কমলগঞ্জ প্রতিনিধি॥ যথাযোগ্য মর্যাদায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী মাধবপুর ইউনিয়নের পাড়–য়া বিলে সাঁওতাল পল্লীতে ১৬২ তম সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস পালন করা হয়।
শুক্রবার ৩০ জুন বিকাল সাড়ে চারটায় সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস পালন করা হয়।
সাঁওতাল নেতা লাল বাবু সরেনের সভাপতিত্বে ও জেমস সরেনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অনিল সাঁওতাল ও প্রভাষ সাঁওতাল। বক্তারা বলেন, ১৮৫৫ সালে ভারতের সাঁওতাল পরগনার বিভিন্ন এলাকায় সিঁধু কানুর নেতৃত্বে ব্রিটিশ শাসন ও শোষন নিপিড়ণ ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন সে বছর ৩০ জুন সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মাঝে বিদ্রোহের সৃষ্টি হয়। ব্রিটিশ সরকারের পুলিশ বাহিনী এ বিদ্রোহ দমনে সশস্ত্র অবস্থায় সাঁওতালদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। এতে বেশ কিছু সাঁওতাল শহীদ হয়েছিলেন। বক্তারা আরও বলেন, ১৬২ বছর পরও সাঁওতালরা নানাভাবে অবহেলিত। নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না।
দিবসটি পালনের পূর্বে পাড়–য়া বিলের সাঁওতাল লোকজন ১৬২ বছল আগে তাদরে বিদ্রোহের সময় ব্যবহৃত নিজেদের তীর ধুনকসহ দেশী অস্ত্রসহ বিদ্রোহের নাটিকা প্রদর্শন করেন। প্রধান অতিথি কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমদুল হক বলেন, আসলেই সাঁওতালদের নিজস্ব একটি সংস্কৃতি রয়েছে। পাড়–য়াবিলে ৬০ পরিবার সাঁওতাল বসবাস করছেন। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে এ পল্লীতে একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করে দেওয়া হবে। তাদের পল্লীতে বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদান করা হবে। তাছাড়া স্বাস্থ্য সম্মত লেট্রিন (পায়খানা) স্থাপন করেও দেওয়া হবে। তাছাড়া শিক্ষা, সংস্কৃতি ও চাকুরী ক্ষেত্রে পাড়–য়া বিলের সাঁওতাল পরিবার সদস্যদের যোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ সৃষ্টি করেও দেওয়া হবে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.