
সাইফুল ইসলাম॥ শ্রীমঙ্গল উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাধানগর পাহাড় অশান্ত হয়ে উঠেছে। পাহাড়ি এ জনপদ পর্যটনের জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠায় প্রভাবশালী মহলের নেক নজরে পড়েছে এলাকাটি। জমি দখল নিয়ে এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকার নিরিহ লোকদের হয়রানি করা হচ্ছে। জমি দখলে নিতে আদিবাসী সাঁওতাল সম্প্রদায়ের লোকদের ঢাল হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে। আর এসবের নেপথ্যে রয়েছেন আবু দাইয়ান চৌধুরী ওরফে টুনু চৌধুরী নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি।
২৭ অক্টোবর শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১ টায় শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমনই অভিযোগ করেন রাধানগর গ্রামের ষাট বছরের বৃদ্ধ মো. মতিন মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২৫ অক্টোবর দুপুর ও রাতে সন্ত্রাসীরা বালিশিরা পাহাড় মৌজার ২ নং ব্লকের ৮৪ খতিয়ানের ১৫ শতক জমি দখলের জন্য হামলা করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে সন্ত্রসীরা পালিয়ে যায়। ওইদিন রাতেই আবু দাইয়ান ওরফে টুনু চৌধুরীর কথিত পুত্র ছাত্রলীগ নামধারী কামাল ও রতিশ সাঁওতালের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন সন্ত্রাসী বিভিন্ন ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুনরায় হামলা চালায়। হামলাকারীরা এ সময় লেবু-আনারস ও সার রাখার ঘরটি ভাঙচুর করে। ঘটনাটি তিনি মোবাইল ফোনে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও পুলিশকে জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগে সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়।
লিখিত বক্তব্যে মতিন মিয়া আরও বলেন, ২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি ওই জমির ভোগদখল সত্ত্ব রতিশ সাঁওতালের বাবা উদয় সাঁওতালের কাছ থেকে তিনি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যে ক্রয় করেন।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মতিন জানান, রতিশ জানেন এই জমির ভোগদখল সত্ত্ব তিনি তার বাবার কাছ থেকে কিনেছেন। কিন্তু ভূমিখেকো প্রভাশালী মহলের ইন্ধনে রতিশ এই জমি নিয়ে কিছুদিন পরপর হাঙ্গামা বাধাচ্ছে। প্রভাবশালী মহলটি কে বা কারা জানতে চাইলে মতিন কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন ‘আমি নাম প্রকাশ করতে চাই না। নাম বললে তারা আমাকে মেরে ফেলবে।’ সাংবাদিকরা একের পর এক এ বিষয়ে প্রশ্ন করতে থাকলে একসময় তিনি বলেন, ‘টুনু চৌধুরী পেছন থেকে ইন্ধন দিচ্ছেন। তার কথিত পুত্র কমালের নেতৃত্বে হামলা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে তিনি তার বসতবাড়িটি ৯২ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। এ সময় টুনু চৌধুরী তার কাছে ১০ লাখ টাকা চান। টাকা না দেওয়ায় টুনু চৌধুরী তার উপর ক্ষেপে যান। এরপর থেকেই রতিশকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তার পুত্র কামালের নেতৃত্বে হামলা চালানো হচ্ছে।
জানতে চাইলে আবু দাইয়ান চৌধুরী ওরফে টুনু চৌধুরী বলেন, তিনি এসব ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানেন না।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সত্যবান বাউরী, শ্রীরাম প্রসাদ প্রমুখ।
শ্রীমঙ্গল থানার ওসি কেএম নজরুল বলেন, একটি জমি নেয় সমস্যা হচ্ছে মেম্বারের নিকট থেকে এ খবর পেয়ে আমি সাথে সাথে ফোর্স পাঠিয়েছি। আসলে কার জমি কি আসয় বিষয় এগুলোতো আমরা জানি না। তাই এখানে যাতে কোন দাঙ্গা হাঙ্গামা যাতে না হয় এরজন্য যার যার আবস্থানে থাকার জন্য বলা হয়েছে। তিনি বলেন, যতটুকু জেনেছি ওই জমিকে সাওতাল পরিবারও বসবাস করতো না। ঘর একটি ছিল তবে সেটে কার দখলে ছিল তা তদন্ত করে দেখছি।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.