ইমাদ উদ দীন॥ স্থবির হয়ে পড়েছিল সাংগঠনিক কার্যক্রম। কারণ নতুন কমিটি নেই প্রায় এক যুগ। অভ্যন্তরীণ কোন্দলে একটি সভাও করতে পারেনী চলমান ওই কমিটি। বরং ওই মেয়াদ উর্ত্তীণ কমিটির কারণেই জেলা ও উপজেলায়ও বাড়ছিল দ্বন্ধ। এ নিয়ে দলের নিবেদীত প্রাণ তৃণমূলের কর্মীদের ক্ষোভের অন্ত ছিল না। দলের ঝিমিয়ে পড়া সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রাণবন্ত করতে তারা দাবী তুলেন নতুন কমিটির। ক্রমেই জোরালো হচ্ছিল তাদের এ দাবীর আওয়াজ। দীর্ঘদিন পরে হলেও তাদের এমন দাবী পৌঁছায় কেন্দ্রীয় কমিটিতে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তাদের এমন দাবীর প্রয়োজনীয়তা উপলব্দি করে দলের ঝিমিয়ে পড়া সাংগঠনিক কার্যক্রম সরব ও শৃঙ্খলিত করতে উদ্দ্যোগি হন। তারা এ বিষয়ে আলোচনার জন্য ১২ মার্চ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দকে ঢাকায় তলব করেন। জানা যায় ১২ মার্চ রবিবার বিকেলে সাড়ে ৩ টায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির কার্যালয়ে মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটির সভা হয়। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) আহমদ হোসেন এর পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি। সভায় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহিদ এমপি,জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব শাহাব উদ্দিন এমপি,সৈয়দা সায়রা মহসীন এমপি,আব্দুল মতিন এমপি,মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ,সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ ফিরোজ,মুহিবুর রহমান তরফদার,আজমল হোসেন,সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মসুদ আহমদ,আকিল আহমদ, শাহ মোহাম্মদ আলী শাহেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাউর রহমান, কামাল হোসেন, সাইফুর রহমান বাবুল,তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড: রাধাপদ দেব সজল, সদস্য ফজলুর রহমান ফজলু সহ মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটির নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দের বক্তব্যের পর দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন জেলা সম্মেলনের দিনক্ষন নির্ধারণ করেন। তারা বলেন দীর্ঘদিন থেকে নতুন কমিটি না হওয়ায় ঝিমিয়ে পড়েছে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম। তাই দলের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক কর্মকান্ডে উজ্জীবিত করতে ২০ মে জেলা সম্মেলনের নির্দেশ দেন। এ লক্ষে জেলার সবকটি উপজেলা ও পৌর কমিটির সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন দ্রুত সম্পন্ন করতে বলেন। তাদের এমন সিন্ধান্তকে স্বাগত ও সর্মথন জানান উপস্থিত জেলা নেতৃবৃন্দ। এ সময় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ২২ মার্চ সিলেট আলীয়া মাদরাসা মাঠে দলের সিলেট বিভাগীয় সম্মেলন সফল করতে সার্বিক সহযোগীতার নির্দেশ দেন। ওই সভায় অংশ নেওয়া জেলা কমিটির একাধিক নেতা এমন তথ্য নিশ্চিত করে বলেন সভায় জেলা কমিটির ৭১ সদস্যের মধ্যে ৬২ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। নেতৃবৃন্দ জানান সভার শুরুতে আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগ এর কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে, সাংগঠনিক কাজকর্ম বাধাগ্রস্থ’ হচ্ছে। দীর্ঘদিন যাবৎ কোন সম্মেলন হয়নি। তিনি আগামী ২০ মে মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন এবং যথা সময়ে সম্মেলন সম্পন্ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এক পর্যায়ে কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনু, কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ এ কে এম সফি আহমদ সলমান এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করে বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সফি আহমদ সলমান তাকে এক বছর পূর্বে একটি জনসভায় মারপিট করে কাপড় ছোপড় খুলে নিয়েছেন, জেলা আওয়ামীলীগ তাকে বহিষ্কার