স্টাফ রিপোর্টার॥ আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার ৩ আসনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা প্রচারণায় ব্যাস্ত সময় পার করছেন। সম্প্রতির রাজনীতির অনন্য দৃশান্ত মৌলভীবাজার। সারাদেশে যখন নৌরাজ্য সৃষ্টি হয় তখন মৌলভীবাজারে তাতে শান্তি ও সম্প্রতির পরিবেশ।কিন্তু ১৯ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় সামনে জনি নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীর মোটর বাইবে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ প্রতিপক্ষ বিএনপিকে দায়ী করেন।
তবে এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ দলের নেতাকর্মীদের ফাঁসাতে ভাঙ্গা মোটর সাইকেলে অগ্নিসংযোগের নাটকিয়তার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মৌলভীবাজার-৩ (মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর) আসনের বিএনপি মনোনিত ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী এম নাসের রহমান উদ্বেগ জানিয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে গত ২০ ডিসেম্বর চিঠি দিয়েছেন।
এম নাসের রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি আমার বিরোধী পক্ষের যে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে সাজানো মামলায় ফাঁসানোর জন্য উক্ত জরাজীর্ন মোটর সাইকেল পোড়ানোর ঘটনা ঘটিয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রদল ও
ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা নিজেদের বাড়িকে রাত কাটাতে পারছেন না। পুলিশ এসে হয়রানি করছে। গায়েবী মামলা দিচ্ছে। তিনি আরোও বলেন, এ নিয়ে পুলিশ মামলা করে আমার নেতা কর্মীদেও ধরপাকড় করার পাঁয়তারার আশংকা করছি। কারণ অনুরুপ ঘটনা মঙ্গলবার ১৮ ডিসেম্বর বড়লেখায় ঘটিয়ে আমার দলের বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাফিজ ও জুড়ী উপজেলার হাজী মাসুম রেজাসহ বেশ কয়েকজন নেতা কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ যদি এইরূপ ঘটনার উপর ভিত্তি করে মৌলভীবাজার সদরে আমার দলীয় নেতাকর্মীদেও অনুরূপ গ্রেফতার কার্যক্রম করে তাহলে স্পষ্ট নির্বাচন কার্যক্রম চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অগ্নি সংযোগের কয়েক মিনিটের মধ্যে তিনটি পুলিশ, ফায়ার ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এসময় সাংবাদিকদের মোটর সাইকেলের ছবি তুলতে গেলে পুলিশ সদস্যরা বাঁধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মৌলভীবাজারের এক সিনিয়র সিটিজেন বলেন, সামান্ন একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয়েছে। সাথে সাথে পুলিশ ফায়ার সার্ভিস এসেছে। কিন্তু যদি অন্য কোথাও আগ্নিসংযোগ হয় পুলিশ তো দূরের কথা ফায়র সার্ভিস আসতে আসতে সব পুড়ে যায়। আমি নয় জনমনেও এ নিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এঘটনার পর মৌলভীবাজার জেলার সিনিয়র পুলিশ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) গণমাধ্যমকে মো: রাশেদুল ইসলাম পিপিএম সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হঠাৎ করে কে বা কাহারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.