
সাইফুল ইসলাম॥ মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অধিকাংশই প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার। রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার প্রায় ৬৬ বছর পার হলেও এখনো প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার নির্মিত হয়ে ওঠেনি। এতে ভাষা শহীদদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অবশেষে বাঁশের খুটির শহীদ মিনার তৈরী করে এ দিবসটি পালন করে।
পশ্চিম শ্রীমঙ্গল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শহরতলীর লালবাগ এলাকায় অবস্থিত শ্রীমঙ্গল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় দুইটিতে বাঁশের খুটির শহীদ মিনারে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পুষ্পমাল্য অর্পণ করেছে।
তবে কতগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে তার কোনো তথ্য জানাতে পারেনি শ্রীমঙ্গল উপজেলা শিক্ষা অফিস।
বুধবার সকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলার বেশ কয়েকটি স্কুল পরিদর্শন করতে গিয়ে পশ্চিম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বাঁশের শহীদ মিনার তৈরি করে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সুবর্ণা চক্রবর্তী,সহকারী শিক্ষিকা রুপালী রানী পাল, সহকারী শিক্ষক নিথেন্দ্র রায় ও সহকারী শিক্ষিকা লাভী রায়,শিরিন আক্তার,স্বপ্না দেব,স্মৃতি রানী সেনসহ স্কুলের শিক্ষার্থীরা।
শহীদ মিনারের অভাবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নিজেরাই অস্থায়ীভাবে বিদ্যালয় মাঠে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে এই প্রথম দুইটি স্কুলেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিলে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানায়।
পশ্চিম শ্রীমঙ্গল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোফাজ্জল ও হৃদয় দাস জানান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এই প্রথম বাঁশ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে দিবসটি পালন করা হয়। আশ-পাশে আর কোন শহীদ মিনার না থাকায় আমরা বাঁশ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করি। আর একই কথা জানালেন,স্কুলের রাজিব আলী,সঞ্জয় রায়সহ অনেক শিক্ষার্থী ।
তারা আরও বলেন, ‘এভাবে বছরের পর বছর যায় তবুও শহীদ মিনার আর নির্মাণ হয় না। এতে করে ভাষা শহীদদের প্রতি অনেকে সম্মান জানাতে পারে না।’
একই কথা জানিয়ে ওই বিদ্যালয়সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপনের দাবি জানান শিক্ষকরা।
পশ্চিম শ্রীমঙ্গল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সূবর্ণা চক্রবর্তী ও স্কুলের সহকারী শিক্ষক নিথেন্দ্র রায় জানান,‘শিক্ষার্থীরা আমার কাছে বারবার শহীদ মিনার বানিয়ে দেওয়ার জন্য আবেদন করেছে। কিন্তু বিদ্যালয়ের কোষাগারে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় শহীদ মিনার বানিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি।’ তিনি আরও বলেন,‘দুই বছর আগে দেয়ালে নকশা একে তারপর ওখানে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি সম্মান জানানো হতো।’
পশ্চিম শ্রীমঙ্গল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো.আজম আলী বলেন,‘আমাদের স্কুলে শহীদ মিনার না থাকায় বাঁশ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করা হয়েছে। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর নিজ খরচে প্রতিষ্টানে অনেক উন্নয়ন করেছি। বিশেষ করে বিশুদ্ধ পানির অভাব ছিল সেটি স্থাপন করে দিয়েছি। বাথরুমে পানির সাপ্লাই সু-ব্যবস্থা করে দিয়েছি। সরকারীভাবে কোন সহায়তা নাও পেলে ব্যক্তি উদ্যোগে স্থানীয় বিত্তশালীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে শহীদ মিনার নির্মান করার চেষ্টা করবো। তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক, ৬ জন শিক্ষিকা ও ৩৫০ জন শিক্ষার্থীরা লেখা পড়ায় নিয়োজিত রয়েছেন।’
শ্রীমঙ্গল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কমলেন্দু দেব ও সহকারী শিক্ষিকা জয়শ্রী দেব বলেন, ‘আমার স্কুলে শিক্ষকও শিক্ষিকাসহ ৭জন। ৪৫৮জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। শহীদ মিনার স্থাপনের জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অনেকবার মৌখিকভাবে জানিয়েছি,কোন কাজ হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘অবশেষে আমরা নিজ খরচে বাঁশ কিনে শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে ২০ ফেব্রুয়ারী শহীদ মিনার তৈরি করেছি। আজ সকালে আমরা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মিলে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।’
জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো.সাইফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন,‘উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকায় শিক্ষার্থীরা অস্থায়ী শহীদ মিনারে প্রতিবছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ মিনারের জন্য সরকারীভাবে কোন অনুদান নাই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি অথবা বিত্তশালীদের সহযোগিতা নিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ হয়ে থাকে। তবে এবার ফুলছড়া চা বাগান ও কালিঘাট চা বাগানে এবং আশিদ্রোন ইউনিয়নে স্ব স্ব ইউপি চেয়ারম্যানরা শহীদ মিনার নির্মাণ করে দিয়েছেন। এভাবে অন্যান্য স্কুলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় শহীদ নির্মাণ হবে।’
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.