
স্টাফ রিপোর্টার : সাম্য, মানবিকতা ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনদর্শন বর্তমান সময়ে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেছেন মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমান। তিনি জাতীয় কবির সাহিত্য, সংগীত, মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
রোববার ৫ জুলাই বিকেলে মৌলভীবাজার পৌর মুক্তমঞ্চে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘নজরুল বর্ষ (২০২৬-২০২৭)’-এর শুভ উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এম নাসের রহমান আরও বলেন, “নজরুলের চেতনার কোনো মৃত্যু নেই। অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে তাঁর দর্শন আজ অত্যন্ত জরুরি। কাজী নজরুল ইসলাম কেবল বাংলা সাহিত্যের কবি নন, তিনি সাম্য, দ্রোহ, প্রেম, মানবতা ও সম্প্রীতির এক অবিসংবাদিত কণ্ঠস্বর। যুগে যুগে তাঁর সাহিত্য ও সংগীত মানুষকে অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শক্তি জুগিয়েছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নজরুলের সৃষ্টি শুধু সাহিত্যিক সৌন্দর্যের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়, মানবমুক্তি, সামাজিক ন্যায়বিচার ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনে তা চিরকাল প্রাসঙ্গিক। তরুণ প্রজন্মকে এই মহান আদর্শের সঙ্গে পরিচিত করতে ‘নজরুল বর্ষ’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সুস্থ সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমেই একটি সহনশীল, মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
বক্তব্যের একপর্যায়ে জাতীয় কবির জীবনের একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭৬ সালে ভারত সরকারের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে কবিকে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে আসার কিছুদিন পরই কবি পরলোকগমন করেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক আকর্ষণ ছিল।
মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খায়েরসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাহিত্যিক, শিক্ষক ও সুধীজন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষ্যে বছরজুড়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, সাহিত্য পাঠ, সংগীতানুষ্ঠান, কর্মশালা, আবৃত্তি, রচনা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সুশীল সমাজের সমন্বয়ে কবির সাহিত্য ও দর্শন তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হবে।
আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনায় নজরুলসংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। কবির দেশাত্মবোধ, সাম্য, প্রেম ও মানবতার বাণীতে সমৃদ্ধ এই পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানস্থলে বিভিন্ন বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি নজরুলচর্চার প্রতি সর্বস্তরের মানুষের গভীর অনুরাগেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতা সর্বকালের জন্য প্রেরণার উৎস। তাঁর মানবিক দর্শনের চর্চা যত বিস্তৃত হবে, সমাজে অসাম্প্রদায়িকতা, সম্প্রীতি ও ন্যায়বিচারের ভিত্তি ততই সুদৃঢ় হবে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ‘নজরুল বর্ষ (২০২৬-২০২৭)’ উদযাপনকে একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকেরা।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.