
ওমর ফারুক নাঈম॥ ছোট বড় সব দোকানীদের একই অবস্থা। নেই আগের মত ক্রেতা। এখন ক্রেতা শূন্যতায় নদী ও হাওর পাড়ের দোকানীরা। প্রায় ৬ মাস থেকে দফায় দফায় বন্যা। দীর্ঘ বন্যায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা। এখন গেল কয়েক দিন থেকে আবার উজানের নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও টানা বৃষ্টিতে ৪র্থ দফা বন্যার আভাস। সব মিলিয়ে এবছর অকাল বন্যা ও নদী ভাঙনের প্রভাব পড়েছে এজেলার ঈদ বাজারেও। দোকানীরা জানালেন অন্য বছরের মত ক্রেতাকম এবছর। জেলার হাওর ও নদী তীরবর্তী এলাকার হাট বাজারের ব্যবসায় এমন বেহাল দশা। জানা গেল স্থানীয় হাট বাজার গুলোতে এসময় জমজমাট বিকিকিনি হলেও এবছর অন্য দৃশ্য। ঈদের বর্ণিল সাজে দোকানগুলো সাজালেও ক্রেতাকম। কারণ একটাই এমন দূর্যোগের পর হাত খালি স্থানীয় মানুষের। এবছর একের পর এক দূর্যোগ। এমন প্রাকৃতিক দূর্যোগে দিশেহারা এজেলার হাওর ও নদী তীরের মানুষ। বোরো ধানের পর মাছ। এরপর হাঁস,জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ। সবই গ্রাস করেছে উত্তাল হাওর। ভারী বর্ষণ আর উজানের পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট চৈত্রের অকাল বন্যায় সব হারিয়ে নি:স্ব এজেলার হাইল হাওর,কাউয়াদিঘি আর হাকালুকি হাওর পাড়ের মানুষ। পাহাড়ী ঢল আর ভারী বর্ষণে দফায় দফায় নদী ভাঙ্গনে সৃষ্ট বন্যায় চরম ক্ষতিগ্রস্থ নদী তীরের কৃষককূল।
জেলার মনু,ধলাই,ফানাই,সুনাই ও জুড়ী নদীর তীরবর্তী কয়েক লক্ষ মানুষের মধ্যে এখনো অধিকাংশ বাসিন্ধারা রয়েছেন পানিবন্ধী। দু’ বেলা দ‘ুমুঠো ভাতের জন্য পরিবার বাঁচাতে যাদের দৌড়ঝাঁপ ঈদ বাজারের দিকে তাকানোর ফুরসদটা কোথায়। এমনটিই জানালেন জেলার হাওর ও নদী তীরের কৃষি ও মৎজীবীরা। তারা জানালেন এবছর যেন মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে এসেছে বৃষ্টি। গেল কয়দিনের টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় তারা এখন ঘর বাড়ি হারা। তাই ঈদ এলেও তারা এখন চরম অসহায়। একদিকে হাতে নেই টাকা। অন্যদিকে গৃহহীন। তাদের ছেলে মেয়েরা ঈদের নতুন জামা কাপড়ের আবদার করলে তারা শুধুই দু’চোখের জল ফেলে নীরবে তা সইছেন। বাজারের দোকান গুলোতে ঈদ উপলক্ষে দোকানীদের আয়োজনের কমতি নেই। কিন্তু স্থানীয় মানুষের সাধ্যটা কোথায়। এবছর দেশের সবচেয়ে বড় হাওর হাকালুকি হাওরের অকাল বন্যায় শতভাগ বোরো ফসল হারানো মানুষের আহাজারি থামেনি এখনো। অন্যদিকে জেলার মনু, ধলাই, ফানাই ,সুনাই ও জুড়ী নদীর ভাঙনের কবলে সব হারিয়ে নি:স্ব নদী তীরের মানুষ। দফায় দফয় ভারী বৃষ্টি আর উজানের পাহাড়ী ঢল সব কেড়ে নিয়েছে তাদের। স্থানীয় মানুষের এমন ক্ষয়ক্ষতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে জেলার উপজেলা গুলোর হাওর ও নদী তীরবর্তী ছোট বড় বাজার গুলোর ঈদ বাজারে। স্থানীয় এ দোকান গুলোতে অনেকটাই অলস সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা।
প্রবাসী অধ্যুষিত এজেলায় প্রাকৃতিক দূর্যোগ হলেও তা অকেটা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হলেও এবছর ভিন্ন অবস্থা। এবছর একের পর এক বয়ে চলা প্রাকৃতিক দূর্যোগ এর আগে কখনো দেখেনি এ অঞ্চলের মানুষ। আর এক সাথে অধিক সংখ্যক মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় তা কাটিয়ে উঠাও হচ্ছে কষ্ঠকর। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মত এ অঞ্চলে বন্যা খরা কিংবা যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঈদ বাজারে খুব একটা প্রভাব পড়ে না। রোযার প্রথম সপ্তাহ পর থেকেই কাপড়ের দোকানগুলোতে কেনাকাটার ধুম পড়ে। কিন্তু এবার পুরো জেলায় পরিলক্ষিত হচ্ছে ভিন্নচিত্র। দূর্যোগ মোকাবেলায় হিমশিম খাওয়া লোকজন পরিবারের খাওয়া বাচাঁর নিয়ে দুশ্চিন্তায়। তাই আসছে ঈদের কেনাকাটায় খুব একটা আগ্রহ নেই তাদের।এর অন্যতম কারণ অকাল বন্যা আর নদী ভাঙন। বয়ে চলা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দিন দিন বাড়ছে ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা। আগে ও এখনাকার দূর্ভোগে পড়া লোকজনের সংখ্যা ৬-১৭ লাখ। এমন কারনেই ভাটা পড়েছে স্থানীয় বাজার গুলোতে কেনাকাটায়। হাওর ও নদী তীরবর্তী কয়েকটি উপজেলার স্থানীয় বাজার গুলোর দোকানীরা জানান রমযানের প্রথম সপ্তাহ পর থেকে তাদের দোকান গুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভীড় পরিলক্ষিত হতো, অথচ এবার যেন ঠিক বিপরীত চিত্র। বিক্রি ভালো না হওয়ায় তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কারন তারা ঈদ মৌসুমের কেনা বেচা দিয়েই ঠিকিয়ে রাখেন তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এখনো আশানুরুপ ক্রেতারা দোকান গুলোতে না আসায় তারা পড়েছেন হতাশায়। এবছর দফায় দফায় প্রাকৃতিক দূর্যোগে বির্যস্ত এজেলার হাওর ও নদী তীরের মানুষগুলো চরম ক্ষতিগ্রস্থ থাকায় স্থানীয় বাজার গুলোতেও জমে উঠেনি ঈদ বাজার।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.