শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি॥ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী সম্পাদিত “আপন আলোয় বিশ্বভূবন” বইটি নিয়ে শ্রীমঙ্গলে স্থানীয় ব্যাক্তি আক্রোশে সংকলণ নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
সংকলনটি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, দৈনিক ভোরের কাগজের স্টাফ রির্পোটার ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ও একুশে টেলিভিশনের মৌলভীবাজার প্রতিনিধি বিকুল চক্রবর্তী বঙ্গন্ধুর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এক নজরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিভিন্ন তথ্য দিয়ে এটি সম্পাদনা করেছেন। এটি একটি সংকলিত গ্রন্থ। সংকলনটিতে দেখা যায় ১৯২০ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সাল ও তারিখ অনুযায়ী একনজরে বঙ্গবন্ধুর জীবনের চুম্বক অংশ ছাপা হয়েছে। এর ভিতরে কয়েকটি বানানের ভুল রয়েছে। তবে পুরো বইটিই তথ্য সমৃদ্ধ। বইয়ে বঙ্গবন্ধু ছাড়াও বইটিতে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কে নিয়েও একটি লিখা রয়েছে। বইটিতে স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বির্তকিত তথ্য এসেছে বলে এলাকায় এবং বিভিন্ন ফেসবুকে অনেকে লিখেছেন। সংকলণে স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে যা লিখা রয়েছে তা হলো ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল ঘোষণা বার্তা ওয়ারলেস যোগে চট্টগ্রামে জহুরুল আহমদ চৌধুরীকে প্রেরণ করেন। চট্টগ্রাম বেতার থেকে আওয়ামীলীগ নেতা হান্নান বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা বাণী স্বকণ্ঠে প্রচার করেন। পরে ২৭ মার্চ চট্টগ্রামে অবস্থিত ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর জিয়াউর রহমান ঐ ঘোষণা পুন:পাঠ করেন।
এ তথ্যের বাস্তবতা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায় এটি সরকারের শিক্ষা বাতায়নে ( teachers.gov.bd/content/একনজরে বঙ্গবন্ধুর জীবনীতে হুবুহু এ তথ্য দেয়া আছে। তা ছাড়া ¯œাতক(সম্মান ও পাস) এর জন্য মুনতাসীর মামুন ও মাহবুবুর রহমান এর লেখা স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস বইয়েও পুনরবার বঙ্গবন্ধুর পক্ষে মেজর জিয়াউর রহমান তা পাঠ করেন। একই ভাবে গ্রন্থ দুটির প্রকাশিত এ কে এম শওকত আলী খান, মোহাম্মদ সানাউল্যাহ, ড. এ এস এম রফিকুর রহমান, ড.মোহাম্মদ আব্দুল মালেক সরকার ও এ বিএম গোলাম ফারুক রচিত ডিগ্রী পাস এর স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস বইয়েও তা লিখা রয়েছে।
এ ব্যাপারে সংকলনটির সম্পাদক বিকুল চক্রবর্তীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে জানাতে তিনি মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রহ করে প্রদর্শণী করে নতুন প্রজন্মকে তা দেখার সুযোগ করে দেন। বঙ্গবন্ধুর একক ছবি দিয়ে তিনি আলোকচিত্র প্রদর্শণী করে নতুন প্রজন্মকে তা দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন। একই সাথে তিনি নিজ অর্থায়নে স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিতরণ কার্যক্রম করেন। তিনি শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় শোক দিবস পালন শুরু করেন। এবং শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধুর ছবি টাঙ্গানোর ব্যবস্থা করেন। একই সাথে নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কম সময়ে কিছু তথ্য তুলে দিতে এবং নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত করতে কম খরছে মাত্র ১৬ পৃষ্টায় “আপন আলোয় বিশ্বভুবন” সংকলণ প্রকাশ করে বিতরণ করে আসছেন। কিন্তু তার একার পক্ষে এই সংকলনটি প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলা চেয়াম্যান, নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন এই সংকলনটি স্কুলে স্কুলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করার জন্য। তার এ আবেদনে সারা দিয়ে কয়েকটি বিদ্যালয় তা বিতরণের ব্যবস্থাও করে। এর মধ্যে শ্রীমঙ্গল মহাজেরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অর্থে বইটি প্রকাশ করে বিতরণ করা হয়। বিকুল চক্রবর্তী জানান, বঙ্গবন্ধুর এ তথ্য তিনি সরকারের শিক্ষা বাতায়ন থেকে নিয়ে কয়েকটি বই দেখে মিলিয়ে এবং স্থানীয় একজন সিনিয়র আওয়ামীলীগ নেতাকে দেখিয়ে তা প্রকাশ করেন।
