এস এম উমেদ আলী॥ প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা গনতন্ত্র ও আইনের শাসনের উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেন আমাদের দেশে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত দেশের কোন জায়গায় অনুষ্ঠানে গেলে আমাদের মিডিয়া ও রাজনীতিবীদরা তাকে তোষামোদ করতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। অথচ তিনি সে দেশের ৪র্থ,৫ম কিংবা ৬ষ্ট শ্রেণীর একজন কর্মকর্তা মাত্র। তিনি কিন্তু সে দেশের প্রেসিডেন্টের সাথে সরাসরি দেখা করে কথা বলারও অধিকার রাখেন না। এর কারণ হিসেবে সে দেশে আইনের শাসন রয়েছে, সম্পদ আছে, জ্ঞানের চর্চাও আছে। সে জন্যই তারা আজ দুনিয়া জুড়ে মুড়ালিপনা করছে। এটা কিন্তু এক দিনে হয়নি।
৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে ১০টায় পৌর জনমিলন কেন্দ্রে মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথাগুলো বলেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি পত্রিকা পড়ে জানতে পারলাম একজন মাননীয় মহিলা সংসদ সদস্য আমার সম্পর্কে বলেছেন আমি না কি বেশি কথা বলছি। আমার কাজ মামলা শুনানী ও রায় লিখা। তিনি সংসদ সদস্যের এমন কথা বলার প্রেক্ষিতে প্রশ্ন রেখে বলেন আমি একটুও কথা বলতে চাইনা। কিন্তু আপনার কি আপনাদের দ্বায়িত্ব পালন করতে পারছেন। আইন প্রণয়নে আজকে দেশে প্রত্যেকটা আইনে আমারা বিচার করতে গেলেই আমরা জামেলায় পড়ছি। কোন আইনই আমরা ঠিক মতো পাচ্ছিনা। প্রত্যেকটি আইনই ত্রুটিপূর্ণ। এই ত্রুটিপূর্ণ আইন হওয়ায় এই সেই সুযোগে মামলা বেড়ে যাচ্ছে।
তিনি গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আইনের নানা ত্রুটির বিষয় উল্লেখ করে বলেন একারনেই ওই সময় নির্বাচন সংক্রান্ত হাজার হাজার মামলা পড়েছে। সংসদ সদ্যসদের ইঙ্গিত করে বলেন বিচার বিভাগকে যদি আপনারা হস্তক্ষেপ না করতেন তাহলে মামলার এত জট হত না।
পৃথিবির সকল দেশই বিচার বিভাগকে দমিয়ে রাখার চেষ্ঠা করা হচ্ছে এ বিষয়ে তিনি আমেরিকার ফেডারেল কোর্টের দেওয়া একটি রায়ের প্রসঙ্গ টেনে বলেন সারা পৃথিবিই তাকিয়ে আছে আমেরিকার বিচার বিভাগের দিকে। পৃথিবি জুড়ে যে অরাজকতা হয় তা কিন্তু বিচার বিভাগের উপরই বর্তায়। দেশের কান্তি লগ্নে সে দেশকেই কিন্তু বিচার বিভাগই রক্ষা করে।
এ ছাড়াও তিনি বিচার বিভাগের সাথে পুলিশ বিভাগের অঙ্গাঅঙ্গি সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন আমরা বিচার করতে গিয়ে আমরা বিচার করতে পারছিনা। এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলা আমরা পাচ্ছি এগুলোর ইনভেশটিকেশন ও প্রসিকিউশনে ক্রটি পাচ্ছি। আমি বাধ্য হয়ে পুলিশ হেডকোয়াটারে গিয়ে এ কথাগুলো বলেছি। এ সমস্যা নিরসনে পুলিশ বিচার বিভাগ থেকে সহায়তা চাইলে যে কোন স্থানে গিয়ে সহায়তা দেয়ার কথা জানান।

প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, গত সরকারের তিন মাস সময়ে দেশে বিশৃংখলা ছিলো, কোন স্থিতিশীলতা ছিলো না। এমনকি ব্যবসা বাণিজ্য ছিলো না। আমি এই বিচার বিভাগে দায়িত্ব নেওয়ার পর ৮০ ভাগ রেভিনিউ বন্ধ ছিল এটা আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম। সব মামলা মকদ্দমাও ছেড়ে দেয়া হয়। এখোনো সরকারের রেভিনিউর একটা বড় অংশ আদায়ে বিচার বিভাগ সহায়তা দিচ্ছে।
মৌলভীবাজার আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোঃ কামাল উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কামরেল আহমেদ চৌধুরীর পারিচালনায় বক্তব্য রাখেন সৈয়দা সায়রা মহসীন এমপি, হাইকোর্টের রেজিষ্টার সৈয়দ দিলজার আহমদ, জেলা ও দায়রা জজ শফিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোঃ তোফায়েল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহ জালাল প্রমুখ।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.