হোসাইন আহমদ॥ প্রাকৃতিক সুন্দর্য্যরে অপরূপ লিলা ভূমি, চায়ের রাজধানী খ্যাত, পর্যটন নগরী ও দুটিপাতা একটি কুঁড়ির দেশ মৌলভীবাজার জেলায় ৮ বছরে অবকাঠামোগত উন্নয়নে সচ্ছতা ও জবাবদিহীতার সহিত “স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর“ (এলজিইডি) দক্ষতার সহিত ৮শত ৮ কোটি টাকার উন্নয়ন করে মাইলফলক সৃষ্টি করেছে।
জেলার ৭টি উপজেলা ব্যাপি সমান তালে উন্নয়নের ফলে অভ্যন্তরীন যোগাযোগের ক্ষেত্রে সৃষ্টি হয়েছে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। যার ফলে স্বল্প সময়ে সহজে গাড়ি যোগে যাতায়া করা যায় জেলার যে কোন প্রান্তে। বিশেষ করে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা প্রকৃতি প্রেমিরা সহজে উপভোগ করতে পারে দৃষ্টিনন্দন পর্যটন স্থান গুলো। যোগাযোগের উন্নয়নের ফলে ব্যবসার প্রসার ঘটেছে। সহজে যে কোন জায়গা থেকে পণ্য আদান প্রদান করতে পারছে ব্যবসায়ীরা। কর্মসংস্থান হচ্ছে বেকার লোকের।
ওই উন্নয়ন কর্মকান্ডের ফলে কর্মহীনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে (৪,৫০,০০০ জনদিবস) এবং সর্বোপরি গ্রামীণ দরীদ্র জনগণের জীবনমান বৃদ্ধিসহ আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটেছে এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।
জেলা এলজিডি অফিস সূত্রে জানা যায়, ৮ বছরে প্রায় ৬৬৩ কি:মি: পাকা সড়ক ১২৯৬ মিটার ব্রীজ/কালভার্ট, ২১৮ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১১ টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ১৩টি হাটবাজার/গ্রোথসেন্টার ও ভূমিহীন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ২২ টি বসতবাড়ী নির্মাণ করা হয়েছে।

জেলার পানিসম্পদ উন্নয়নে ৩২টি উপ-প্রকল্প বাস্তবায়ন সহ প্রায় ৬৪২ কি:মি: পাকা সড়ক, ১৮০ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১২৫ মিটার ব্রীজ/কালভার্টের সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়।
চলতি ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে এ জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়নে ১৫০ কোটি টাকার বিভিন্ন স্কীম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। যার মধ্যে অর্ন্তভুক্ত রয়েছে ৮৮ কি:মি: সড়ক পাকাকরণ, ২০০ মিটার ব্রীজ/কালভার্ট নির্মাণ, ৬ টি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ এবং ১৫৭ কি:মি: পাকা সড়ক ও ৪২ মিটার ব্রীজ/কালভার্টের সংস্কার কাজ।
এর মধ্যে ৫১ কি:মি: পাকা সড়ক এবং ১৪০ কি:মি: পাকা সড়ক ও ১০মি: ব্রীজ/কালভার্টের সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ কাজের বিপরীতে ৮ বছরে ব্যয় হয়েছে ৮০৮ কোটি টাকা।
এবিষয়ে এলজিইডি মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুল ইসলাম বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে এলজিইডি বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য একটি রোল মডেল এবং এ জেলায় একটি অত্যাধুনিক অভ্যন্তরীণ সড়ক নেট-ওয়ার্ক সৃষ্টির জন্য এলজিইডি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-২০৩০ (প্রথম, চতুর্থ ও নবম) অর্জনে এলজিইডি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.