স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজার জেলা শহর ও বিভিন্ন স্থানে সোস্যাল ডেভলাপমেন্টের নামে নাম মাত্র রেজিষ্টেশন নিয়ে গ্রাম ও শহরের সাধারণ মানুষকে বড়লোক করার প্রলোভন দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এক সময় অফিসে তালা ঝুলিয়ে উধাও হয়ে যাচ্ছে কর্মচারী কর্মকর্তাবৃন্দ।
সম্প্রতি ফ্রেশ সোস্যাল ডেভলাপমেন্ট ফাউন্ডেশন রেজিঃ নং এস-৭৪৩৪ (৬২৩)/০৮ সিলেটের নিরাময় পলি ক্লিনিক প্রধান কার্যালয় দেখিয়ে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা উপজেলা হাটবাজারে অফিস খুলে ৭০% মুনাফা দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করে অফিস বন্ধ করে পালিয়েছে প্রতারক চক্র। বিষয়টি বেড়িয়ে এসেছে প্রতারিত তিনজন মাঠ কর্মীর অভিযোগের ভিত্তিতে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজনগরের মেদেনীমহল মিয়ার গাঁও গ্রামের সাজনা বেগম, কলিমাবাদ এলাকার আনোয়ারা বেগম, রুজি বেগম, সাইফুর রহমান রোড অফিস থেকে যোগাযোগ করে প্রস্তাব দেওয়া হয়, কেউ যদি যে পরিমান মূলধন তাদের ফ্রেশ সোস্যাল ডেভলাপমেন্ট ফাউন্ডেশনে বিনোয়োগ করলে পাঁচ বছরে মূলধনের সাথে তাকে দ্বিগুন দেওয়া হবে। এমন কি তাদের বিভিন্ন প্রোগ্রামে (ভিআইপি) ব্যাক্তিদের ছবি দেখিয়ে বিশ্বাস তৈরি কওে প্রতারক চক্র।
প্রথমে একশত টাকা দিয়ে মাঠ কর্মীদের কাছ থেকে সদস্য ফরম নিয়ে সদস্য হতে হবে। এবং পরবর্তীতে এককালীন পঞ্চাশ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। তার পর পাঁচ বছর মাসিক যত টাকা সম্ভব তার পরিমান উল্লেখ্য করে প্রতিমাসে কিস্তি চালিয়ে যেতে হবে। নতুন সদস্য হওয়া ব্যাক্তি তার অধীনে আরো সদস্য করলে তাকে নির্দিষ্ট হারে কমিশন দেওয়া হবে।
এই ভাবে সাইক্লিক নিয়মে যত সদস্য বাড়বে তত তার কমিশনের হার দ্রুত গতিতে বাড়বে। এই ভাবে প্রলোভন দেখিয়ে সহজ সরল বেকার মহিলাদেরকে কাজে লাগিয়ে হাতিয়ে নেয় গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা।
এই ভাবে তাদের অধীনে জেলার আনাছে কানাছে মসজিদের ইমামদেরকে ব্যবহার করে যাতে করে গ্রামের মানুষ বিশ্বাস স্থাপন করে তাদের কাছে টাকা জমা রাখে। গ্রামের সরলপ্রান মানুষ ইমামের কথায় বিশ্বাস করে টাকা জমা দিয়ে আসছে বছরের পর বছর। যখন তাদের মেয়াদ উর্ত্তীন হয়ে যাচ্ছে তখন ইমামের উপর গ্রাহকরা চাপ সৃষ্টি করছে। ইমাম গ্রাহকের চাপ সইতে না পেরে ঠিক তখনি ইমাম মসজিদ রেখে রাতের আধাঁরে পালিয়ে জান।
শুধু মসজিদের ইমাম নয় গর্ভনিং বডির সকল মেম্বররা কওমি মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষকতা পেশায় জড়িয়ে রয়েছেন। জেলার ভিতর তাদের পরিচিত ছাত্র ও বন্ধুদের সরলতাকে কাজে লাগিয়ে সুদ মুক্ত ব্যবসার লোভ দিয়ে তাদেরকে ব্যবহার করে। তাদের বিভিন্ন প্রোগ্রামে জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক ব্যাক্তিদের ও ধর্মীয় লেবাস ব্যবহার করে মানুষকে আকৃষ্ট করে তাদের প্রতারনার চক্র জেলা শহর থেকে গ্রামের প্রতিটা বাড়িতে তাদের গ্রাহক বৃদ্ধি করতে থাকে। এমনি ভাবে চলছিল ফ্রেশ সোস্যাল ডেভলাপমেন্টের কার্যক্রম। চেয়ারম্যান শাহ মাহবুবুর রশীদ মাসে কয়েকবার দেশের বাহিরে যেতেন ফ্রেশ ডেভলাপমেন্টের কার্যক্রমের ভিডিও ভিক্ষুকদের পুর্ণবাসন, শিক্ষা, যৌতুক রুখো ও বিবাহ, দুঃস্থ মহিলা ও বিধবা, চিকিৎসা, বনায়ন কর্মসূচির বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি বিদেশের মানুষকে দেখিয়ে হাতে নিতেন বড় অংকের অনুদান ।
