স্টাফ রিপোর্টার॥ সদর উপজেলার ১২ নং গিয়াসনগর ১২নং গিয়াসনগর ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক, মোঃ সাজ্জাদুর রহমান মনাই পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন। যুবলীগের সাইন বোর্ড লাগিয়ে দোকান কোঠা দখল শিরোনামে মোঃ খয়রুল ইসলাম, পিতা: মৃত গিয়াস উদ্দিন লেবু মিয়া একটি ভিত্তিহীন, মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক ঘটনা সাজিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।
১৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মোঃ সাজ্জাদুর রহমান মনাই, পিতা: মৃত এম.এ মান্নান (সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মৌলভীবাজার সদর আওয়ামীলীগ) অভিযোগ করে বলেন, তিনি ১২নং গিয়াসনগর ইউ/পি আওয়ামী যুবলীগ আহবায়ক, বিগত ১৭ বছর গিয়াসনগর ইউ/পি ছাত্রলীগ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৩ জানুয়ারি শুত্রুবার সকাল ১১.০০ ঘটিকায় সংবাদ সম্মেলনে মোঃ খয়রুল ইসলাম সক্রীয় আওয়ামী পরিবারের সন্তান হিসেবে দাবী করেন, যাহা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ দাবীর স্বপক্ষে একটি প্রমানও প্রদর্শন করিতে পারিবেন না।
১২নং গিয়াসনগর ইউ/পি আওয়ামী যুবলীগ কোন দখল দারীত্বে বিশ্বাস করেনা এবং জড়িত নহে। “যুবলীগের সাইন বোর্ড লাগিয়ে দোকান কোঠা দখল” সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনটি সম্পূর্ণ বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। কারণ এই কোঠা সহ সম্পূর্ণ মার্কেটের মালিক তিনি ও তার ভাইবর্গ। যাহার রেজিষ্ট্রার দলিল নং- ১৭১; তাং- ১০/০১/২০১৩ইং ও ৫৫৪ নং খতিয়ানে ৮নং নামজারী মূলে মালিক স্বত্ববান হিসেবে ১০/০১/২০১৩ ইং তারিখ হইতে ভোগ দখল করিয়া আসিতেছি। বিগত ১৬/১২/২০১৬ ইং তারিখে আমার মার্কেটস্থ আওয়ামী যুবলীগের কার্যালয়ে বিজয় দিবস উদযাপনকালীন বঙ্গবন্ধুর ভাষণ মাইকে চলাকালীন সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দেশীয় ভারী ও মারাত্মক ধারালো অস্ত্র-সস্ত্র নিয়া প্রায় ২০/২৫জন সন্ত্রাসী ভাষণের ক্যাসেট সহ যুবলীগ কার্যালয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে এবং আমি ও আমার নেতাকর্মীদের আহত করার সংবাদ পাইয়া পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হইয়া তাকে ও নেতাকর্মীদের রক্ষার নিমিত্তে খয়রুল ইসলাম গং ৫ জনকে ঘটনাস্থলে হাতে নাতে গ্রেফতার করে। যাহা মৌলভীবাজার মডেল থানা জি.আর মামলা ৩৩৭/১৬ ইং।
উল্লেখ আবশ্যক, বিগত তারিখ ২৮/১২/২০১৬ ইং মোঃ খয়রুল ইসলাম গং মাননীয় দায়রা জজ আদালত হইতে আপোষের শর্তে জামিন নিয়ে বিগত ১৬/১২/২০১৬ ইং তারিখে মৌলভীবাজার মডেল থানা জি.আর মামলার ৩৩৭/২০১৬ এর বাদী ও নেতা কর্মীকে হয়রানি ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করার নিমিত্তে মাননীয় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আমলী আদালতে খয়রুল ইসলাম বাদী হয়ে একখানা পিটিশনমামলা নং- ১/১৭; মৌলভীবাজার মডেল থানা মামলা নং- ১৮; তারিখ: ১০/০১/২০১৭ ইং কাউন্টার মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট হিসেবে দায়ের করেন।
