আশরাফ আলী॥ প্রথম বারের মত মৌলভীবাজার শহরতলীর জগন্নাথপুর উপশহর মাঠে জেলার ইজতেমা শুরু হচ্ছে আগামী ২৫ জানুয়ারী। ইজতেমাকে সামনে রেখে প্রস্তুত হচ্ছে মাঠ। এরি মধ্যে শেষ হয়েছে মাঠের কাজ। কাজ যা বাকী আছে তা সামান্য। আজকালের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে বলে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ।
১৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া মূল প্যান্ডেলের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। বিশুদ্ধ পানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৮টি গভীর নলকূপ, এসব নলকুপ থেকে ৪টি ৪৮ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন প্লাষ্টিকের অস্থায়ী পানির ট্যাংক স্থাপন করে তা সংযোগ করা হয়েছে একহাজার ফুট দীর্ঘ পানির মূল হাউজের সাথে।
এছাড়াও ইলেকট্রিকের কাজ শেষ হয়েছে। বাকী রয়েছে সংযোগ দেওয়ার কাজ। তা ইজতেমা শুরু হওয়ার আগেই সংযোগ দেওয়া হবে। স্যানিটেশন কাজ সমাপ্ত হয়েছে। তৈরী করা হয়েছে পরিবেশ বান্ধব ৬শতাধিক ল্যাট্রিন। পরিবেশের দিকে লক্ষ রেখে আধুনিকভাবে তৈরী করা হয়েছে ল্যাট্রিনগুলো। যাতে পরিবেশের কোন ক্ষতি না হয়।
হঠাৎ বৃষ্টি হলে ইজতেমা ময়দানে পানি প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হয়েছে। পানি সাথে সাথে চলে গেলে এতে ইজতেমা মাঠে আগত মুসল্লিদের কোন রূপ অসুবিধা হবে না।
মাঠের সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২ থেকে তিন হাজার খুঠির উপর তৈরি করা হয়েছে লক্ষাধিক মানুষের বসার উপযোগী বিশাল চটের প্যান্ডাল। প্যান্ডাল তৈরিতে খুঠি বসানো সহ সার্বিক কাজে স্বেচ্ছায় শ্রম প্রদান করেন জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ
তাবলীগ জামাতের সাথী ও ধর্মপ্রাণ সাধারণ মুসলমানরা। এছাড়াও কাজ করেছেন স্থানীয় জগন্নাথপুর এলাকার সর্বস্তরের জনতা।
এরই মধ্যে তাবলীগ জামাতের নীতিনির্ধারনী ফোরাম মজলিশে শুরা আঞ্চলিক ইজতেমা সফলভাবে সম্পন্ন করতে নিয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ।
জেলার সবচেয়ে বড় এই গণজমায়েতকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ইজতেমার সফলতা কামনা করে এবং মুসল্লিদের স্বাগত জানিয়ে মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল আঞ্চলিক মহাসড়কে টাঙ্গানো হয়েছে ব্যানার, পেস্টুন। এছাড়াও তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে ।
ইজতেমায় আগত মুসল্লীদের তাৎক্ষনিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সহায়তা দিতে মাঠের উত্তর দিকে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
২৫ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার বাদ ফজর থেকে আম বয়ানের মাধ্যমে শুরু হবে প্রথমবারের মত জেলায় অনুষ্ঠিত তাবলীগ জামাতের সর্ববৃহৎ গণজমায়েত মৌলভীবাজার জেলা ইজতেমা। আগামী মঙ্গলবার থেকে মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে আসতে শুরু করবেন।
জেলা তাবলীগ জামাতের শুরা সদস্য ও ইজতেমা মাঠের জিম্মাদার (আমির) মোঃ ময়নুল ইসলাম জানান, কাকরাইল মসজিদের মুরব্বি ও বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মুরব্বিরা তিনদিন ব্যাপী এই জেলা ইজতেমায় বয়ান করবেন। তিনি জানান, ২৭ জানুয়ারী জোহরের আগে আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এই মহাযজ্ঞের । তবে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমার সাথে মিল রেখে এখানেও বাংলায় আখেরী মোনাজাত হবে বলে জানান মাঠের এই দায়িত্বশীল।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার মডেল থনার অফিসার ইনচার্জ সোহেল আহাম্মদ জানান, ইজতেমাকে নির্বিগ্ন করতে আমাদের নিরাপত্ত্বা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ থাকবে। দুই স্তরের নিরাপত্ত্বা ব্যবস্থার জন্য ৪৫০ পুলিশ ফোর্স মোতায়েন রাখা হবে। আমাদের পক্ষ থেকে ৬০টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে। পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত থাকবে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.