স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজ প্রতিবন্ধী ছেলে আরিফকে তার বাবা-চাচা ও সহযোগীরা মিলে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিবন্ধী হত্যা মামলার আসামীর ছেলে তোফায়েল আহমেদ উজ্জল। তিনি আরিফকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে নিরপরাধ মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।
বৃহস্পতিবার ৬ জুলাই দুপুরে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করে তিনি লিখিত বক্তব্য দেন। এ সময় এলাকার প্রবীন মুরব্বিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শ্রীমঙ্গলের কালাপুর ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামে ২৪ জুন একটি বাড়ির মহিলাদের মধ্যে পুকুরে থালা-বাসন ধোয়াকে কেন্দ্র করে ঝগড়া হয়। পরে পুরুষ সদস্যরা এতে জড়িত হয়ে পড়েন। এ সময় জনৈক আরবেশ আলীর ১৭ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী কিশোর আরিফকে তার চাচা ইয়াকুত মিয়া কোলে করে উঠানে এনে ইয়াকুত ও আরবেশ আলী মিলে তাকে মারপিট করতে থাকে।
এক পর্যায়ে তাকে তাদের নিকটআত্মীয় শামসুল হকের সিএনজিতে করে ইয়াকুত, বিলাল ও মসকুল মিলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। বাদীপক্ষের অন্যান্য লোকরা রাত ৮টার দিকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও নিহত আরিফকে রাত ১০টায় এনে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এই দুই ঘণ্টা সময় আরিফকে কোথায় রাখা হয়েছিল তা সাংবাদিকেদর উদঘাটনের জন্য তোফায়েল আহমদ উজ্জ্বল অনুরোধ জানান। এছাড়া যাদের আসামী করা হয়েছে তাদের বাড়ি বাদিপক্ষের বাড়ী থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
বক্তব্যে আরো জানানো হয়, প্রায় ৩ মাস পূর্বে একই গ্রামের সঞ্জব আলী নামে এক পঞ্চাশোর্ধ ব্যক্তি খুন হন। নিহত আরিফের পিতা আরবেশ আলী সেই খুনের মামলার ১২ নং আসামী হিসাবে জেল হাজত থেকে সম্প্রতি জামিনে বেরিয়ে আসে। এ থেকেই প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে আরবেশ আলী ও তার সহযোগীরা মিলে প্রতিবন্ধী আরিফকে হত্যা করে সাঞ্জব হত্যা মামলার বাদীপক্ষের আত্মীয়-স্বজনদের নামে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, নিহত আরিফ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজসেবা অধিদপ্তরের একজন তালিকাভুক্ত প্রতিবন্ধী ভাতাপ্রাপ্ত শিশু। প্রতিবন্ধিতা জরিপ অনুসারে সে তীব্র প্রতিবন্ধী। সে হুইল চেয়ার ব্যবহার উপযোগী, স্বাভাবিক কথাবার্তা বলতে বা বুঝতে অক্ষম, সে হাঁটা চলা করতে পারে না, নিজের পোষাক-পরিচ্ছেদ পরিধান করতে পারে না, যেখানে সেখানে প্রস্রাব পায়খানা করে। কিন্তু হত্যা মামলার এজাহারে আরিফের মতো একজন চলাচল অযোগ্য, স্বাভাবিক জীবন যাপন বঞ্চিত একজন তীব্র প্রতিবন্ধীকে সুস্থ্য ব্যক্তি হিসাবে প্রমাণের চেষ্টা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে হাজীপুর গ্রামের প্রবীন ব্যক্তি হাজী মছদ্দর আলী, হাজী মোস্তাব উদ্দিন, হাজী বোরহান উদ্দিন, মো. আব্দুল আজিজ, কালাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ খোরশেদ আলীসহ এলাকার ২০/২৫ জন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রতিবন্ধী আরিফুলের হত্যা রহস্য উন্মোচনসহ প্রকৃত হত্যাকারীদের বিচারেরও দাবি জানান।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.