
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি : শ্রীমঙ্গলে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘শিক্ষাগুরু চক্ষু শিবির’ ও ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষকদের সম্মাননা অনুষ্ঠান। কানাডাপ্রবাসী প্রাক্তন ভিক্টোরিয়ানদের অর্থায়নে এবং লেবু স্যার একাডেমির উদ্যোগে সোমবার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।
শতবর্ষী ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের স্বনামধন্য শিক্ষক মরহুম মো. আব্দুল মালিক (লেবু স্যার)-এর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গঠিত লেবু স্যার একাডেমির আয়োজনে এবং সিনিয়র সাংবাদিক মো. কাওছার ইকবালের সার্বিক তত্ত্বাবধানে চক্ষু শিবিরটি অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানটি উৎসর্গ করা হয় বিদ্যালয়ের আরেক স্বনামধন্য শিক্ষক মরহুম মো. আব্দুল গফুর (গফুর স্যার)-এর স্মৃতির প্রতি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অজয় কুমার দেব। সঞ্চালনা করেন লেবু স্যার একাডেমির সদস্য সচিব ও অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক মো. মনসুর ইকবাল ও ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অয়ন চৌধুরী। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রবীণ ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব মাওলানা আল্লামা অধ্যক্ষ মো. আব্দুন নূর বড় হুজুর।
সম্মাননা পাওয়া শিক্ষকরা হলেন—আলহাজ্ব মাওলানা আল্লামা অধ্যক্ষ মো. আব্দুন নূর, বীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ, সুশান্ত কুমার দে (যীশু), দ্বীপেন্দ্র ভট্টাচার্য (দীপু), সিরাজুল ইসলাম কোরেশী, বেণুধর ভট্টাচার্য, নরেশ দাশ, প্রদীপ্ত কুমার নন্দী ও মো. মনসুর ইকবাল। তাঁদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য দেন যুক্তরাজ্যে নবনিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ও ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মুহাম্মদ আবদুল মুহিত। তিনি মরহুম গফুর স্যারের সন্তান।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। অনুষ্ঠানে কানাডাপ্রবাসী প্রাক্তন ভিক্টোরিয়ানদের পক্ষে বক্তব্য দেন যোসেফ দাশগুপ্ত যশো। বক্তারা লেবু স্যার ও গফুর স্যারের কর্মময় জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন।
চক্ষু শিবিরে শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় দেড় হাজার রোগী চক্ষু পরীক্ষা ও ওষুধসেবা নেন। তাঁদের মধ্যে দেড় শতাধিক রোগীকে ছানি অপারেশনের জন্য নির্বাচিত করা হয়। পরে নির্বাচিত রোগীদের বাসযোগে মৌলভীবাজারের মাতারকাপনস্থ বি.এন.এস.বি চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে অপারেশন শেষে শ্রীমঙ্গলে ফিরিয়ে আনা হয়।
কানাডার টরন্টোপ্রবাসী খোকা পালের সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ কর্মসূচির পুরো ব্যয়ভার বহন করেন লেবু স্যারের কানাডাপ্রবাসী প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীরা। অতিথি, রোগী ও স্বেচ্ছাসেবকদের আপ্যায়নের দায়িত্ব নেয় ফ্রান্সপ্রবাসী প্রয়াত অনুপ বিশ্বাস (আবু)-এর পরিবার।
যারা এই সামগ্রিক আয়োজনে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন, তাঁরা হলেন, শ্রীমঙ্গলের কানাডা প্রবাসী প্রফেসর কল্যাণ সোম (ব্রাম্পটন), বিজয় ভূষণ দেব চৌধুরী (মন্ট্রিয়াল), বিজয় রায়, রজত পাল, প্রফেসর মানসলাল সোম ও খোকা পাল, (টরেন্টো), যোশেফ দাশগুপ্ত যশো (উইনিপেগ), অসীমাভ চৌধুরী তাপস (এডমন্টন), বিশু চৌধুরী ও ইন্দ্রজিত মিত্র (টরেন্টো), বাপ্পি বিশ্বাস (মন্ট্রিয়াল), কাব্য পাল (ম্যানিটোবা), মি. ডন ও মিসেস ভ্যালেরী(কোবার্গ)। অনুষ্ঠানের প্রচার ও প্রকাশনার সামগ্রিক ব্যয়ভার বহন করেন কানাডা প্রবাসী ভিক্টোরিয়ান যোসেফ দাশ গুপ্ত যশো।
উপস্থিত ছিলেন ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অয়ন চৌধুরী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ভিক্টোরিয়ান আশরাফুল আলম, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ভিক্টোরিয়ান এমরান হোসেন চৌধুরী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ভিক্টোরিয়ান খুরশেদ আনোয়ার, ভিক্টোরিয়ান অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সুশান্ত দাশ গুপ্ত, শিক্ষক রনজিত রায় রন, অধ্যক্ষ ঝলক চক্রবর্তী, কবি অধ্যাপক কমলকলি চৌধুরী, ক্রীড়া সংগঠক আনোয়ার হোসেন শাহীন প্রমূখ।
চক্ষু শিবির ও সম্মাননা অনুষ্ঠানে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বসহ বিপুলসংখ্যক ভিক্টোরিয়ান অংশ নেন। তাঁদের সক্রিয়
অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
আয়োজন সফল করতে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের বিএনসিসি, রোভার স্কাউটস ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.