করেছে, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান। জবাবে সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, উপজেলা বা জেলা কাহারও বহিষ্কারের কোন ক্ষমতা নেই। সফি আহমদ সলমান আওয়ামীলীগে আছে আওয়ামীলীগেই থাকবে। তিনি বলেন কুলাউড়ার সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পর্কে আমি অবগত আছি, কুলাউড়া সহ যে সমস্ত উপজেলা এখন কমিটি হয় নি, প্রয়োজন হলে আমি নিজে দায়িত্ব নিয়ে সম্মেলন সম্পন্ন করবো। তিনি নেতৃবৃন্দকে ভেদাভেদ ভুলে দলের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করা নির্দেশ দেন। জানা যায় ওই সভাকে কেন্দ্র করে জেলার প্রতিটি উপজেলা গুলোর অধিকাংশ নেতা ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।
দলীয় সুত্রে জানা যায় প্রায় ১২ বছর থেকে জেলা উপজেলাসহ ৯টি সাংগঠনিক শাখায় নতুন কমিঠি না হওয়াতে দিন দিন বাড়ছিল দলীয় অভ্যন্তরীন দ্বন্ধ ও ক্ষোভ।কর্মীদের তরফে অভিযোগ উঠে বর্তমান কমিটি কেন্দ্রীয় কমিঠির অনুমোদন পাওয়ার পর থেকে গ্রুপিং বৈঠক ছাড়া ১২ বছরেও জেলা আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভা কিংবা কর্মীসভা হয়নি একটিও। মূলত একারণেই নেতা কর্মীরা হচ্ছেন নিসক্রিয় আর সাংগঠনিক কাজে আসে স্থবিরতা। ঝিমিয়ে পড়ে দলীয় কার্যক্রম। বলতে গেলে অনেকটা দ্বন্ধে পুড়ে মৌলভীবাজারের আওয়ামীলীগ। ঘরোয়া দ্বন্ধের যাতাকলে নাজেহাল হচ্ছিলেন নেতা কর্মীরা। দিন দিন বাড়ছিল এ অস্তিরতা। সয়লাব হচ্ছিল বিবেদ। এতদিন এক পক্ষ সরব হলে অন্যপক্ষ ছিল নিরব। অভিভাবক সংগঠনের এমন অভ্যন্তরীণ কোন্দলে প্রভাব পড়ে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের দলীয় কার্যক্রম। কেন্দ্রীয় কমিটির সিন্ধান্তে ২০ মে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসলে বয়ে চলা কোন্দল অনেকটা প্রশমিত হবে প্রত্যাশা নেতাকর্মীদের। দলীয় সুত্রে জানা যায়, দলের গঠতন্ত্র অনুযায়ী ৩ বছর পর দলের জেলা ও উপজেলা কমিটি গঠনের কথা থাকলেও মৌলভীবাজার জেলা আ’লীগে ঘঠে তার ব্যতয়। সে সময়ে কাউন্সিল অনুষ্টানের ৪ বছর পর মৌলভীবাজার জেলা আ’লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন পায়। জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ সভাপতি ও নেছার আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত ৭১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদন পায় ২০১০ সালের ৯ অক্টোবর। ২০০৬ সালের ৭ জুলাই মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্টানের ৪ বছর ২ মাস ৯দিন পর প্রস্তাবিত ৭১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিঠি অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন এ কমিঠিতে সভাপতি, ৯ জন সহ সভাপতি,সাধারন সম্পাপদক,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ৩ জন,৩ জন সাংগঠনিক সম্পাদক রয়েছেন। এই কমিটি অনুমোদনের পর কার্যত দুটি বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে জেলা আওয়ামীলীগ। প্রয়াত মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী গ্রুপ ও সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ গ্রুপ।এই দু’টি বলয়ের বাহিরে ছিল আরোকয়েটি উপ গ্রুপ। তবে তারা ততটা প্রকাশ্যে সক্রিয় ছিল না। নেতাকর্মীদের অভিযোগ এ কমিটিতে নাকি সাবেক মন্ত্রী মরহুম মহসীন আলী বলয়ের লোক সংখ্যা বেশি হওয়ায় বেকায়দায় পড়েন সাবেক চিফ হুইপ। একারণেই তার অনিহা থেকেই নাকি সাংগঠনিক কাজে আসে স্থবিরতা। তবে এমন অভিযোগ দলের একটি অংশে মানলেও অপর অংশ তা মানতে নারাজ। গতকাল দুপুরে দলের জেলা কমিটির একাধিক নেতা মুঠোফোনে জানান আমরা কেন্দ্রীয় কমিটির এমন সিন্ধান্তকে স্বাগত জানাই। দলের স্বার্থে নতুন কমিটির খুবই প্রয়োজন। তারা জানান এপর্যন্ত ৯টি সাংগঠনিক শাখার মধ্যে শুধু বড়লেখা উপজেলা কমিটি গঠন হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় কমিটির এই নির্দেশ সকলের সম্মেলিত প্রচ্ষ্টোয় এসময়ের মধ্যেই উপজেলা ও জেলা সম্মলেন করা সম্ভব।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.