
স্টাফ রিপোর্টার॥ অভিবাবকবিহীন নবজাতকে মৌলভীবাজারের শিশু আদালতের বিজ্ঞ বিচারক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জিম্মায় দিলেন। নবজাতকে উদ্ধারের পর এ বিষয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানায় পুলিশ জিডি করলে আদালত গত ১ জুন তারিখের এক আদেশে নবজাতক ছেলে শিশুটি দত্তক নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ আদালতে আবেদনের নির্দ্দেশ দেন।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানাযায় আব্দুল হাদী, মোঃ হারুন-উর রশিদ, সোহেনা আক্তার সুমী, মিনারা বেগম ও পারুল আক্তার এই ৫জন নবজাতক ছেলে শিশুটি দত্তক নেয়ার জন্য আবেদন করেন। ১২ জুন আদালতে এই ৫ জনের আবেদন তাদের পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী পৃথক ভাবে শিশুটি দত্তক নেয়ার জন্য উপস্থাপন করলে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আবেদন পর্যালোচনা ও দীর্ঘ শুনানী শেষে শিশু আইন ২০১৩ইং এর ধারা ৮৯ (গ) (ত), ৯৪,৮৪ (৩), ৮৫, ৬৮ ধারা বিশ্লেষণ পূর্বক অবিবাবকহীন শিশুটিকে সদর উপজেলার, নাদামপুর (হামরকোনা) এলাকার দিলসাদ উল্ল্যা ও হালিমা বেগমের পুত্র আব্দুল হাদী এবং পুত্রবধু মাসুদা বেগমকে উক্ত শিশুটিকে হেফাজতে দিলে শিশুটির অধিক কল্যাণ ও মঙ্গল নিশ্চিত মর্মে আদালত নির্দেশ দেন। এর আগে এ বিষয়ে গত ৫ জুন কয়েকটি শর্ত সাপেক্ষে শিশুর জিম্মা বিষয়ে শুনানী হয়। বিজ্ঞ আদালত ওই দিন কোন সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরবর্তী শুনানীর তারিখ ১২ জুন ধার্য্য করলে আদালত এ রায় দেন।
অভিবাবকবিহীন শিশুটি জিম্মায়/দত্তক নিতে আদালতে আবেদন করেন মোঃ হারুণ-উর-রশিদ ও মোছাঃ নুরজাহান খাতুন, সাং- করালি টিলা, কালেঙ্গা, উপজেলা- কমলগঞ্জ, সুহেনা আক্তার সুমী, স্বামী- তুয়েল আহমদ, সাং- বালিয়ারভাগ, ডাকঘর ও থানা মৌলভীবাজার, মিনারা বেগম, স্বামী-সেলিম আহমদ, সাং-টাট্রিউলি, ডাকঘর- কর্মধা, উপজেলা- কুলাউড়া, পারুল আক্তার, স্বামী- মোঃ আব্দুল হক, সাং- জানাউড়া, সিন্দুরখান, উপজেলা শ্রীমঙ্গল, সর্ব জেলা মৌলভীবাজার।
বিজ্ঞ আদালত রায়ে উলেখ করেন, হেফাজতে গ্রহণকারী দম্পত্তি শিশুটিকে দেশ বা আইনবিরোধী কোন কাজে নিয়োজিত করতে পারবেন না। তার সার্বিক কল্যাণে সর্বদা সচেষ্ট থাকবেন। শিশুটির জন্মদাতা পিতা-মাতা উপযুক্ত প্রমাণাদি সাপেক্ষে আদালতের অনুমতি ব্যতীত শিশুটিকে তাদের হেফাজত হতে গ্রহণ করতে পারবেন না। শিশুটির সার্বিক কল্যাণার্থে হেফাজতে গ্রহণ করার তারিখ হইতে ১৫ দিনের মধ্যে ২ লক্ষ টাকার শিক্ষা বীমা করে তাহার সমর্থনে কাগজাদি অত্র আদালতে দাখিল করিবেন।
শিশুটির নাম “মুক্ত” ঠিক রেখে আগামী ৭ দিনের মধ্যে অন্য কোন ইসলামী নাম ঠিক করে তা অত্র আদালতকে লিখিতভাবে অবহিত করবার জন্য হেফাজতে গ্রহণকারী দম্পত্তিকে নির্দেশ দেওয়া হইল। হেফাজত গ্রহণকারীর নিকট হতে একশ পঞ্চাশ টাকার নন জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে একটি ৫০ হাজার টাকা জিম্মানামা সম্পাদন পূর্বক অত্র আদালতে দাখিল করার জন্য অত্র মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
ঘটনার বিবরণ ও মৌলভীবাজার মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, ২৪ মে বুধবার সকাল ৯ টার দিকে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার হিলালপুর এলাকার ফতেপুর ভিলা নামীয় একটি বাড়ির দেয়ালের ভেতর তীর মিয়া নামে এক ব্যাক্তি ঘাস কাটতে গেলে দেখতে পান একটি নবজাতক জীবিত ছেলে শিশু পড়ে রয়েছে। পরে পুলিশকে খবর দিলে মডেল থানার ওসি সুহেল আহমদ সহ একদল পুলিশ ঘটনা স্থলে ছুটে যান। পুলিশ জীবিত শিশুটিকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ বিষয়ে পুলিশ ২৪ মে মৌলভীবাজার মডেল থানায় (জিডি নং ১৩৫১) জিডি করেন। এ ঘটনা তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয় এস আই শহীদুল ইসলামকে।
শিশুটির পিতা মাতার সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত ওসি সুহেল আহমদ প্রাথমিক দ্বায়িত্ব নেন। ওই দিন সারাদেশে বাল্য বিবাহমুক্ত দিবস ছিল। সে বিষয়টি চিন্তাকরে সেই দিন অভিবাবকবিহীন উদ্ধার হওয়া নাবজাতকটির নাম রাখেন মুক্ত।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.