স্টাফ রিপোর্টার॥ স’মিল শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভা থেকে স’মিল সেক্টরে সরকার ঘোষিত নি¤œতম মজুরির গেজেট কার্যকর, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্বিস বুক প্রদান ও ৮ ঘন্টা কর্মদিবসসহ শ্রম আইন বাস্তবায়ন এবং কর্মক্ষেত্রে কাজের পোষাক, মাক্স, হ্যামলেটসহ উপযুক্ত নিরাপত্তা প্রদান, শ্রমিকদের জন্য রেশনিং চালু, শ্রীমঙ্গলে স্থায়ী শ্রম আদালত ও যুগ্ম-শ্রম কার্যালয় স্থাপন করার দাবি জানানো হয়।
১৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের চৌমুহসাস্থ কার্যালয়ে স’মিল শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি মোঃ আরজান আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সভা থেকে এই দাবিগুলো করা হয়। সভার শুরুতে স’মিল শ্রমিক সংঘ সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মোঃ আইয়ূবুর রহমানের মাতা মোছাঃ সোনামালা বেগমের(১০৫) মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি শহীদ সাগ্নিক, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস ও স’মিল শ্রমিক সংঘ সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ধ্রবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমলেশ শর্ম্মা, জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ২৪৫৩ এর সভাপতি সোহেল আহমেদ, জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ২৩০৫ এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহিন মিয়া, স’মিল শ্রমিক সংঘ শ্রীমঙ্গল উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান, কমলগঞ্জ উপজেলা কমিটির সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোস্তাক মিয়া, সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি মোঃ ছালিক মিয়া, রাজনগর উপজেলা কমিটির নেতা আব্দুল মন্নান, টেংরাবাজার আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি সাদা মিয়া, কাগাবালা আঞ্চলিক কমিটির নেতা জয়নাল আবেদীন, মোঃ নাজিমউল্লাহ, মিন্টু মিয়া, শামীম মিয়া, মানিক মিয়া প্রমূখ।
সভায় বক্তারা বলেন দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ২০১৪ সালে স’মিল সেক্টরে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য নি¤œতম মজুরি ঘোষণা করা হলেও এখনও অধিকাংশ স’মিলে নি¤œতম মজুরির গেজেট কার্যকর হয়নি। শুধু তাই নয় স’মিল শ্রমিকরা দৈনিক ৮ ঘন্টা কর্মদিবসসহ দেশের প্রচলিত শ্রম আইনের সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত। স’মিল সেক্টরে শ্রমিকদের কাজের কোন নির্দিষ্ট কর্মঘন্টা নাই, অর্জিত ছুটি, চিকিৎসা ছুটি, উৎসব ছুটিসহ শ্রমআইনের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাও কার্যকর করা হয় না। সাপ্তাহিক ছুটি প্রদান করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছুটির দিনের মজুরি দেওয়া হয় না। শ্রমআইনে নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিসবুক প্রদান বাধ্যতামূলক হলেও মালিকরা এসবের ধারধারেন না। স’মিল শ্রমিকদের যেমন নেই কাজের পোষাক, মাক্স, চশমা, গ্লাভস, তেমনি প্রতিষ্টানে ক্রেন ও ট্রলি না থাকায় স’মিল শ্রমিকরা অমানবিক পরিশ্রম করে বিরাট বিরাট গাছ টেনে মেশিনে তুলতে গিয়ে প্রায়ই দূর্ঘটনার শিকার হন। কিন্তু মালিকরা আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপুরণ বা উপযুক্ত চিকিৎসা খরচ প্রদান করেন না। তাই শ্রমিকদের এসব সমস্যা ফেব্রুয়ারি জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ এর ৭ম জাতীয় সম্মেলণ সফল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সমাধানে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।
সভায় ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ এর ৭ম জাতীয় সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.