
স্টাফ রিপোর্টার॥ নানা অপকর্মের হোতা, যৌন নিপিরণকারী, নারী লোভী, প্রতারক ও মামলাবাজ মৌলভীবাজারের আলোচিত সাইফুল ইসলাম সজিবের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে জেলার সর্ব স্থরের মানুষ। মুঠোফোনে সাংবাদিকরা মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে সুস্পষ্ঠ উত্তর না দিয়ে ৫৭ ধারায় মামলা দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন। তার প্রতারনার হাত থেকে পরিবারের সদস্যরাও রক্ষা পায়নি। অব শেষে সজিবের মা তার কাছে প্রতারনার স্বীকার হয়ে বিনা চিবিৎসায় মারা যান।
নানা অপকর্মের হোতা সজিবের প্রতারনা এখনো থেমে নেই। সম্প্রতি শহরের শাহ মোস্তফা সড়কে বিক্রম ভলকানাইজিং থেকে প্রাইভেট কারের দুটি পুরাতন চাকা ক্রয় করে ৫ হাজার টাকা দিয়ে। গাড়ীতে লাগানোর পর ট্রায়েল দেয়ার কথা বলে প্রতারনা করে চলে যায়। প্রাপ্য টাকার জন্য বিক্রম ভলকানাইজিং এর মালিক মুঠোফোনে সজিবের কাছে টাকা চাইলে তাকে প্রানে হত্যার হুমকি দেয়া হয়।
প্রতারক সজিব সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে গত ১৩ ও ১৪ জুলাই মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজের দুটি রুম ২০৬ ও ২০৮ নং কক্ষ ভাড়া নেয়। সে গত ২দিন ওই ভূয়া পরিচয়ে এরশাদ নামের এক ব্যাক্তি সহ আরো কয়েকজনকে নিয়ে সার্কিট হাউসে অবস্থান করে। এ বিষয়ে সার্কিট হাউজের দায়িত্বরত অফিসার (এনডিসি) জেপি দেওয়ান বলেন, সাইফুল ইসলাম সজীব সার্কিট হাউসে অবস্থান নেওয়ার পর থেকেই সজীবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ আসে। পরে আমরা যখন জানতে পেরেছি যে-ওই ব্যাক্তি (সজীব) সরকারি কর্মকর্তা ও ভিআইপি ক্যাটাগরীর কেউ নয় তখন তাকে আমরা ১৫ জুলাই শনিবার সকালে সার্কিট হাউজ থেকে বের করে দেই।
সাইফুল ইসলাম সজিবের প্রতারনার স্বীকার হয়ে বিনা চিকিৎসায় তার সৎ মা মারা যান। এ ঘটনা শুনে অনেকেই হতবাক হয়ে পরেছেন। সজিবের বাবা হাবিবুর রহমান ৪টি বিয়ে করেন। এক বাবা ও ৪ মায়ের সন্তান ভাই বোন মিলে তারা মোট ১৫ জন। সজিবের মা জয়বান সজিবকে ১ মাস বয়সে রেখে মারা যান। সৎ মা হাওয়ারুন বেগম বুকের দুধ খাওয়ান ও তাকে লালন পালন করে বড় করে তোলেন। এক সময় সৎ মা ক্যানসার রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজন দেখা দেয়। সৎ মায়ের চিকিৎসা করার জন্য ২ শতাংশ জমি বিক্রি করে সজিবের সৎ ভাই জহিরুল ইসলাম মাসুক উদ্যোগ নেন। এ সময় সজিব আগ্রহ প্রকাশ করেন জমি ক্রয়ে। ২ শতাংশ জমির মুল্য নির্দারন করা হয় ১০ লক্ষ টাকা। সজিব বিভিন্ন সময়ে সৎ মায়ের ঔষধ বাবৎ দেয়া ৩০ হাজার টাকা কর্তন করার কথা বলেন। সৎ ভাই জহিরুল ইসলাম মাসুক ও নাজমুল ইসলাম রুবেল তাদের নিজ মাকে বাঁচানোর জন্য রাজি হন তাদের মায়ের নামীয় জমি রেজিষ্ট্রি করে দিতে। সজিবের সাথে কথা হয় জমি রেজিষ্ট্রির পর পুরো টাকা দিয়ে দিবে। রেজিষ্ট্রি হওয়ার পর পর সজিব দ্রুত ঢাকা চলে যায়। মায়ের চিকিৎসার জন্য সৎ ভাই মাসুক জমি বিক্রির টাকা চাইলে সজিব এক পর্যায়ে মৌলভীবাজার এসে শহরের শ্রীমঙ্গল সড়কস্থ’ লিয়াকত মটরর্স থেকে একটি ব্যবহৃত রাহুল অটো রিক্সা বাকীতে ক্রয় করে দেন। এবং অটো রিক্সার