
স্টাফ রিপোর্টার॥ পর্যটন জেলা মৌলভীবাজার। তাই বছরের পুরোটা সময়ই পর্যটকদের উপচে পড়া ভীড় জমে থাকে নৈসর্গিক লীলাভূমি খ্যাত এ জেলায়। কিন্তু দুর্ভোগের শেষ নেই দুরদুরান্ত থেকে ঘুরতে আসা ভ্রমনপিপাসু পর্যটকদের। কারন সড়ক বা রেলপথে শ্রীমঙ্গলে আসার পর খানাখন্দে ভরা রাস্তার কারনে ভোগান্তিতে পড়েন তারা। কদাচিৎ লোক দেখানো নাম মাত্র জোড়াতালির কাজ করলেও তা টেকসই নয়। তাই কাজ করার মাস খানেক পরই আবার খানা খন্দে ভরে উঠে রাস্তা।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, রাস্তায় আটকে থাকা পানির কারনে রাস্তা খারাপ হয়ে যায়। একটু বৃষ্টি হলেই এসব খানা-খন্দে পানি জমে থাকে। পর্যটকবাহী গাড়ি এসব খানাখন্দ রাস্তার উপর দিয়ে কষ্ট করে নিয়ে যেতে হয়। যার দরুন মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, ও বড়লেখার বিভিন্ন নান্দনিক পর্যটন স্পটগুলোতে ঘুরতে আসা পর্যটকরা খানাখন্দ ভরা রাস্তার কারনে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের কারনে এখন নেতিবাচক ধারণা পোষণ করছেন।
পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলের বাসিন্দা মিথুন পুরকায়স্থ বলেন, পয়ঃনিস্কাশনের জন্য নালা নিমার্ণ ও রাস্তায় পানি ধরে না রাখার মতো ব্যবস্থায় নির্মাণ ও সংস্কার কাজ করা হলে রাস্তা টেকসই হবে। মুলত, সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রেল স্টেশন থেকে বের হয়েই শহরমুখী রাস্তাটি। এ রাস্তাটি ভোগান্তিতে ফেলে স্থানীয় জনগণ সহ পর্যটকদের। রাস্তাটির একটি অংশের কাজ সম্পন্ন হলেও বাকি অংশটুকুর (পেট্রোল পাম্পের সামনে থেকে বাজারের সম্মুখভাগ পর্যন্ত) দায়দায়িত্ব নিচ্ছেন না কেউই।’ রাস্তাটি পৌরসভার ভিতরে থাকলেও পৌরসভার মেয়র মো. মহসীন মিয়া মধু বলছেন, রাস্তাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের আর সড়ক জনপথ বিভাগের প্রকৌশলীরা এই রাস্তা সরেজমিনে পরিদর্শন করে বলছেন রাস্তাটি তাদের ম্যাপেই নেই। তাই আপাতদৃষ্টিতে অভিভাবকহীন এই রাস্তাটির সংস্কার কাজ থেমে আছে দীর্ঘদিন যাবত।
শ্রীমঙ্গল শহর থেকে পর্যটন এলাকাগুলোতে যাওয়ার রাস্তার (শ্রীমঙ্গল - কমলগঞ্জ- শমসেরনগর সড়ক) ভানুগাছ রোড অংশটির অবস্থা বেশী খারাপ। শহরের রেলক্রসিং এর সামনে থেকে চা যাদুঘর পর্যন্ত রাস্তার অধিকাংশ স্থানে ছোট বড় অনেক গর্ত হয়ে আছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ অংশের কাজ শুরু করে দিয়েছেন বলে জানা যায়। বরুনা হাজিপুর হয়ে মৎস্য অভয়ারন্য বাইক্কা বিল যাবার রাস্তাটির অনেক স্থানে ভাঙ্গন রয়েছে।
এছাড়া লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভিতর দিয়ে বয়ে চলা কমলগঞ্জ উপজেলা পর্যন্ত আঁকাবাঁকা রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে ফেলছে চালকদের।
শ্রীমঙ্গলে ঘুরতে আসা এক পর্যটকবাহী মাইক্রোবাসের চালক রবিউল মিয়ার সাথে কথা হয় সাংবাদিকদের। তিনি জানান, শ্রীমঙ্গলে প্রায়ই আসা হয় তার। ভাঙ্গা রাস্তার ব্যাপারে তিনি জানান, শ্রীমঙ্গলে গত এক বছর আগে যেভাবে রাস্তায় খানাখন্দ ছিলো সেভাবেই আছে। উপরন্তু কিছু বাড়তি জায়গায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এসব রাস্তায় গাড়ি চালানোতে ঝুঁকি তো থাকেই অনেকসময় গাড়িও খারাপ হয়ে যায়।
সিএনজি চালিত অটো রিকশা চালক ফরিদ মিয়া জানান, রাস্তার এক পাশ ভাঙ্গা থাকলে নিয়ম ভেঙ্গে বাম দিকে না গিয়ে ডান দিকে যেতে হয়। প্রয়োজন তো আর আইন মানে না। এতে করে প্রায়ই অন্য গাড়ির সাথে অযাচিত ঝামেলা বেধে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চালক জানান, রাস্তা সংস্কারের সময় যে পরিমান উপকরণ দেওয়ার কথা তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে দিচ্ছে না বলেই অতি সহজে রাস্তা ভেঙ্গে যায়। রাস্তা সংস্কারের সময় এলাকাবাসী ও জনগণ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ভালোভাবে মনিটরিং এর প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সদস্য ও হোটেল মালিক এস. কে দাশ সুমন বলেন, শ্রীমঙ্গলের খানাখন্দে ভরা রাস্তার কারণে শ্রীমঙ্গলে ঘুরতে আসা পর্যটকরা শ্রীমঙ্গল সম্পর্কে খুবই খারাপ ধারনা নিয়ে যাচ্ছেন। কদাচিৎ লোক দেখানো কাজ হচ্ছে। এটাই ধ্রুব সত্য। অনেক সময় নাজুক রাস্তার কারনে পর্যটকরা বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে যেতে চান না। সরকার যদি শ্রীমঙ্গলের দিকে একটু সুনজর দেন তাহলে পর্যটকরা আরো সাচ্ছন্দে এখানে ঘুরে বেড়াতে পারবেন।
এ বিষয়ে কথা বললে মৌলভীবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মিন্টু রঞ্জন দেবনাথ জানান, সড়ক ও জনপদ বিভাগ বর্তমানে বিভিন্ন ছোট খাটো সংস্কারের করার কাজ করছে। ভানুগাছ রোড সড়কে প্রায়ই পানি জমাট থাকার কারনে বিটুমিন এর তৈরী রাস্তা সহজেই ভেঙ্গে যায়। এক্ষেত্রে আমাদের পরবর্তি প্রকল্পতে আমরা ড্রেনেজ ব্যবস্থা করবো। এতে রাস্তা সহজে নষ্ট হবে না।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.