স্টাফ রিপোর্টার॥ মনু,ধলাই ও কুশিয়ারা নদীর থাবায় মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আরো প্রায় ৬ কোটি টাকার। মনুর পানি গত বৃহস্পতিবার কিছুটা বেড়ে গেলেও ৬ জুলাই শুক্রবার কিছুটা কমেছে। কুশিয়ারা নদীতে পানি এখনো বিপদসীর উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানির এসব বেড়ে যাওয়া ও কমে যাবার এই অন্তলীলায় মৌলভীবাজার শহরের মানুষ নতুন করে আবার দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এসব বন্যার সমস্যা ও সমাধান নিয়ে কথা হয় সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সাথে। আলাপচারিতা হয় জেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মহসিন আলী ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা সানজিদা শারমিন এর সাথে। তিনি বলেন, মৌলভীবাজারে সেই ভয়াল ১৯৮৪ সালের বন্যার কথা শুনেছি আব্বা প্রয়াত সমাজকল্যানমন্ত্রী কাছ থেকে। এবারের বন্যার সময়ে আমি শশুর বাড়ির লক্ষীপুরে ছিলাম। খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক মৌলভীবাজার আসি। এর আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আমার মা সৈয়দা সায়রা মহসীনকে বলেছি বন্যার আগে মনু নদী পাড়ের স্থানীয়দের সতর্ক থাকাতে যেন বলা হয়।
সানজিদা বলেন, এর মেডিয়া ও অন্যান্যদের কাছ থেকে শুনেছি যে ভারতের কৈলাশহরে ঝড়-বৃষ্টি সম্ভাবনা নাই তাই মৌলভীবাজারবাসীর আতঙ্ক হবার কিছু নাই। এর পরেই উজানের ঢলে মনূ নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গভীর রাতে বাঁধের বাড়ইকোনা ভেঙ্গে এক আতঙ্ক নিয়ে বাসা বাড়িতে পানি ঢুকে। এছাড়াও বড়হাট,ধরকাপন ও মনুমুখ এলাকা প্লাবিত হয়ে সহ¯্রাধিক মানুষের গবাদি পশুসহ মূল্যবান মালামাল খুয়ে যায়। সংশ্লিষ্টদের দুষারোপ করে তিনি বলেন, তাক্ষনিক বন্যার আগাম পূর্বাভাস দিলে শহরের বাসা-বাড়ির মানুষের এত বেশী ক্ষয়ক্ষতি হতোনা। তিনি প্রয়াত সমাজকল্যানমন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলীকে স্মরণ করে বলেন, আব্বা ৩ বার পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। তখন জনগণের জন্য কাজ করেছেন নিঃস্বার্থভাবে। পরবর্তীতে পৌরসভায় এসে কেউ তেমন একটা কাজ করছেননা। তিনি স্থানীয় সংসদ সৈয়দা সায়রা মহসীন,জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান ও পৌরসভা মেয়র ফজলুর রহমান স্বমন্বয়ে এসব সমস্যার সমাধানের আহবান জানান। তিনি আরো বলেন, মনু নদী খনন ও বাঁধ নির্মানে যেসব প্রস্তাবনা লেখা হয়েছে তা ঢাকায় আলোচনা করে প্রয়াজনে সুন্দর একখানা প্রস্তাবনা পেশকরা দরকার। গেল ভয়াল বন্যায় বারইকোনা বাঁধ ভেঙ্গে বড়হাট এলাকা দিয়ে পানি ঢুকে মোস্তফাপুর ইউনিয়নসহ শহরের বাসা-বাড়িতে পানি ঢুকে কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয়। মনূ নদী খননে টেন্ডার প্রক্রিয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জানিনা হয়েছে কি না,তবে টেন্ডার হলে এই ভরা বর্ষায় কাজ করা যাবেনা খনন শীত মৌসুমে করতে হবে। সম্প্রতি মনু নদীর শহরের একটু অদুরের বারইকোনায় যে বাঁধ ভেঙ্গেছিল ্ওই বাঁধে আব্দুল হাই নামের এক ব্যক্তি টিনচালার ঘরে বাস করতো। সেই ভয়াল রাতে তার পুরো ঘর ভেঙ্গে তছনছ হয়। এসময় তার একটি গরু পানিতে হারিয়ে যায় সাথে আরো নগদ টাকা ভেসে যায় ভয়াল এই শ্রোতধারায়। এদিকে মনূ নদী খনন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের মত প্রকাশ করেছেন আপ্পান আলী নামে স্থানীয় এক আ’লীগ নেতা। তিনি বলেছেন,“মৌলভীবাজার শহরসহ মনুনদীর উভয় কিনারায় প্রতিরক্ষা বাঁধ যেমন নিরাপদ নয় তেমন ব্যয়বহুল ও তিনি মনে করেন। তিনি বলেন,মনু ব্যারেজ হতে কাউয়াদিঘী হয়ে কুশিয়ারায় ড্রাইবাড করে নদী কাটা হলে যেমন ব্যয় কম হবে তেমন ভবিষ্যত হবে নিরাপদ”। বাংলাদেশ কমিউস্টি পার্টির সাবেক কেন্দ্রিয় সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মনু এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ আবু জাফর বলেন, মনূ নদীর স্বল্পম্যাদী সমস্যার সমাধান হলো দুই পাড়ে বাঁধ মজবুত করে স্থাপন। স্থায়ী সমাধানের কথা উল্যেখ করে তিনি বলেন, নদীটি যদি উতসমুখ থেকে সাগর পর্যন্ত খনন করা হয় তবে বন্যা থেকে রক্ষা পাবে নদী পাড়ের মানুষ। তবে এগুলো অনেক ব্যয়বহুল। নদী খননের টেন্ডার প্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা সাময়ীক খননের টেন্ডার হতে পারে। পুরো নদী খনন ব্যয়বহুল এবং এটা নদী বিশেষজ্ঞরা বিশ্লেষন করবেন। মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ঃন বোডের নির্বাহি প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বলেন,মনু নদীতে বিপদসীমার নীচ ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি বলেন, মনু,ধলাই ও কুশিয়ারা নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ৩৮ টি ভাঙ্গনকবলিত যায়গা আমরা চিহ্নিত করে সাড়ে ৪ লাখ টাকা খরছের একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। এদিকে বিআইডব্লিউটিএ ঢাকা এর উপ-সহকারি ফরিদুল এরশাদ বলেছেন, মনু নদীর নব্যতা দেখে দেখে খনন করতে মাস দেড় এক আগে টেন্ডার প্রক্রিয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মনুর যেখানে নব্যতা সংকট ও ভরাট হয়েছে সেখানে ড্রেজিং করা হবে। তবে এখনতো বর্ষাকাল নদী শান্ত হলে খননের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.