
হোসাইন আহমদ॥ মৌলভীবাজার শহরের ব্যস্থতম সেন্ট্রাল রোডে শতাধিক শপিং মল, ব্যাংক, বীমা, বস্ত্রবিতান, রেষ্টুরেন্ট, বিভিন্ন কোম্পানীর শো-রুমসহ বড়বড় শপিং মল এবং বহুতল ভবন গুলোতে নেই কোন নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ক্রেতারা রাস্তায় গাড়ি দাড় করে কেনাকাটা করছেন। যার ফলে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে অন্যান্য বছরের মতো এই বছরও তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ দিনের এই যানজট নিরসনে কর্তৃপক্ষের নেই কোন কার্যকরী প্রদক্ষেপ। অভিযোগ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে রাস্তায় চলছে ব্যবসায়ীদের এই পার্কিং ব্যবস্থা। অনেকেইে দেখেও না দেখার বান করছেন। এনিয়ে কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
প্রবাসী অধ্যুষিত এ জেলার বাসিন্দাদের কাছে এমবি ক্লথ ষ্টোর ও বিলাস ডিপাটমেন্টাল ষ্টোর একই নামে পরিচিত। টেইলারিং ও জুতা থেকে শুরু করে এখানে পাওয়া যায় সব ধরনের পণ্য সামগ্রি। যার কারণে এখানে প্রবাসী ক্রেতাদের ভীড় থাকে সব সময়। ওই শপিং মহল দুটি সেন্ট্রাল রোডের পশ্চিমবাজার এলাকায় রাস্তার দু-পাশে একটির বিপরীতে অন্যটির অবস্থান। তাদের নেই কোন নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা। যার কারণে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ক্রেতারা বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে ঘন্টার পর ঘন্টা প্রাইভেট গাড়ি দাঁড় করে কেনাকাটা করতে দেখা যায়। শপিং মহল দুটি মুখামোখি থাকায় উভয় দোকানের গাড়িতে যাত্রী চলাচলের রাস্তার প্রায় অর্ধেক দখল হয়ে যায় ক্রেতাদের পার্কিংএ। ফলে ৫মিনিটের ওই রাস্তায় অতিক্রম করতে হয় ৩০ মিনিটে। চরম দুর্ভোগ পুহাচ্ছেন ঈদের কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ ক্রেতাদের।
মৌলভীবাজারের সেন্ট্রাল রোডে সবধরনের দোকান এবং অন্যান্য প্রতিষ্টান অবস্থিত। যাত্রীরাও এই রোড দিয়ে বেশি চলাচল করেন। যার ফলে তীব্র যানজট লেগে থাকে সবসময়। দুর্ভোগ পুহাচ্ছেন ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে আসা হাজার হাজার যাত্রী।
সরেজমিন গতকাল শহরের চৌমহনী পয়েন্ট থেকে সেন্ট্রাল রোড প্রদিক্ষণ করলে দেখা যায়, শহরের চৌমুহনী এলাকায় ৫তলা বিশিষ্ট আখিঁ প্লাজা, ৩ তলা বিশিষ্ট ওয়াছির প্লাজা, ৪র্থ তলা বিশিষ্ট আহমদ ম্যানশন, ৪র্থ তলা বিশিষ্ট জুলিয়া শপিং সিটি, বউরাণী বিউটি পার্লার, ৪র্থ তলা বিশিষ্ট হোসেইন মার্কেট, ৪র্থ তলা বিশিষ্ট হাজি মন্তাজ মিয়া ম্যানশন, ৪র্থ তলা বিশিষ্ট শরিফ ভিলা, পশ্চিমবাজার এলাকায় ৩য় তলা বিশিষ্ট রহমান প্লাজা, ৭তলা বিশিষ্ট ওয়েষ্ট পয়েন্ট, ৪র্থ তলা বিশিষ্ট হাজেরা ভবন, হোসেন ম্যানশন, ২তলা বিশিষ্ট সেলিনা স্টাইল, ৬ষ্ট তলা বিশিষ্ট কবির টাওয়ার, সেন্ট্রাল রোডের লট্ট শো-রুম, এপেক্স জুতার শো-রুম, সেভেন স্টার প্লাজা, সেরাটাউন প্লাজা, শাপলা ম্যানশন, ১০ তলা বিশিষ্ট আরণ টাওয়ার ও জেক্স টেক্সটাইলসহ আরও একাধিক ভবন ও দোকানে নেই কোন নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা। এ সকল বহুতল ভবনে শতাধিক শপিং মহল, ব্যাংক এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্টানের অবস্থান। ক্রেতারা বাধ্য হয়ে যাত্রী চলাচলের রাস্তার পাশে গাড়ি পার্কিং করে কেনাকাটা এবং ব্যাংক লেনদেন করছেন। ফলে ওই রাস্তায় চরম যানজটের সৃষ্টি হয়। চৌমুহনী হতে কুসুমবাগ যেতে ৫মিনিটের রাস্তা যেতে সময় লাগে ৩০মিনিট।
এসময় ঈদের কেনাকাটা করতে আসা কয়েকজন ক্রেতাদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, শপিং মহল গুলোতে পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় আমরা স্বাচ্ছন্দভাবে কেনাকাটা করতে পারছিনা। একস্থান থেকে অন্য স্থানে সহজে যাতায়াত করাও সম্ভব হচ্ছে না। যার কারণে আমাদেরকে অবর্ননিয় দূর্ভোগ পুহাতে হয়।
এবিষয়ে মৌলভীবাজার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিণিয়ার আবুল হোসেন বলেন, যে সময় এই শপিং মল গুলো নির্মাণ করা হয় তখন আইনীভাবে পার্কিং রাখার বাধ্যবাধকতা ছিলনা। কিন্তু ২০০৯ সালের পরে যে সকল বিল্ডিং নির্মাণ করা হচ্ছে সে গুলোতে পার্কিং এর ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.