আব্দুল কাইয়ুম॥ হটাৎ এরকম চরম দূর্ভোগে পড়তে হবে তা আমার মত এই বড়হাট এলাকার কোন বাসিন্দারই জানা ছিলনা। ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কারো নুন্যতম প্রস্তুতিও ছিলনা। অভাব অনটনের সংসার তাই প্রতিদিনের মত সেদিন রাতেও পরিবারের সবাইকে নিয়ে খাওয়া দাওয়া শেষে ঘুমানোর প্রস্ততি । ঠিক তখনই রাত দেরটার দিকে হটাৎ মানুষের আর্তচিৎকার আর হূলস্থুলের আওয়াজ কানে ভাসতে থাকে। মুহুর্তেই সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় এমন পরিস্থিতিতে নিজ গৃহের একটি জিনিসও সরানো সম্ভব হয়নি। কথাগুলো বলছিলেন মৌলভীবাজারের আকষ্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মনুনদের পাড়ের বাসিন্দা জেলে শফিক মিয়া।
সোমবার ১৮ জুন বিকালের দিকে বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা মৌলভীবাজার শহরের পৌর এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের মধ্যবড়হাট এলাকা সরেজমিন দেখতে দেখা হয় এই ওয়ার্ডের বাসিন্দা জেলে শফিক মিয়ার সাথে। শফিক মিয়া পেশায় স্থানীয় জেলে। সারাবছর নদীতে নৌকা চালিয়ে মাছ ধরে জীবিকা আহরণ করেন তিনি। পুরো বড়হাট এলাকার ক্ষয়ক্ষতি দেখতে সোমবার বিকালে মনুপাড়ে গেলে পরিচয় হয় শফিক মিয়ার সাথে। এসময় শফিক মিয়া নিজেই নৌকা চালিয়ে এই প্রতিবেদককে ঘুরে ঘুরে দেখান ঐএলাকার বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি।
চলন্ত নৌকায় শফিক মিয়ার সাথে কথা বলতে বলতে জানার চেষ্টা বড়হাট এলাকার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে। এসময় দেখা যায়, বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় প্রতিটি দু তলা, তিনতলা, পাঁচতলা ও আধাপাকা টিনসেডের অসংখ্য বাড়িগুলো জনমানবহীন অবস্থায় পড়ে আছে। বন্যায় আক্রান্ত অনেকে বাসার ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন পরিবার নিয়ে , কেউবা আশ্রয় নিয়েছেন অন্য এলাকার আতœীয়ের বাড়িতে। দেখা যায় অনেক বাসার সামনে পানির নিচে পরে আছে দামি দামি ব্যক্তিগত গাড়ী, মোটরসাইকেল ও সিএনজি অটোরিক্সাসহ নানান ধরনের যানবাহন। বন্যার পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে এসব যানবাহন নষ্ট হবার আশঙ্কা স্থানীয়দের।
১৬ জুন শনিবার মধ্যরাতে তান্ডবের বর্ণনা দিতে গিয়ে শফিক মিয়া বলেন , মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই সাজানো গোছানো পৌর এলাকার এই ওয়ার্ডটি বন্যার পানিতে সম্পুর্ণ তলিয়ে যায়। অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এই ওয়ার্ডে হাজারো পরিবারের কয়েকহাজার বাসিন্দা। কোন কিছু বুঝে উঠার পূর্বেই চোখের সামনে প্রতিটি বাসার ফ্রিজ, টিভি সহ গুরুত্বপূর্ণ সব দামি দামি আসবাব পত্র মনুর জলে ভেষে যায়। চরম এই দূর্যোগে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও শিশু বৃদ্ধাদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেয়া। এতগুলো অসহায় মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেয়া নিজের পক্ষে তাৎক্ষনিক চ্যালেঞ্জিং । তার পরেও টাকার দিকে না তাকিয়ে সম্পূর্ণ মানবিক কারনে নিজেই নৌকা চালিয়ে অন্তত ২শ মানুষকে উদ্ধার করি। তিনি জানান , এই এলাকার মানুষকে উদ্ধারে তাৎক্ষণিক কেউই এগিয়ে আসেনি, স্থানীয়দের সহযোগীতায় সবাইকে নিরাপদে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়েছে ।
উলে¬খ্য শনিবার ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণ এবং ধারাবাহিক বৃষ্টিপাতের কারনে পৌর এলাকার বারইকোনায় মৌলভীবাজারের মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে পৌর এলাকার ৪টি ওয়ার্ড সহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় প¬াবিত হওয়ার কারনে শহরের বড়হাট এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দা পানিবন্দী হয়ে পড়েন।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.