ইমাদ উদ দীন॥ স্কুল পরিচালনা কমিটি, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। সবাই বিব্রত তার আচরনে। তিনি এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক। স্কুলটিতে তার যোগদানের পর থেকেই শান্ত স্কুলটি অশান্ত হয়ে উঠে। একের পর এক সমস্যায় বিড়ম্বনার শেষ নেই সংশ্লিষ্টদের।স্কুলের শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণের বিবেচনায় তার অপসারণ চান স্কুল পরিচালনা কমিটি, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ইতিমধ্যেই তার বদলীর জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছেন। একাধিক স্থানে দিয়েছেন অভিযোগ ও দরখাস্ত। তাকে দ্রুত এই স্কুল থেকে অপসারণের দাবী স্থানীয় সর্বমহলের। দাবী না মানা হলে নানা আন্দোলন কর্মসূচী পালনের হুঁশিয়ারী দিচ্ছেন অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টরা। এই প্রধান শিক্ষক হলেন মৌলভীবাজার আলী আমজদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। নাম আয়েশা শাহনাজ।
২০১৫ সালের ১৫ই মার্চ তিনি ওই স্কুলে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে তার বিরুদ্ধে স্বেচছাচারিতা, অনিয়ম, দূর্নীতি,বিদ্যালয় পরিচালনা ও ছাত্র-অভিভাবকদের সাথে অসধাচারণ ও সমন্বয়হীনতাসহ নানা অভিযোগ ওঠে। তার এমন কর্মকান্ডে বিরুদ্ধে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি ও অভিবাবকরা অভিযোগ জানালেও রহস্যজনক কারনে এখনো ঠনক নড়ছেনা সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের। এতে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে শিক্ষার্থী,অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির।
জানা যায় ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আয়েশা শাহনাজের বিভিন্ন অপকর্ম ও অসধাচারণের বিরুদ্ধে ১৭ ডিসেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় উপ-পরিচালক বরাবরে আবেদন করেছেন স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুহিবুর রহমান তরফদার,সহ-সভাপতি আব্দুল আহাদ চৌধুরী (বাবুল),স্কুল পরিচালনা কমিটির ৫ সদস্যসহ ২০৩ জন অভিবাবক। এই লিখিত অভিযোগের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরেও। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৫ মার্চ ২০১৫ইং তারিখে এই প্রধান শিক্ষিকা বিদ্যালয়টিতে যোগদান করেন। বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে তার আচার আচরনে বেপরোয়া ও অমার্জিতভাব লক্ষ্য করা যায়। তিনি সবসময়ই অভিবাবকদের সাথে একের পর এক অসৌজন্যমূলক আচরণ করেই যাচ্ছেন দাপটের সাথে। নিজের একক সিদ্ধান্তে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ওই প্রধান শিক্ষক নিয়মিত পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষক-অভিবাবক সমিতির কোন সভা না করে নানা অনিয়ম ও দূনীর্তির মাধ্যমে ব্যাপরোয়া ভাবে বিদ্যালয়ে পরিচালনা করছেন। সবসময় স্বেচ্ছাচারী মনোভাব নিয়ে বিদ্যালয় জুড়ে একক আদিপত্যের ধরে রেখেছেন। অভিবাবকরা কোন কাজে তার কাছে গেলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য ব্যবহার ও শিশু শিক্ষার্থীদের সবসময় ভয়ভীতি ও ধমক দিয়ে কথা বলেন। এমন কি বিদ্যালয়ের ঝি’কে মারধর ও দারোয়ানের সাথেও অসধাচারণ করে তাড়িয়ে দিয়েছেন। অভিভাবকরা জানান, এই প্রধান শিক্ষিকা যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয়ে বার্ষিক মিলাদ মাহফিল,বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও স্বরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়নি। এ সকল অনুষ্ঠান না থাকায় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। প্রধান শিক্ষকের এমন আচরনে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে। তার এমন আচরনে শিক্ষার্থী,অভিভাবক, বিদ্যালয়ের সংশিষ্ট সদস্যবৃন্দ বিব্রত ও ক্ষুদ্ধ। এই বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন নিয়েও হতাশায় ভূগছেন। তারা ক্ষোভের সাথে জানান এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে রায়শ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শহীদ জিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাজার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনকালে এরকম নানাবিধ অভিযোগ ওঠে। এ কারণে কর্তৃপক্ষ তাকে বারবার বদলি করেন।
তারা জানান, বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষসহ অনান্য কক্ষগুলোর কিছুই ঠিক নেই। শুধু প্রধান শিক্ষকের কক্ষ গোছালো ও বিলাসবহুল। বিদ্যালয়ের শৌচাগার সমূহ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শিশুরা এই শৌচাগার ব্যবহার করে নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচেছ। শ্রেণী কক্ষে ধুলো ময়লায় পরিস্কার করার কেউ নেই। কারণ উনি আয়াকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। এখন বাধ্য হয়ে ছাত্র-শিক্ষকরাই ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করেন। সবই হচ্ছে উনার ইশারায়। প্রধান শিক্ষকের এমন উগ্র মনোভাবের কারনে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা,শিক্ষার মান ও পরিবেশ সব ধ্বংস হচ্ছে। অভিবাবক বুলবুল আহমদ বলেন, এই শিক্ষিকা স্কুলটিতে যোগদানের পর থেকে আমরা তার আচরণে বিব্রত। শিক্ষার্থীদের তিনি এক অস্বস্থির মাঝে রাখেন সবসময়। তার কারনে ভয়ে শিশুরা স্কুলে আসতে চায়না। অভিবাবকরা কথা বলতে গেলে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরন করেন। তার এমন উদ্ভুট কর্মকান্ডে আমাদের সন্তানদের শিক্ষাজীবন নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা অবিলম্বে তার বদলী চাই। স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুহিবুর রহমান তরফদার বলেন, এই মহিলা যে ক’টা স্কুলে দায়িত্ব পালন করেছেন সবখানে এরকম অসংখ্য অভিযোগ ওঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ ৬ মাস অতিক্রম হল, কিন্তু এখনো তিনি আমাদের সাথে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়াদি নিয়ে কোন সমন্বয় করেননি।তার আচরণে সবাই অতিষ্ঠ। এভাবে একটি বিদ্যালয় চলে না। আমরা অভিযোগ করেছি এখনো কোন ফলাফল পাইনি। স্থানীয় এমপি এই বিষয়টি নিয়ে অবগত আছেন। ছাত্র-অভিবাবক ও পরিচালনা কমিটির কোন সদস্য তার উপর সন্তুষ্ঠ হতে পারেননি। কেউ থাকে এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে দেখতে চায়না। এব্যাপারে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিক আয়েশা শাহনাজ বলেন,আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পর্কে এখনো অবগত নয়। তাই এব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে চাইনা। লিখিত অভিযোগ হাতে এলে তা কি ও কেন এটি বলতে পারব।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.