স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজারে এতিম ও প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু হওয়ার ৩ বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের কোনো পরীক্ষা নেয়া হয়নি! অথচ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩/৬মাস পরপর বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে কৃতকার্যদের সনদ প্রদান করে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করার নিয়ম রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কোনো নীতিমালা না মেনে দায়িত্বরত অফিসারদের মনগরা চলছে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কার্যক্রম।
জানাযায়, এতিম ও প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের কারিগরি প্রশিক্ষণন কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র সরবরাহ করতে শ্রীমঙ্গল উপজেলার পিযুষ কান্তি দেবের নামে টেন্ডার থাকলেও দুই বছর ধরে খাবার সরবরাহ করছেন মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রনেতা রেজাউল করিম রেজা। মেনু অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে না বলে সূত্র জানায়। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পিতা অথবা মাথা নেই এমন এতিম ও প্রতিবন্ধি ছেলেমেয়ে ভর্তি হওয়ার কথা থাকলেও ভর্তিকৃত অধিকাংশ শিক্ষার্থীরই রয়েছে পিতা-মাতা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৪ সালের নভেম্বরে সেলাই ও বুটিকস ট্রেডে ৪০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন মরহুম সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী। নিয়মীত প্রশিক্ষণ না দেয়ায় ৩ বছর পরও আলোর মুখ দেখেনি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ৩ বছরেও ৬ মাসের কোর্স সমাপ্ত না হওয়ায় হতবাগ অভিবাবকরা। এনিয়ে অভিবাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই অব্যবস্থাপনা দেখে অনেকেই কয়েক মাস পর তাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে যান বলে জানা যায়।
সূত্র আরোও জানায়, অলস সময় পার করায় অনেক শিক্ষার্থীরা নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন লোক বলেন, কয়েক দিন আগে এক প্রশিক্ষণার্থীকে নিতে সিএনজি ড্রাইভার প্রেমিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে আসলে এর আচরণ দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। সিএনজি ড্রাইভার স্থানীয়দের সাথে খারাপ আচরণ করায় তাকে উত্তমমধ্যম দিয়ে বিদায় করেন এলাকাবাসী। ওই দিন রাতে অতিরিক্ত ঘুমের টেবলেট খেয়ে অসচেতন হয়ে পড়লে কেন্দ্রে অবস্থানরত অন্য সহপাঠিরা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এছাড়াও আরোও ৬/৭জন মেয়ের বিরুদ্ধে ছেলেদের সাথে মন দেয়া নেয়া করে প্রতারণা অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র আরোও জানায়, প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষার্থী প্রেমিকের সাথে শহরের একটি আবাসিক হোটেলে গিয়ে থাকলে প্রেমিক ছেলে হোটেলের অপকর্ম কৌশলে মোবাইল ফোনে ধারণ করে। ফলে বাধ্য হয়ে অভিবাবকরা বড় মেয়েকে রেখে ওই মেয়েকে তার কাছে বিয়ে দিতে বাদ্য হন।
প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আবাসিক হোস্টেলে ২০/২১জন প্রশিক্ষণার্থী নিয়মীত ভর্তি থাকলেও খাবারের ব্যয়ে অধিকাংশ সময় দেখানো হচ্ছে ২৪, ২৫ ও ২৬ জন। মেনু অনুযায়ী খাবার সরবরাহে রয়েছে চরম অনিয়মের অভিযোগ। খাবারের বাড়তি টাকা গুলো ভাগ ভাটোয়ারা করে নিচ্ছেন কতিপয় লোক।
হোস্টেলের খাবারে অনিয়মের বিষয়ে হোস্টেল সুপার আব্দুল্লাহর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি কোন উত্তর দেননি।
খাদ্য সরবরাহকারী রেজাউল করিম রেজা বলেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলার পিযুষ কান্দি দেব এর নামে খাবার সরবরাহের টেন্ডার আনা হয়েছে। আমি খাবার সরবরাহ করলেও চেক উনার নামে আসে। বাড়তি শিক্ষার্থী দেখানোর অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
এবিষয়ে কেন্দ্রের উপ-পরিচালক মোঃ হাবিবুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যোগদানের পর থেকে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেটি পরিচালনার চেষ্টা করছি। সম্প্রতি কিছু ছাত্রী ভর্তি করা হয়েছে এবং ৩ বছরের পুরাতন প্রশিক্ষণার্থীদের চলতি মাসের মধ্যে পরীক্ষা নেয়া হবে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.