স্টাফ রিপোর্টার॥ চাঁদাবাজির অভিযোগে ওয়ান ইলিভেনের নায়ক জেনারেল মইনের শ্যালক রেজা আহমদ বেনজির সহ ১৬জন আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। দায়েরকৃত ২ কোটি টাকার চাঁদাবাজির মামলায় বিজ্ঞ আদালতের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ বাহাউদ্দিন কাজী এ বছরের ২৭ এপ্রিল এ নির্দেশনা প্রদান করেন।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, জেনারেল মইনের শাসন ২০০৭-২০০৮ সালে তার স্ত্রীর বড় ভাই মৌলভীবাজারস্থ শাহ মোস্তফা রোডের রেজা আহমদ বেনজির অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেন। ২০০৭ সালের ১৯ অক্টোবর রাত অনুমান ৩ ঘটিকার সময় বেনজির আহমদ রেজা উল্লেখিত মামলার আসামীদের নিয়ে শহরের বেরিরপারস্থ মামলার বাদী ও বড় ভাই যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি, সাবেক ব্রিটিশ কাউন্সিলর ও সিআইপি এম এ রহিমের এম, আর টাওয়ার-২ এর জায়গা দখল করেন। এসময় তারা ১০০ ব্যাগ সিমেন্ট, ৪টন রড লুট করে নিয়ে যান। তাৎক্ষণিক ভাবে বিষয়টি মৌলভীবাজার মডেল থানাকে জানালে প্রধান আসামী জেনারেল মইনের শ্যালক থাকায় ক্ষমতার দাপটে কোন মামলা নেয়নি পুলিশ।
পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ৩০ মে অনুমান রাত ৮টায় মামলার আসামীরা সবুজবাগস্থ এম আর টাওয়ার-১ এর সামনের রাস্তা থেকে মামলার বাদী মুজিবুর রহমানকে অপহরণ করে রেজা আহমদ বেনজীর এর শাহ মোস্তফা রোডস্থ বাসায় একটি রুমের মধ্যে আটকিয়ে রাখে। কিছু সময় পর আসামীরা ৩ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। অন্যতায় বাদীকে প্রাণে হত্যার হুমকি দেয়। হত্যার ভয়ে রফাদফার পর বাদী প্রাণ রক্ষারতে ২কোটি চাঁদা দিতে রাজি হন। পরে রেজা আহমদ বেনজির নেতৃত্বে মুজিবুর রহমানকে সিলেট এইচ.এস.বি.সি ব্যাংক নিয়ে গেলে তিনি সেখান থেকে ৫০ লক্ষ টাকা তুলে তাদের হাতে দেন। পরবর্তীতে মৌলভীবাজার এসে প্রাইম ব্যাংক মৌলভীবাজার শাখা থেকে পৃথক পৃথক চেকে বিভিন্ন জনের নামে আরও ১ কোটি ৪৭, লক্ষ ৮১ হাজার ২৫০ টাকা দেয়া হয়। সর্বমোট রেজা আহমদ বেনজিরকে ১ কোটি ৯৭ লক্ষ ৮১ হাজার ২শত ৫০টাকা চাঁদা আদায় করেন।
ওয়ান ইলিভেনের তত্বাবধায়ক সরকারের পর ২০০৮ সালে নির্বাচনে গনতান্ত্রিক সরকার ক্ষতায় আসলে মুজিবুর রহমান বাদী হয়ে একই বিষয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানায় ২০০৯ সালের ১৫ অক্টোবর রেজা আহমদ বেনজিরকে প্রধান আসামী সহ মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে আসামী করে ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩৬৪/৩৮৬/৩৭৯/৩৮০/৫০৬/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১৫ ২০০৯।
মৌলভীবাজার মডেল থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহ্ হারুন-অর রশিদ ১৪/০২/২০১০ সালে এজহার ভুক্ত আসামীদের অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
বিজ্ঞ আদালতের বিচারক মোঃ বাহাউদ্দিন কাজী গত ২৭/০৪/১৭ তারিখে ১ নং আসামী বেনজির আহমদ রেজা ২। ফয়ছল আহমদ ৩। জাহাঙ্গীর আহমদ ৪। আব্দুর রউফ ৫। আব্দু বারী ৬। ফরিদ আহমদ ৭। সোহেল আহমদ ৮। কাওছার আহমদ ৯। আকলিমুন্নেছা ১০। ফয়জুন্নাহার ১১। জামাল আহমদ ১২। তুহিন আহমদ ১৩। তোফায়েল আহমদ ১৪। নুফিল আহমদ ১৫। সামছুননাহার ও ১৬। রয়জুন্নাহারের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩৬৫/৩৮৬/৩৭৯/৩৮০/৫০৬/৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়।
আসামী পক্ষের আইনজীবি তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিক্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূল বলে আদালতে দাবি করলে আদালত এটা না মঞ্জুর করে।
এ বিষয়ে মামলার বাদী মুজিবুর রহমান এর ভাই যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি, সাবেক ব্রিটিশ কাউন্সিলর ও সিআইপি এম এ রহিম বলেন, অনেক দিন পরে হলেও ওই মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আমরা আশাবাদী আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব মামলাটি নিষ্পক্তি করে আসামীদেরকে সাজা ও চাঁদার টাকা উদ্ধার করা হবে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.