তবে কয়েকটি বানান ভূল ও তথ্য সুত্র না থাকার বিষয়টি তার অনিচ্ছাকৃত (প্রিন্টিং মিস) ভূল হয়েছে বলে তিনি দু:খ প্রকাশ করে তা সংশোধন হবে বলে জানান।
তিনি জানান, সম্প্রতি শ্রীমঙ্গলে সাংবাদিকদের মধ্যে একটি বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। কোন পত্রিকা সংকলণটি না পড়েই এর ভিতরে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলা হয়েছে বলে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করছে। বাংলানিউজের প্রতিনিধি তার অপর পক্ষের অবস্থানে রয়েছেন। তিনি ব্যক্তি আক্রোশে সহকর্মী বিকুল চক্রবর্তীতে ঘায়েল করতে এ সংকলণ নিয়ে অপপ্রচার করছেন। বঙ্গবন্ধুর এ সংকলণ যাতে নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে না দিতে পারেন এজন্য তারা এ কাজ করেছেন বলে তিনি জানান। তাছাড়া যে বিদ্যালয়ে ( মহাজেরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে) সংকলণ বিতরণ হয়েছে সে বিদ্যালয়কে নিয়ে কিছুদিন পূর্বে অপ্রপ্রচারকারী ওইসব জনা কয়েক সাংবাদিক মিথ্যা সংবাদ প্রচার করেন। পরে তারা প্রতিবাদও ছাপে। ওই সময় আমরা বস্তুনিষ্ট সংবাদ প্রকাশ করি। এটি তারও একটি জের। এ ছাড়া বাংলানিউজের ওই সংবাদটি পড়লেই বুঝাযায় এটি ওই সাংবাদিকের ব্যাক্তিগত আক্রোশ। বিশেষ করে এর পেছনে ইন্দন জোগাচ্ছেন আমার কিছু সহকর্মী। তারা আপন আলোয় বিশ্বভূবন বির্তকিত বলে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষকদের প্রশ্নবানে জরজরিত করছেন।
এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা চেয়ারম্যান রনধীর কুমার দেব ( ব্যাক্তিগত মোবাইল নং ০১৭১৮-৪০০৮১০) জানান, সংকলণটির চতুর্থ সংস্করণে তিনি কোন বাণীদেননি। তবে ১৫ আগষ্ট উপলক্ষে প্রকাশিত ৩য় সংস্করণে তিনি বাণী দিয়েছেন। তিনি বলেন, সংকলণটি তিনি পড়েছেন সেখানে কয়েকটা বানানের ভূল ছড়া তথ্যগত কোন ভুল তাঁর চোখে পড়েনি।
জানা যায়, বিকুল চক্রবর্তী মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সদস্য আবার শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের সাথেও সম্পৃক্ত রয়েছেন। শ্রীমঙ্গলে বর্তমানে দুটি প্রেসক্লাব থাকায় সেখানকার সাংবাদিকদের মধ্যে বেশ দ্বন্ধ রয়েছে।
এদিকে বিকুল চক্রবর্তী সম্পর্কে আরও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিকুল চক্রবর্তী শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে একনিষ্ঠ ভাবে জড়িত রয়েছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রহের কাজ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে প্রথমে শ্রীমঙ্গল উপজেলার মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রহ করে প্রদর্শণীর মাধ্যমে শ্রীমঙ্গলবাসীকে এ উপজেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানান দেন। এর পর তিনি কমলগঞ্জ ও রাজনগরের তথ্য সংগ্রহ করে প্রদর্শনী করেন। বর্তমানে কুলাউড়া উপজেলার তথ্য সংগ্রহের কাজ করছেন। বিকুল চক্রবর্তী সাংবাদিকতা, পরিবহন ব্যবসা, মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রহ ছাড়াও তিনি বৃক্ষ সংরক্ষণ জীববৈচিত্র নিয়ে কাজ করেন। এ কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ তিনি ২০১৪ সালে বৃক্ষ সংরক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কারে ভুষিত হন।
বিকুল চক্রবর্তী সে সময় প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কারের অর্থ পরিবেশের কাজে ব্যবহার করার জন্য মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তৎকালিন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসানের হাতে তুলে দেন। এদিকে বিকুল চক্রবর্তীকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ও ফেইসবুকে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রকাশ করায় এর নিন্দা জানান, শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্যসহ জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরা।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.