দেশে মানুষকে সেবার নামে খুব অল্প টাকা খরচ করে প্রচার করতেন ফলাও করে। এখানে প্রচারের মূল উদ্দেশ্য ছিল ফাউন্ডেশনের নাম। এই ভাবে অনেক নাম মাত্র ফাউন্ডেশনের খপ্পরে পরে প্রতারিত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ সব হারিয়ে আজ তারা নিঃস্ব। যে গ্রাহকরা তাদের টাকা হারায় তারা চাপ প্রয়োগ করে মাঠকর্মী ও তাদেরকে যারা এই সংস্থায় সদস্য করেছে। মাঠ কর্মীরা তাদের অফিস বা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাউকে না পেয়ে বাড়ি ঘরে রাতের আধাঁরে তালা মেরে সুপারি গাছের নিচে আশ্রয় নেয় গ্রাহকের ভয়ে। এমন নজির পাওয়া গেছে মাঠ কর্মী নাজমার বেগমের কাছ থেকে। মাঠ কর্মী নাজমা বেগম বলেন, আমি মাঠে কাজ করেছি সদস্য বৃদ্ধির জন্য এবং সদস্যদের জমাকৃত টাকা মেয়াদ পূর্তিতে অফিস থেকে তাদের লাভ সহ পূবালী ব্যাংক চৌমোহনা শাখার চেক প্রদান করা হত। গ্রাহকরা ব্যাংকে টাকা উত্তোলনের জন্য গেলে তাদের একাউন্টে কোনো টাকা পাওয়া যেত না। গ্রাহকরা অফিসে এসে অভিযোগ করলে তাদেরকে বলা হত ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেছে দুই এক দিনের মধ্যে একাউন্টে টাকা জমা হবে বলে তাদেরকে শান্তনা দেওয়া হত।
এভাবে সময় ক্ষেপন করে তাদের র্টাগেট পূরণ হয়ে গেলে অফিসে তালা ঝুলিয়ে সকল কর্মকর্তা কর্মচারী উধাও হয়ে যেত। মাঠ কর্মীরা গ্রাহকের যন্ত্রনায় অতিষ্ট হয়ে পরিচালকদের বাসা বাড়িতে গিয়ে যোগাযোগ করলে তাদেরকে বলা হতো অফিস পরিবর্তন করা হয়েছে । নতুন অফিসের কাজ চলছে কিছু দিনের মধ্যে অফিসের কার্যক্রম শুরু হবে। এই সময়ের ভিতরে তারা দেশ থেকে বিদেশে পালানোর ধান্ধায় থাকতো। সম্প্রতি এই ঘটনা ঘটেছে ফ্রেশ সোস্যাল ডেভলাপমেন্ট ফাউন্ডেশনের ক্ষেত্রে। এতে প্রতারিত হয়েছে হাজার হাজার গ্রাহক। বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন শত শত কর্মী। শুধু গ্রাহকরা প্রতারিত হয়েছেন এমনটা নয়! মাঠ কর্মী নাজমা বেগম নিজেও লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে গ্রাহকের ভয়ে বাড়ি ঘর ছেড়ে রাত কাটায় সুপারি গাছের নিচে। কুলাউড়া থানার টিলাগাঁও ইউনিয়নের ব্রাঞ্চ অফিসার মসজিদের ইমাম কাওছার আহমদের সাথে মুঠো ফোনে ফ্রেশ সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তাদেরকে বিশ^াস করে তাদের ফ্রেশে প্রবেশ করি। কিন্তু তারা যে এত বড় প্রতারক আগে জানা ছিলো না। তারা মসজিদের ইমামদের ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আমি মসজিদে ইমামতি করি অনেক আস্থাবাজন ব্যাক্তি আজ আমাকে প্রতারক বলে। আমি আমার টাকা ও গ্রাহকদের টাকা ফেরৎ চাই আর এই রকম প্রতারকদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.