শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি॥ শ্রীমঙ্গলে ষাড়েরগজ গ্রামে দোকানে আগুন লেগেআহাদ মিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় একই গ্রামের শাহীন খাঁ, ইয়াকুবখাঁ, আব্দুস সোবহান ও নজরুল খাঁর উপর দায়ের করা হত্যা মামলাটিসম্পুর্ণ মিথ্যা বলে দাবী করেছেন ওই পরিবারের গৃহকর্ত্রী মায়াবেগম।
মঙ্গলবার দুপুরে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিতসংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবী করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এসময় মায়া বেগমতাঁর লিখিত বক্তব্য বলেন, উপজেলার সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নে ষাড়েরগজবাজারে তাদের একটি ছোট মার্কেট রয়েছে। তিন বছর আগে ওইমার্কেটি গ্রামের মৃত কদর মিয়ার ছেলে মো. আহাদ মিয়া একটিদোকান ঘর ভাড়া নেন। ওই মার্কেটে তার দুই ছেলেরও একটি দোকানরয়েছে। তার ছেলেরা প্রতি রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ীতে চলে আসে।আর আহাদ মিয়া রাতে দোকানেই ঘুমিয়ে পড়েন। গত ৫ ফেব্রুয়ারীরাত আনুমানিক ২ টার দিকে ভাড়াটিয়া আহাদ মিয়ার দোকানেঅগ্নিকান্ড সংঘটিত হয়। এ সংবাদ পেয়ে তার পরিবারের লোকজনসহগ্রামের আরো লোকজন ঘটনা¯’লে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।এ সময় আহাদ মিয়ার ভাই আলতাফ মিয়াও ঘটনা¯’লে ছিলেন। তবে শতচেষ্ঠা করেও আগুনের করাল গ্রাস থেকে আহাদ মিয়াকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সেকারণে তিনি তার দোকানের ভেতরেই অগ্নিদগ্ধ হয়েমারা যান।কিš‘ আহাদ মিয়া অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাবার পরই তার পরিবারের উপরনেমে আসে অমানিশার কালো অন্ধকার। পরদিন গত ৬ ফেরুয়ারীআহাদ মিয়ার বড় ভাই আলতাফ মিয়া বাদি হয়ে মায়া বেগমের দুইপুত্র শাহীন খাঁ ও অনার্স পড়–য়া কলেজ ছাত্র ইয়াকুব খাঁ, ভাইআব্দুস সোবহান, ভাতিজা (ভাসুরের ছেলে) নজরুল খাঁকে আসামীকরে শ্রীমঙ্গল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আব্দুসসোবহান বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছেন। বাকি তিনজন পলাতকরয়েছে। উপার্জমক্ষম ব্যক্তিরা অজ্ঞাত ¯’ানে পলাতক থাকায় তার পুরোপরিবার এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে।তিনি বলেন, নিহতের পরিবারের লোকজন প্রতিনিয়তই তাদেরনানাভাবে হুমকি-ধামকি দি”েছন। যে কোন সময় তাদের বাড়ি ওদোকান কোঠা তারা দখল করে নিতে পারে এমন আতঙ্কের মধ্যেই তারাদিন যাপন করছেন। তাদের ধারণা শত্রু পক্ষের দ্বারা প্রলুব্ধ হয়ে নিহতের
বড় ভাই তার পরিবারের পুরুষ সদস্যদের আসামী করে এ মিথ্যা হত্যামামলাটি করেছেন।তিনি এ ঘটনায় সুষ্ট তদন্ত করে তার পরিবারের সদস্যদের উপরদায়েরকৃত মিথ্যে মামলা থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের নিকট আকুলআবেদন জানান। শ্রীমঙ্গল থানার ওসি কেএম নজরুল জানান,বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই। জানতে চাইলে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন বলেন,‘মাত্র কয়েকদিন হলো মামলাটি আমরা তদন্ত শুরু করেছি। আশাকরিপ্রকৃত ঘটনা উৎঘাটন করতে সম্ভব হবো’।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.