আয় থেকে সৎ মা হাওয়ারুন বেগমের চিকিৎসা ব্যয় চালানোর কথা বলে ঢাকায় চলে যান। অটো রিক্সাটি পূরাতন হওয়ায় প্রায়ই বিকল্প হয়ে পরে থাকতো বাড়িতে। এক পর্যায়ে অর্থাভাবে ও বিনা চিকিৎসায় সজিবের দুধ মা হাওয়ারুন বেগম মারা যান। মায়ের নামাজে জানাজায়ও সজিব আসেনি। কয়েকদিন যেতে না যেতেই জমি দখল নিতে ভাইদের বিরুদ্ধে নানা কৌশল ও মিথ্যা মামলা দায়ের করে সজিব। প্রায় সময় বাড়িতে ভূয়া পুলিশ ও র্যাব সদস্য বানিয়ে বাড়িতে নিয়ে যেতেন সজিব। মুঠোফোনে ভাইদের উপর হুমকি ও বাড়ি খালি দেয়ার জন্য অশ্লিল কথাবার্তা।
এ বিষয়ে জহিরুল ইসলাম মাসুক জানান, মায়ের চিবিৎসার ১০ লক্ষ টাকায় ২ শতাংশ জমি বিক্রি করেন সজিবের কাছে। ওই দলিলে আমি সহ আরো ২ ভাই স্বাক্ষি হই। কিন্তু সজিব জমি বিক্রির টাকা না দেয়ায় বিনা চিকিৎসায় প্রতারনার স্বীকার হয়ে মারা যান তার মা হাওয়ারুন বেগম মারা যান।
৫ জুলাই মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সজিব পিটিশন মামলা দায়ের করলে আদালত ওই দিন পুলিশ সুপারকে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন। আদালত থেকে কাগজপত্রাদি পৌঁছালে ৯ জুলাই মৌলভীবাজার মডেল থানায় একটি মামলা হয়। নিজের নানা অপকর্ম ঢাকতে এখন এমন নতুন ফন্দি মামলা। মামলা গ্রহনের পর থেকে তার নানা অপকর্ম ও প্রতারনার খুঁজে গনমাধ্যম কর্মীরা মাঠে নেমেছেন। জেলার বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিক সহ নানা শ্রেনী ও পেশার মানুষ প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করতে থাকলে প্রতি দিন তার অপকর্মের খবর ক্ষতিগ্রস্তরা নিয়ে আসছেন গনমাধ্যম কর্মীদের কাছে।
জানাযায়, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সার্কেলের সাবেক এএসপি (বর্তমানে ডিএমপিতে কর্মরত) আলমগীর হোসেনসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে হেফাজতে নির্যাতন, ছিনতাই ও হয়রানির অভিযোগে মামলা করেন সজিব।
মামলার অপর আসামিরা হলেন মৌলভীবাজার মডেল থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ মো. আবদুছ ছালেক, এসআই মোঃ নাজিম উদ্দিন, এসআই মঞ্জুরুল হাসান মাসুদ, এসআই মো. আবদুল হাশিম এবং মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও এনটিভির প্রতিনিধি এসএম উমেদ আলী, সাংবাদিক আজিজুল হক বাবুল ও আবদুল মালেক মনি।
এই মামলার প্রেক্ষিতে সংবাদের জন্য তথ্য সংগ্রহ করতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে একাধীক সংবাদিককে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ, ৫৭ ধারায় মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেন সজিব। তার এমন অশালীন আচরণ ও প্রাণ নাশের হুমকির প্রেক্ষিতে সিনিয়র সাংবাদিক এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের জেলা প্রতিনিধি সৈয়দ মহসিন পারভেজ ও মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে জিডি করেন। আবার অনেকেই জিডি করেননি।
এদিকে জেলার ৭ উপজেলায় সাংবাদিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক ব্যাক্তি বর্গের উদ্যেগে মানববন্ধন অব্যাহত রয়েছে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.