
স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নোয়ারাই এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধে গরু চড়ানোর অপরাধে মুজিব মিয়া নামের পিতৃহীন এক শিশুর পা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে অমানবিক কান্ড ঘটিয়েছে এক দল পাষন্ড। শুধু তাই নয়, শিশুটির আর্তচিৎকারে তার একমাত্র বড়ভাই ঘটনাস্থলে তাকে রক্ষা করতে ছুটে আসলে ৬ পাষন্ড মিলে তাকেও বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। এসময় আর্তচিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে আসতে থাকলে পাষন্ডরা হুমকী দিয়ে বলে মামলা করলে এলাকায় বসবাস করতে দেবোনা বলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৪ এপ্রিল দুপুরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৫নং আখাইলকুরা ইউনিয়নস্থ নোয়ারাই গ্রামে।
জানা গেছে সম্পাসী গ্রামের মৃতঃ ইন্তাজ মিয়ার পুত্র সিতার মিয়া (২২) ও শিশু মুজিব মিয়া (১৩) নোয়ারাই গ্রামের সৈয়দ আছান আলীর বাড়ীতে বসবাস ও তার কাজকর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করত। গত ৪ এপ্রিল দুপুর ১টার দিকে শিশু মুজিব মিয়া গৃহকর্তা সৈয়দ আছান আলীর গৃহপালিত ২টি গরু চরাতে পার্শ্ববর্তী পাউবো’র বাধে গেলে একই গ্রামের মৃতঃ ওয়াহিদ মিয়া প্রকাশ সোনাহর এর পুত্র সোলেমান মিয়া (৩২) বলে “তোরা সমাজচ্যুত মানুষ। গরু নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধে এসেছিস কেন ?” এর প্রতিবাদ করলে সোলেমান মিয়া উত্তেজিত হয়ে হাতে থাকা রড দিয়ে সজোরে শিশু মুজিব মিয়ার ডান পায়ে আঘাত করে। এসময় সে চিৎকার শুরু করলে, সোলেমান মিয়া পুণরায় কয়েকটি আঘাত কওে তার পা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। তার আর্তচিৎকারে তার একমাত্র বড়ভাই সিতার মিয়া ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে সোলেমান মিয়ার সহযোগী মৃতঃ বাদশা মিয়ার পুত্র কুতুব মিয়া (৪২) ও তাজুল ইসলাম (২৮), কুতুব মিয়ার পুত্র রনি মিয়া (২৪), মাসুক মিয়ার পুত্র ছুফিয়ান মিয় (৩৫) ও মৃতঃ বারিক মিয়ার পুত্র সুন্দর মিয়া (৩৫) কাঠের বর্গা, বাশের লাঠি ও লোহার রড সহযোগে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে সিতার মিয়াকে পিটিয়ে আহত করে। এসময় শিশু মুজিব মিয়ার আর্তচিৎকারে এলাকার লোকজন ছুটে আসতে থাকলে পাষন্ডরা মামলা করলে এলাকায় বসবাস করতে দেবোনা বলে হুমকী দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এরপর সিতার মিয়া ও শিশু মুজিব মিয়াকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের পর ৮ এপ্রিল ৬ পাষন্ডের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.