হোসাইন আহমদ॥ বন্যায় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার হাইল হাওরে বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদনকারী ৬টি ফিসারীর অন্তত ৫০টি পুকুর তলিয়ে প্রায় ৭ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ফলে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন ফিসারীর মালিকরা। এর মধ্যে অনেকেই ব্যাংক ঋণ নিয়ে ফিসারী করলেও এখন তারা সর্বশান্ত। বেকার হয়ে পড়েছেন ফিসারীতে কর্মরত অন্তত দুই’শ কর্মচারী। খোঁজ নিয়ে জানাযায় এছাড়াও সদর ও রাজনগর উপজেলার ছোট-বড় আরোও বেশ কয়েকটি ফিসারী তলিয়ে মালিকদের লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ উন্মুক্ত জলাসয়ে বাহির হয়ে গেছে।
এবিষয়ে ফিসারীর মালিকদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, হাইল হাওর এগ্রো ফিসারীজ লিঃ এর প্রায় আড়াই কোটি, প্রণ হেচারী এন্ড নার্সারী লিঃ এর প্রায় দেড় কোটি, আল-খায়ের এগ্রো ফার্ম লিঃ এর প্রায় ১ কোটি ১৫ লক্ষ, ডিজিটাল এগ্রো ফিসারীজ লিঃ এর প্রায় ৮৫ লক্ষ, করিমপুর এগ্রো ফিসারীজ লিঃ এর প্রায় ১ কোটি ও কুশিয়ার এগ্রো ফার্ম লিঃ এর প্রায় ৩০-৩২ লক্ষ টাকার মাছ উন্মুক্ত জলাসয়ে চলে গেছে। একাধিক বার নেটের বেড়া দিয়েও মাছ আটকে রাখা সম্ভব হয়নি।
তারা আরোও জানান, বিগত ১২মাস মাছ চাষ করে বিক্রয়ের সময় সর্র্বনাশা বন্যায় পুকুর তলিয়ে ২-৩ কেজি ওজনের রুই, কার্পো, বাউস, তেলাপিয়া, মিগেলসহ আরো বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বাহির হয়ে গেছে। ব্যাংক ঋণ মাথায় নিয়ে দিশাহারা এবং আগামী মৌসুমে কিভাবে আবার মাছ চাষাবাদ করবেন সেই দুশ্চিন্তায় দিনকাল কাটছে তাদের।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বন্যায় হাইল হাওরের নাজিরাবাদ ইউনিয়নের ৩৬০ হেক্টর ও গিয়াসনগর ইউনিয়নের ১৯৯ হেক্টর বোরো ধান তলিয়ে ১ হাজার ৭৯ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুছ আখন্দ বলেন, বন্যায় ওই ফিসারী গুলো ছাড়াও জেলার আরোও বিভিন্ন এলাকার ফিসারী তলিয়ে মালিকদের ক্ষতি হয়েছে। এবিষয়টি আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।
উল্লেখ্য, হাইল হাওরে যাতায়াতকৃত পানি উন্নয়ন বিভাগ নির্মিত আলগাটা ব্রীজ দিয়ে যথাযত পানি নিষ্কাসন না হওয়ায় গ্রামবাসীর ফলনকৃত বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ায় এলাকার লোকজন গত বছর ব্রীজের কাছাকাছি প্রায় ৩০-৩৫ হাত রাস্তা কেটে দিলে হাইল হাওর এগ্রো ফিসারীজ, ডিজিটাল এগ্রো ফিসারীজ ও প্রণ হেচারী এন্ড নার্সারী’র সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে ওই ফিসারীর মালিকরা তাদের ফিসারীর উৎপাদনকৃত মাছ বিক্রি করতে না পারায় লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.