
স্টাফ রিপোর্টার॥ অকাল বন্যা ও পাহাড়ী ঢলে ক্ষতিগ্রস্থ মৌলভীবাজারের মানুষগুলো সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব। বন্যা তাদের সব কিছু কেড়ে নিয়েছে। হাওরপাড়ের মানুষের মাঝে নেই কোন সুখের ছাড়া। সামনে সবকিছুই অন্ধকার। কেমন কাঠছে হাওরপাড়ের মৎস্যজীবিদের দিনকাল। দু’মুটো ভাতের জন্য পিতার হাতের দিকে চেয়ে আছে ছেলেমেয়রা। কিন্তু বাবার জালে মাছ না ধরা পড়ায়, ছেলে-মেয়েদের জন্য অন্য জোগাতে পারছেন না মৎস্যজীবি বাবা।
অকাল বন্যার ফলে বড়লেখা, জুড়ি, কুলাউড়া, রাজনগরসহ পাঁচটি উপজেলার হাওরপাড়ের জনজীবনে এখনো চলছে হাহাকার। বন্যার পানি কমলেও জলাবদ্ধতায় টইটুম্বুর জেলার মৎস ভান্ডার হাকালুকি, কাউয়াদিঘী ও হাইল হাওর। তাই অন্য বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম মাছ ধরা পড়ছে জেলেদের জালে। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছে হাওর পাড়ের জেলে পরিবার।
হাওরগুলোতে কম মাছ ধরা পড়ায় জীবিকার সংকটে পড়েছেন মৎস্যজীবীরা। তাদের ঘরে চলছে অভাব-অনটন। হাওরাঞ্চলের বাড়িঘর থেকে বন্যার পানি নামলেও হাওরে এখনো স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পানি। ভাসান পানিতে তাই মাছ মিলছে কম।
মাছ ধরা না পড়ায় এবং বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন অনেক জেলে। সরকারি ত্রাণ সহায়তাও পাচ্ছেন না সবাই।
জুড়ী উপজেলার হাকালুকি হাওর পাড়ের জেলে জমির আলী জানান, এই বছর হাওরে বেশি পানি থাকার কারণে জালে মাছ কম ধরা পরছে। অন্যান্য বছর আমরা জালে গিয়ে জন প্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা রুজি হত এ বছর রুজি নাই বললেই চলে। কোন রকম খেয়ে না খেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে আছি।’
বড়লেখা উপজেলার হাকালুকি হাওর পাড়ের এক জেলে জানান, হাওরে পানি বেশি থাকার কারনে পানিতে ঢেউ থাকে বেশি তাই জালে এ বছর মাছ কম ধরা পড়ছে।
রাজনগর উপজেলার কাউয়াদিঘী হাওর পাড়ের আরেক জেলে বলেন, এই বছর হাওরে খুব বেশি পানি এর সাথে বাতাস ও খুব বেশি। অনেক সময় বাতাসের কারণে জাল দিয়ে মাছ ধরা যায়না। ঝুকিও থাকে অনেক। আর মাছ চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তাই জালে ধরা পড়ছেনা।
জেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সারা জেলায় ১৩ হাজার ৪০০ নিবন্ধিত মৎস্যজীবী আছেন। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিবন্ধনের বাইরেও অনেক মৎস্যজীবী রয়েছেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল কুদ্দুছ আকন্দ বলেন, ‘এবার আগাম বন্যা হওয়ায় মাছের উৎপাদন ভালো হয়েছে। তবে এই সময়ে মাছ কিছুটা কম ধরা পড়ে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.