বিকুল চক্রবর্তী॥ মৌলভীবাজারে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে আশ্রয় নেয়া বানবাসী মানুষেরা পানি, পর্যাপ্ত খাবার ও পয়:নিস্কাশনসহ নানা সমস্যা নিয়ে রয়েছেন চরম ভুগান্তিতে। আশ্রয় কেন্দ্রের নিচতলা পানিতে নিমজ্জিত থাকায় এখানে এসেও তারা রয়েছেন বন্দি অবস্থায়। আর মৌলভীবাজার সিলেট মহাসড়কে আশ্রয় নেয়া পরিবার গুলো তাদের শিশুদের নিয়ে বসবাস করছেন চরম ঝুঁকি নিয়ে। মৌলভীবাজার প্রতিনিধি বিকুল চক্রবর্তীর তথ্য ও ছবিতে দেখুন ডেস্ক রিপোর্ট।
আট দিন ধরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরে কুশিয়ারা নদীর পানি উপছে গ্রামীণ একটি রাস্তা ভেঙ্গে তলিয়ে যায় খলিল পুর ইউনিয়নের হামর কোনাসহ আসপাশের গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে পড়েন অন্তত ২০ হাজার মানুষ। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে আত্মরক্ষার্থে আশ্রয় নেন একটি প্রাইমারী স্কুল, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি মাদ্রাসায়।
কিন্তু এখানে এসেও দূর্ভোগ পিছু ছাড়েনি বানবাসীদের। বানের পানিতে তলিয়ে যায় বিদ্যালয়গুলোর একতলা। দেখাদেয় বিশুদ্ধ পানি সংকট। রান্না বান্নায় যেমন কষ্ট পানির অভাবে মহিলারা করতে পারছেন না গোসল। বানের পানিতেই তারা সারছেন প্রয়োজনীয় কাজ। খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে অনেক দূর থেকে। তবে বানের পানি ব্যবহার না করার পরামশ্য দিয়েছেন মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন।
এদিকে হাইওয়ে রাস্তার পাশে পলিথিন মুড়ি দিয়ে বসবাস করা বানবাসীরা শিশু কিশোরদের নিয়ে একদিকে পানি অন্যদিকে রয়েছে যানবাহনের ভয়ে। রয়েছে টয়লেটেরও সমস্যা। অন্যদিকে বড় পরিবার গুলোতে সরকার থেকে প্রাপ্ত ১০ কেজি চালও ইতিমধ্যে শেষ হয়েগেছে।
তবে জেলা প্রশাসক জানালেন প্রর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে প্রয়োজনে আবার দেয়া হবে।
আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী জানালেন, কুশিয়ারা নদী বিপদ সীমার উপরে থাকায় বেশ কিছু জায়গা এখনও পানির নিচে। তবে মুন ও ধলই নদীর পানি বিপদ সীমার নিচে চলে আসায় কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ মৌলভীবাজার পৌরভার অধিকাংশ এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে।
আর কুশিয়ারা বিপদসীমার নিচে আসলে এবং নতুন করে ভারী বর্ষন না হলে আগামী এক সাপ্তাহের মধ্যে এ জেলার সকলস্থান থেকেই পানি নেমে যাবে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.