তিনি সাংবাদিক মহল ও আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবগতির জন্য বলেন খয়রুল ইসলাম বাদী হয়ে দায়ের করা মামলাটি সঠিক নিরপেক্ষ তদন্ত করলে অবশ্যই এর সত্যতা উদঘাটিত হইবে যে, উক্ত স্থানে উক্ত সময়ে এইরুপ কোন ঘটনা ঘটে নাই। যাহা বাদী খয়রুল ইসলামের পিটিশন মামলাটি পর্যালোচনা করিলে দেখিতে পাইবেন। যে প্রথম পাতার দ্বিতীয় পৃষ্টায় মাননীয় আদালতের নিকট মামলাটি দায়েরকালে জবানবন্দিতে লিখিয়াছেন “আসামীরা আমার নিকট ১০,০০০/- টাকা দাবী করে” দ্বিতীয় পাতার ১ম পৃষ্টায় আরজীতে উল্লেখ করেছেন “১/২/৩/৪/৫ নং বিবাদী দীর্ঘদিন যাবৎ আমার নিকট ১০,০০,০০০/- টাকা চাঁদা দাবী করিয়া আসিতেছি” আরজির তৃতীয় পাতার ১ম পৃষ্টায় উল্লেখ করেছেন “১-৫নং বিবাদী আমাকে না পাইয়া আমার মা ১নং সাক্ষীর নিকট ১,০০,০০০/- টাকা চাঁদা দাবী করে। আরো উল্লেখ করেন ১৪ ও ১৫নং লাইনে “২নং বিবাদী আমার তলপেটে লাথি” মারে। উল্লেখ্যে পিটিশন মামলার বাদী খয়রুল ইসলাম ১৬/১২/২০১৬ ইং হইতে বিগত ২৮/১২/২০১৬ ইং তারিখ পর্যন্ত জেল হাজতে ছিলেন। আপনাদের সম্মুখে আবেদন কিভাবে বাদী খয়রুল ইসলামকে ২নং বিবাদী হেলাল মিয়া তলপেটে লাথি মারলেন?
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো উল্লেখ করেন, খয়রুল ইসলাম গং নানাবিধ অসামাজিক কার্যকলাপের সহিত জড়িত। খয়রুল ইসলাম গং এর সহযোগী মো: পারভেজ মিয়া (২৪) পিতা: ইব্রাহিম মিয়া, সাকিন শাহাপুর গত ১৭/১১/২০১৬ ইং তারিখে শাহাপুর গ্রামের চুরিকৃত গরু সহ মোস্তফাপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামে হাতে নাতে ধরা পড়ে। তৎপরবর্তীতে, উক্ত চুরির ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার ১২ নং গিয়াসনগর ইউ/পি আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক, বর্তমান চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা সাহেবকে প্রভাবিক করতে ব্যর্থ হওয়াতে আক্রোশের বশবর্তী হইয়া তার ও পরিবারের মানহানীর নিমিত্তে উনার কনিষ্ট ছেলে জেলা ছাত্রলীগের তুখোর ছাত্রনেতা জনাব গোলাম মোশারফ টিটুর বিরুদ্ধে খয়রুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা অপপ্রচার করেন। আমিতাহার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। কারণ, গোলাম মোশারফ টিটু সদাসর্বদা অসামাজিক কার্যকলাপের প্রতিবাদী কন্ঠ।
তিনি বক্তব্যে উল্লেখ্য করেন ১৩/০১/২০১৭ তারিখ আমি ও আমার নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য সম্বলিত কাল্পনিক ঘটনা বর্ণনা করে সংবাদ সম্মেলনকরে রাত আনুমানিক ১১.০০ ঘটিকায় গিয়াসনগর বাজার হইতে শ্রীমঙ্গলমুখী প্রায় অর্ধ কিলোমিটার পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে টাঙ্গানো ও বাজারের বিভিন্ন জায়গায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর ছবি ও আওয়ামী যুবলীগের লগো সম্বলিত প্রায় শতাধিক পোষ্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন খয়রুল ইসলাম গং ভাংচুর ও ছিড়ে ফেলে এবং বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে যুবলীগ নেতা কর্মীদের হুমকী দেয়। তাছাড়া প্রায় সময় প্রকাশ্যে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা, জননেত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে কটুক্তি করে। আওয়ামী যুবলীগ প্রতিনিয়ত নির্ধারিত কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে এলাকার যুব সমাজকে আওয়ামী রাজনীতির দিকে অনুপ্রানিত করছে দেখে বি.এন.পি, জামায়াত সমর্থনকারী মানষিকতার নবগঠিত আওয়ামীলীগ মুখোশধারী খয়রুল ইসলাম গং এর চক্রান্তে গিয়াসনগরস্থ আওয়ামী যুবলীগকে বিভিন্ন মামলা হামলায় জড়িত করে দুর্বল করার হীন প্রচেষ্টা করছে।
খয়রুল ইসলাম এর গত ১৩/০১/২০১৭ ইং তারিখের সংবাদ সম্মেলনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান মোঃ সাজ্জাদুর রহমান মনাই এবং সত্য ঘটনা উদঘাটনের জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানান।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.