জুড়ী প্রতিনিধিঃ টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের জুড়ী, কুলাউড়া ও বড়লেখা উপজেলায় হাকালুকি হাওরে পানি বেড়ে গেছে। এ অবস’ায় ফসল হারানোর শঙ্কায় কৃষকেরা আধাপাকা বোরো ধান কাটা শুরু করেছেন। সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি কার্যালয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জুড়ীতে ৫ হাজার ৪৫০ হেক্টর, কুলাউড়ায় ৬ হাজার ৪৯০ হেক্টর ও বড়লেখায় ৪ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। তিন-চার দিন ধরে বৃষ্টি হওয়ায় উজানের পাহাড়ি ঢলে হাকালুকি হাওরে পানি বেড়ে গেছে। সরেজমিনে গতকাল সোমবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে জুড়ীর জায়ফরনগর ও পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় দেখা গেছে, হাওরের বেশ কিছু জায়গা তলিয়ে গেছে। সেখানকার জমি থেকে কৃষকেরা বোরো ধান কাটছেন। অনেকে কাটা ধান আঁটি বেঁধে এনে শুকনো স’ানে স্তূপ করে রাখছেন। কাঁধভারে করে ধানের আঁটি নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে জায়ফরনগর গ্রামের শফিক মিয়া বললেন, ‘১০ কিয়ারে (বিঘা) ব্রি-২৮ ও ২৯ জাতের ধানের খেত করছি। খুব ভালা ফসল হইছে। এখনো আধাপাকা রইছে। আওরে পানি বাড়িয়া খেতে ঢুকি গেছে। তাই, ডরে কাটানি শুরু করি দিছি। আইজ মাত্র দুই শতকের কাটছি।’ একই গ্রামের খায়রুল ইসলাম হাওরের ২০ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন। এর মধ্যে ছয় বিঘা তলিয়ে গেছে। খায়রুল বলেন, ‘কষ্টের ফসল তো রক্ষা করতে অইব। নিজেই ধান কাটতে নামছি।’ হাওরের কানকইরচক এলাকায় ধান কাটতে ব্যস্ত চাটেরা গ্রামের আকমল আলী বলেন, ‘আকাশের অবস’া ভালা না। ধান কাটা ছাড়া উপায় নাই।’ জায়ফরনগরের মহেষ দাস ১২ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন। ধান কাটার জন্য দুই দিন ধরে খোঁজ করেও শ্রমিক পাচ্ছেন না। মহেষ বলেন, ‘চিন্তায় পড়ি গেছি। ফসল বাঁচাইতাম কেমনে।’ এলাকাবাসী জানায়, কুলাউড়ার ভূকশিমইল, ভাটেরা, ও জয়চন্ডী ইউনিয়ন এবং বড়লেখার সুজানগর, তালিমপুর, বর্ণি ও দাসেরবাজার ইউনিয়নে হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন এলাকায়ও বোরো ধান কাটা শুরু হয়ে গেছে। জুড়ী উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা দেবল সরকার বলেন, ‘পাহাড়ি ঢলে হাওরে পানি বাড়ছে। তবে বৃষ্টি কমলে জমি থেকে পানি নেমে গেলে ফসলের তেমন ক্ষতি হবে না।’ কুলাউড়ার কৃষি কর্মকর্তা এম এম শাহনেয়াজ ও বড়লেখার কৃষি কর্মকর্তা মো. কুতুব উদ্দিন জানান, হাওরে পানি বাড়লেও তাঁদের এলাকায় এখনো ফসলের তেমন ক্ষতি হয়নি।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.