
বড়লেখা প্রতিনিধি॥ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে শেষ পর্যন্ত চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন মহাজোটের (আ’লীগের) হুইপ শাহাব উদ্দিন এমপি, ঐক্যফ্রন্টের (বিএনপির) নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু, সম্মিলিত জাতীয় জোটের আহমেদ রিয়াজ ও ইসলামী আন্দোলনের গিয়াস উদ্দিন। গত ২৮ নভেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমাদান কালে দেয়া হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা গেছে এ চার প্রার্থীর সবচেয়ে ধনী সংসদ সদস্য প্রার্থী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শিল্পপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু। তবে ধনী হলেও তিনি ব্যাংক ঋণে নিমজ্জিত।
হলফনামা সুত্রে জানা গেছে, ¯œাতক পাশ বহুমূখি পেশার অধিকারী শিল্পপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠুর বার্ষিক আয় ১৭ লাখ ৭ হাজার ৪’শ ১৩ টাকা। বিভিন্ন ব্যাংকে তার দেনা রয়েছে ২১ কোটি ৩২ লাখ ৭৭ হাজার ১০৬ টাকা। তার বিরুদ্ধে একটি মামলা থাকলেও মামলার চার্জশীট থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। নেই তার বিরুদ্ধে আর কোন মামলা মোকদ্দমা।
কৃষিখাতে মিঠুর বছরে আয় ৭৫ হাজার টাকা। বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বা দোকানসহ অন্যান্য ভাড়া বাবদ বছরে আয় ৯ লাখ ৮৩ হাজার ৪৭ টাকা, ব্যবসার আয় বছরে ২ লাখ ৮৯ হাজার ৩৬৬ টাকা, কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে পারিতোষিক ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সব মিলে তার বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৭ হাজার ৪’শ ১৩ টাকা। এছাড়া তার ওপর নির্ভরশীলদের ব্যবসা থেকে বছরে আয় হয় ৬ লাখ ৮৩ হাজার ৮২০ টাকা।
অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে নগদ ৩৪ লাখ ২০ হাজার ৯৮৫ টাকা ও স্ত্রীর নামে রয়েছে ৮ লাখ ১০ হাজার ৩৩৩ টাকা। তার নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা টাকার পরিমাণ ১০ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৫৫ হাজার ৮৪০ টাকা। বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানীর শেয়ার রয়েছে ৫২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর নামে ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। আছে নিজের নামে একটি পাজারো, একটি জিপ এবং একটি প্রাইভোট কার। এরমধ্যে পাজারো ও জিপের মূল্য ৩১ লাখ ৬৭ হাজার ৯২০ টাকা এবং প্রাইভেট কারের মূল্য ২১ লাখ ৪১ হাজার ৯৪ টাকা। নিজের নামে স্বর্ণ, অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ও পাথর নির্মিত অলংকার রয়েছে ২৫ হাজার টাকার এবং স্ত্রীর রয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার। ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার এবং স্ত্রীর নামে ৫০ হাজার টাকার। দম্পতি মিলে আসবাবপত্র আছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার।
স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে ৭২০ শতাংশ কৃষি জমি রয়েছে যার অর্জন কালিন মূল্য ৬০ লাখ টাকা। রয়েছে ৯০ লাখ টাকার অকৃষি জমি এবং স্ত্রীর নামে আরো ১০ লাখ টাকার ১২৫ শতাংশ জমি। যৌথ মালিকানায় আছে ১ কোটি ৭৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার দুটি দালান। নিজের নামে ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট, কোটি টাকার চা-বাগান, রাবার বাগান, মৎস্য খামার এবং স্ত্রীর নামে আছে ৫০ লাখ টাকার।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.