বিকুল চক্রবতী॥ শ্রীমঙ্গলে মানুষের হাতে ধরা পড়েছে বিলুপ্ত প্রজাতির রেড বেম্বো টিংকেট। স্থানীয় ভাবে যাকে বলে রঙ্গিলা আরবিলা। একই সাথে ২ জানুয়ারী মঙ্গলবার রাতে শ্রীমঙ্গল শাহজীর বাজার এলাকায় কুঁচার/ঝাঁটা আঘাতে আহতবস্থায় আরও একটি অজগর সাপ উদ্বার করেছেন বলে জানান, শ্রীমঙ্গলস্থ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব।
সজল দেব জানান, মঙ্গলবার রাতে শ্রীমঙ্গল শাহজীর বাজারের উত্তরশুর এলাকায় বিশাল আকৃতির একটি অজগর সাপকে লোকজন আটক করে প্রহার করছিলো। এর গায়ে একাধিক কুঁচার ঘাঁ রয়েছে। পরে প্রায় অর্ধমৃতবস্থায় সাপটিকে উদ্বার করে তাদের সেবা ফাউন্ডেশনে নিয়ে আসেন।
অপর দিকে গত রবিবার রাতে শ্রীমঙ্গল উপজেলার জাগছড়া চা বাগানের গিলাছড়া এলাকার নারায়ন রবি দাশের বাড়ির পাশে বিরল প্রজাতির একটি রেড বেম্ব টিংকেট সাপ দেখে সেখানে উৎসুক জনতার ভীর জমে। লাঠি সুটা নিয়ে বাগানের লোকজন সাপটিকে মারতে উদ্বত হয়। এসময় সাপটি কিছুটা আহতও হয়। খবর পেয়ে সজল দেব দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং সাপটি উদ্বার করে নিয়ে আসেন। তিনি জানান, এ জাতীয় সাপ তিনি জীবনে প্রথম দেখেছেন। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞে সাথে কথা বলে তিনি নিশ্চিত হয়েছে এটি রেড বেম্বো টিংকেট। তিনি জানান, এটিকে আসাম বাংলায় অনেকে রঙ্গিলা আরবিলাও বলে থাকেন।
তার মতে এটি ঈষঁনৎরফধব পরিবারের অন্তর্ভূক্ত যার বৈজ্ঞানিক নাম:(ঙৎবড়পৎুঢ়ঃড়ঢ়যরং চড়ৎঢ়যুৎধবপবঁং) তিনি এটিকে একটি বিষহীন সাপ বলেও দাবী করেন। এর পুরো শরীর অনেকটা গাড় লাল-কমলা রং এর মতো। দেহের মাঝে মাঝে কালো রিংবল রয়েছে। এটি লম্বায় প্রায় ২৪-২৫ ইঞ্চি হবে।
এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী সংরক্ষন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান বলেন, এই প্রজাতি খুবই বিরল। এতদ অঞ্চলে এটি দেখা গেছে বলে কোন তথ্য তিনি পাননি। তবে এ সাপটি ঘন পাতা ঝড়া বনে থাকতে পছন্দ করে। এটি ভারতের আসামে মাঝে মাঝে পাওয়া যায়। যেহেতু আসাম আমাদের সিলেটের বডার সেহেতু এই এলাকায় থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। হয়তো মানুষের চোখে পড়েনি। তিনি জানান, এরা একটু ঠান্ডা আবহাওয়া পছন্দ করে তাই প্রকর রোদে এরা খুব কম বের হয়। রাতে চলাচল করতে এরা সাচ্ছন্দবোধ করে। তবে তিনি এটিকে বিষধর সাপ বলেও অভিহিত করেন।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবাফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সিতেশ রঞ্জন দেব জানান, এটি এ এলাকায় যেহেতু পাওয়া গেছে তাহলে এটি আমাদের এলাকারই সাপ হবে। এরা চিরসবুজ বনে বসবাস করে। রাতে চলা ফেরা করে এজন্য হয়তো কারো চোখে ধরা পড়েনি। তিনি জানান, কাছাকাছি সময়ে বন বিভাগকে নিয়ে সাপটিকে বনে অবমুক্ত করে দিবেন। বর্তমানে সাপটিকে তাদের সেবাফাউন্ডেশনে একটি প্লাষ্টিকের বাক্সে রাখা হয়েছে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.