স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কালাইরগুল এলাকায় কুশিয়ারা নদীর পাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মনু প্রকল্পের বাঁধে নতুন করে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এতে করে প্রকল্পের ভেতর রাজনগরের উত্তরভাগ, মুন্সিবাজার, ফতেহপুর, সদর উপজেলার আকাইলকুড়া ও খলিলপুর ইউনিয়ন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্থের মুখে পড়েছেন। বাঁধ ভেঙ্গে প্রকল্পের ভেতর পানি ঢুকে পড়ায় নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন লাখো মানুষ।
উত্তরভাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ শাহিদুজ্জামান ছালিক জানান, এখানে যে ভাঙ্গন সৃষ্টি হচ্ছে তিনদিন থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে তিনি জানিয়েছেন। কিন্তু তারা সরেজমিনে আসেনি। হাওরে পানি ঢুকে যাওয়াতে তার ইউনিয়নের ২০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। তিনি দ্রুত বাঁধ মেরামতের দাবী জানান। তিনি আরো বলেন, কালারবাজার ও কেশরপাড়া এলাকায় বাঁধের ভেতর দিয়ে হাওরে প্রতিনিয়ত অল্প অল্প করে পানি ঢুকছে। সেই স্থান দুটি মেরামতের দাবী জানান।
এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন গত সোমবার থেকে কালাইরগুল বাঁধ দিয়ে হাওরে অল্প করে পানি ঢুকছে। মঙ্গলবার ভোর ছটায় বাঁধ ভেঙ্গে প্রবল বেগে হাওরে পানি ঢুকে। পানির প্রবলবেগে ১শ ফুট প্রশস্থ হতে পারে দূর্ঘটনাস্থল। কালাইরগুল গ্রামের ইউনুছ মিয়া ও হলদিগুল গ্রামের ফেরদৌস আলী জানান, ওই যায়গা দিয়ে ৫/৬ বছর ধরে অল্প করে হাওরে পানি ঢুকছে। কিন্তু কেউ লক্ষ্য রাখেনি। এছাড়াও ভাঙ্গন সংলগ্নের পশ্চিম পার্শ্বে পৃথক আরেক যায়গায় আরো দু’বার বাঁধ ভাঙ্গন দেখা দিলে তা মেরামত করা হয়। এদিকে স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এভাবে প্রবল বেগে পানি হাওরে ঢুকতে থাকলে উত্তরভাগ ইউনিয়নের রাজাপুর, সুপ্রাকান্দি, সুরিখাল, সুনামপুর, উমরপুর, কান্দিগাও, শাফাতপুর, রুস্তুমপুর ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সোনাটিকি, কাজিরহাট ও মেদেনীমহল ও ফতেপুর ইউনিয়নের বেড়কুড়ি, শাহাপুর, জাহিদপুর, আব্দুল¬াহপুর এলাকাসহ শতাধিক গ্রাম ক্ষতিগ্রস্থ হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী জানান, যত দ্রুত সম্ভব আমরা বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করছি। এদিকে বাঁধ মেরামতে সেনাবাহিনীর একটি টিম সার্বিকভাবে সহযোগীতা করছে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.