
আব্দুর রব : বড়লেখায় সাম্প্রতিক বহুল আলোচিত গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির মৃত্যুর প্রকৃত তথ্য তোলে ধরেছেন থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান।
শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর সকালে নিজ কার্যালয়ে প্রেসব্রিফিংয়ের আযোজন করে তিনি সাংবাদিকদের কাছে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উঠে আসা মুন্নির মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বর্ণনা দিয়েছেন। এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে পুলিশের ভুমিকা ও আইনগত বিষয়গুলোও তোলে ধরেন।
প্রেসব্রিফিংয়ে ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান বলেন, গত ২১ আগস্ট বড়লখা উপজেলার মুড়িরগুল গ্রামে মরিয়ম আক্তার মুন্নি (২২) নামের এক গৃহবধুর আত্মহত্যার সংবাদ পান বিকেল ৫ ঘটিকার দিকে। এরপর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মুন্নির মৃতদেহ বসতঘরের টয়লেটের টিনের চালার কাঠের তিরের সহিত ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় এবং বিধি মোতাবেক মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।
এসময় মৃতার বাবা হাজী মকবুল আলী তার মেয়ের মানসিক চিকিৎসার কাগজপত্র দেখিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মৃতদেহ দাফনের অনুরোধ জানান। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা জনিত মৃত্যু বলে প্রতিয়মান হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা জরুরি বলে পুলিশ মনে করে। পরবর্তীতে হাজী মকবুল আলীর আবেদনের প্রেক্ষিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৪ ধারা অনুযায়ি বড়লেখা থানায় অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয় এবং লাশের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়।
পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযোগ উঠে মরিয়ম আক্তার মুন্নিকে তার শ্বশুড়বাড়ির ননদ, শ্বাশুড়ি ও ভাসুর নির্যাতন করে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে। পিতা-মাতা ও স্বজনদের এই অভিযোগের বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে এবং তদন্ত অব্যাহত রাখে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো কোনো ব্যক্তি ঘটনাটিকে হত্যাকান্ড হিসেবে উল্লেখ করে বিভিন্ন বক্তব্য ও প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং ৪ সেপ্টেম্বর বাদ জুম্মা বড়লেখা শহরের শহীদ মিনারে মানববন্ধন করার জন্য ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে প্রচার করছেন বলে পুলিশের নজরে এসেছে।
অপরদিকে ৩ সেপ্টেম্বর মৃত মরিয়ম আক্তার মুন্নির ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাসপাতাল হতে প্রাপ্ত হয়ে পর্যালোচনায় দেখা যায় চিকিৎসক স্পষ্টভাবে আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু মতামত প্রদান করেছেন।
ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান সকল নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানান, কোনো ঘটনার প্রকৃত তথ্য ও আইনগত অবস্থান নিশ্চিত না হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর, অসত্য বা উসকানিমুলক তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে। এধরণের প্রচারনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণ হতে পারে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, যেহেতু গায়ে আঘাতের চিহ্ন এবং ঘটনার আগে ভিডিও কল ও ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে তার বাবাকে মারধরের বিষয় জানিয়েছিল সেহেতু নিহত মুন্নির বাবা আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা দিতে পারেন। তাকে থানায় আসতে খবর পাঠানো হয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, মুন্নির পাঠানো কলরেকর্ডগুলো আগে পাওয়া যায়নি।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.