
স্টাফ রিপোর্টার॥ লন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মৌলভীবাজারের একই পরিবারের ৫ জন সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।
১৫ জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে নিখোঁজ প্রবাসী কমরু মিয়ার মৌলভীবাজারের গ্রামের বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে জানা গেলো হৃদয় বিদারক সব কথা। তারা কি অবস্থায় আছেন স্বজনরা জানতে চান। বেঁচে না থাকলে তাদের লাশ যেনো দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।
স্বজনরা জানালেন, ৯০ বছর বয়সী কমর উদ্দিন কমরু মিয়া বছর খানেক ধরে সপরিবারে গ্রেনফেল টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাটে থাকেন। মঙ্গলবার রাতে ওই ভবনে আগুন লাগার প্রায় দুই দিন পেরিয়ে গেলেও খোঁজ মিলছেনা কমরু মিয়ার স্ত্রী সন্তান সহ পরিবারের ৫ সদস্যের।
নিখোঁজ প্রবাসী কমর উদ্দিন কমরু মিয়ার বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের খৈসাউরা গ্রামে। কমরু মিয়ার দুই স্ত্রীর মধ্যে প্রথম স্ত্রী জুলিখা বিবি (৭৫) তার তিন সন্তান সুজন মিয়া (৫০), মিনা বেগম (৫২) ও জোসনা বেগম (৬০) কে নিয়ে দেশে থাকেন।

কমর উদ্দিন কমরু মিয়া দ্বিতীয় স্ত্রী রাবেয়া বেগম ও তিন সন্তান আব্দুল হামিদ (৩২), আব্দুল হানিফ (২৫), হুসনা আক্তার তানিমা (২২) কে নিয়ে লন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ারে ২৪ তলা ভবনের ১৭ ও ১৮ তলায় থাকতেন। বড় ছেলে আব্দুল হাকিম (৩৫) বিয়ে করায় নববধূকে নিয়ে পার্শবর্তী ভবনে থাকতেন।
মঙ্গলবার রাতে গ্রেনফেল টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের পর থেকে স্বজনদের খোঁজ পাচ্ছেন না দেশে বসবাসরত কমরু মিয়ার পরিবার। তারা জানান, অন্য একটি ভবনে থাকার কারণে সন্তানদের মধ্যে বেঁচে আছেন শুধু আব্দুল হাকিম। এবং তিনি দেশে অবস্থানরত পরিবারের অন্যান্যদের সাথে ফোনে যোগাযোগ রাখছেন।
কমর উদ্দিন কমরু মিয়া দ্বিতীয় স্ত্রী রাবেয়া বেগম, ছেলে আব্দুল হামিদ, আব্দুল হানিফ ও হুসনা আক্তার তানিমা এখনও নিখোঁজ। ওরা আদৌ বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেছেন না পরিবারের সদস্যরা। তাই খুবই দুশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন তারা।
[caption id="attachment_24399" align="aligncenter" width="1024"]
কমরু মিয়া র পুত্র বাংলাদেশে অবস্থানকারী সুজন মিয়া [/caption]
দেশে থাকা কমর উদ্দিন কমরু মিয়া ও তার প্রথম স্ত্রীর সন্তান সুজন মিয়া কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, “আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবী জানাচ্ছি, আমাদের স্বজনের সন্ধান চাই, তার কি অবস্থায় আছেন আমরা জানতে চাই। যদি তারা মারা যান তা হলে তাদের লাশ যেনো দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।”
লন্ডনে অবস্থানরত কমরু মিয়ার ছেলে আব্দুল হাকিম বাংলাদেশে অবন্থানকারী ভাই সুজন মিয়াকে জানান, রাত আড়াইটার দিকে তানিমার সঙ্গে তার কথা হয়। সে বলছিল, ‘আমরা সবাই এখন বাথরুমে, আমাদের বের হওয়ার কোনো উপায় নেই, দোয়া করেন আমাদের যেন কষ্টে মৃত্যু না হয়। তার আকুতি এখনও আমার কানে ভাসে। পারলে আমাদের উদ্ধার করো। ঐ ফোন কলের পর তাদের কারও মোবাইলে রাত আড়াইটার পর থেকে আর যোগাযোগ করা যায়নি।
সুজন মিয়া জানান ২৯ জুলাই বিয়ে ছিল লন্ডনে অবস্থানকারী বোন তানিমার। গত ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে এসে ছিলেন। এ বছর তাদের ঈদের পর দেশৈ আসার কথা ছিলো। লন্ডনের এমন ভয়াভহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় উদ্বেগ উৎকন্ঠায় তার রয়েছেন।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.