
স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শ্রীধরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনধীর দাসের বিরুদ্ধে ওই স্কুলের সহকর্মী এক শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠলে উভয় পক্ষের মামলা ও তদন্ত চলাকালি অবস্থায় নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে বৃহস্পতিবার ১৫ জুন দুপুরে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রধান শিক্ষক রনধীর দাস। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক একই স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা কর্তৃক আনিত যৌন হয়রানির অভিযোগ মিথ্যা উল্লেখ করে বলেন, সহকারী শিক্ষিকা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় বিলম্বে স্কুলে আসতেন। তিনি এ বিষয়টি মৌখিক ভাবে সতর্ক করে দিলে শিক্ষিকা ও তার স্বামী দুলাল মিয়া তাকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিতেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক বলেন, সহকর্মী শিক্ষিকা দেরিতে স্কুলে আসার বিষয়টি জেলা অথবা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে ঘটনার আগে লিখিতভাবে না জানালেও মৌখিকভাবে জানিয়েছেন এবং প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে অদ্যবধি থানায় কোন জিডি করা হয়নি। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, হামলার দিন তিনি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির বিষয়াদি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে কথা বলে বাড়িতে ফেরার পথে অতর্কিত হামলার স্বীকার হন কিন্তু মামলার এজহারে উল্লেখ করেছেন ব্যক্তিগত কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে আক্রমনের স্বীকার হয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের দায়ের করা মামলার এজহার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ও সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য উল্লেখ করার বিষয়ে প্রশ্ন করলে প্রধান শিক্ষক রনধির দাস এড়িয়ে যান।

একজন সরকারী কর্মকর্তা হিসেবে অপর সহকর্মী সরকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উভয়ের অভিযোগের তদন্ত চলা অবস্থায় সংবাদ সম্মেলন করা না করার বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল আলিম এর কাছে জানতে চাইলে জানান, প্রধান শিক্ষক রনধীর দাস সংবাদ সম্মেলনের জন্য আমার কাছ থেকে কোন অনুমতি নেননি। উভয়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমাদের তদন্ত কাজ চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে এসময় অন্যানদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রুশন মিয়া, রুহেনা খানম, রাফিয়া বেগম, মইন উদ্দিন আহম্মদ ও অনুফ কুমার দেবরায় প্রমুখ।
উল্লেখ্য, মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায, গত ১৬ মে সকালে বিদ্যালয়ে প্রবেশের পর সহকারী শিক্ষিকা জাকেরা আক্তার দেখেন প্রধান শিক্ষক তাহার অফিস কক্ষে বসা। এসময় স্কুলে শিক্ষার্থী খুব বেশি আসে নাই। এ সময় প্রধান শিক্ষক জাকেরা আক্তারকে তার অফিস কক্ষে ডাকেন। অফিস কক্ষে ঢোকার সাথে সাথে প্রধান শিক্ষক কক্ষের দরজা আটকিয়ে শিক্ষিকার শীলতাহানী চেষ্টা করেন। প্রধান শিক্ষকের শীলতাহানীর আচরনে কক্ষ থেকে বের হয়ে শিক্ষিকা সজ্ঞাহীন হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে স্কুলের পাশের একটি বাড়ীতে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শিক্ষিকার বাড়ীতে পাঠানো হয়। স্ত্রীকে শীলতাহানী চেষ্টার বিষয়টি স্বামী জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান শিক্ষক রনধীর দাসকে ওই দিন সন্ধ্যায় লাঞ্চিত করেন।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.