছে। তাই সীমান্ত হত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দায়িত্ব নেওয়া এবং সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি দাবি জানান।
তারা শুক্রবার ২৬ জুন বিকেল ৫টায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সীমান্তে সম্প্রতি বিএসএফ-এর গুলিতে নিহত মুজিবুর রহমান এর বাড়িতে যান ও পরিবারের সাথে কথা বলেন। এর আগে তারা দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নিহতের কবর জিয়ারত করেন ও পরিবারের সদস্যদের শান্তনা দেন।
পরে সীমান্তের চাতলাপুর ব্রিজ এলাকায় আয়োজিত পথসভায় তারা বক্তব্য রাখেন। এসময় কেন্দ্রীয় যুগ্ন সদস্য সচিব প্রিতম দাসসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য গত ১২ জুন কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে নিহত হন দত্তগ্রাম এলাকার বাসিন্দা মুজিবুর রহমান ঘটনাস্থলে নিহত হন।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.