ইমাদ উদ দীন॥ ভোটের দিনক্ষন ঠিকঠাক। চলছে প্রচার প্রচারণাও। সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই বদলাচ্ছে ভোটের মাঠ। তারপরও প্রার্থীদের মত সরব হচ্ছেন না ভোটার। গাঁও গেরামে ভোট নিয়ে উৎসবের আমেজ এখন অনেকটাই অনুপস্থিত। বরং নিরব ভোটারদের নিরাপদ ভোট দেওয়া নিয়ে যতসব সরব জল্পনা কল্পনা। মুখ খোলে জোরে সুরে আলোচনা নেই ভোটের। এমন দৃশ্য গাঁও গেরামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ভয়ভীতি আর উদ্বেগ উৎকন্ঠার শেষ নেই। এখন গ্রাম ও শহরের মানুষের মাঝে ভোট নিয়ে নিরবে বইছে নানা প্রশ্ন আর কৌতুহল। ভোট কি আদৌও হবে। হলে কতটুকু অবাদ সুষ্ট ও নিরপেক্ষ হবে। ভোটের দিন ভোট কেন্দ্রগুলোতে দাঙ্গা ফাসাদ খুন খারাবি কিংবা কেন্দ্র দখলের মত বিশৃঙ্খলা হবে কিনা। প্রশাসনের ভূমিকা কেমন হবে এমন নানা প্রশ্ন ঘুর পাক খায় ভোটারদের কাছে। এমন সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর না পাওয়ায় ভোট নিয়ে উৎসবের চাইতে ভয় ও আতংকের কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনটি বলছেন গ্রাম এলাকার ভোটাররা।
কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজার এলাকার একটি ধান ক্ষেতের মাঠে কথা হয় কৃষক মন্তাজ মিয়া,শরিফ মিয়া,রমিজ মিয়া,রাজন মিয়া,হরিপদ মালাকারসহ অনেকেরই সাথে। তারা আমন ধান কাটতে কাটতে জানালেন ভোট আইছে শোনছি কিন্তু আগের দিনের মত ভোটের সেই আমেজ নেই। ভোট মানেই উৎসব উদ্দীপনা ছিল। কিন্তু এবারের ভোটে সেই পুরানো আমেজ দেখতে পাচ্ছিনা। ভোটের দিন ঘনিয়ে আসলেও গ্রাম এলাকায় এখনো দেখা মিলছেনা উৎসব কিংবা আমেজের। উল্টো ভোট নিয়ে ভয়ভীতি ছড়াচ্ছে। ভোট নিয়ে অজানা শঙ্কায় স্থানীয় ভোটাররা। তাই ভোট নিয়ে তাদের তেমন আগ্রহ নেই। তারপরও তারা ভোটের দিন পরিবেশ পরিস্থিতি অনুকুলে থাকলে ভোট দিতে যাবেন। এমনটি জানালেন তারা।
কমলগঞ্জ উপজলার আদমপুর ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের সবজি চাষী বারেক মিয়া,আয়েজ আলী,মন্টু মিয়া,জমির মিয়া, সুরুজ আলীসহ অনেকেই জানালেন আগের দিনের মত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা তাদের চোখে পড়ছে কম। এক পক্ষ প্রচারণা আগে থেকে শুরু করলেও অন্যপক্ষ সে সুযোগ পাচ্ছেন কম। মামলা হামলার ভয় থাকায় অনেক নেতাকর্মীরা আগেই থেকেই মাঠে নেই। এখনো গায়েবী মামলার ভয়ে বাড়ি ছাড়া। তারা বলেন এমপি ভোট দিয়ে কি হবে গেল ৫ বছরেও তো এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন পাইলাম না। নদী ভাঙ্গনে ক্ষতি হল কই সরকারী তরফে তো তেমন সাড়া পেলাম না। এই মারামারি করি ভোট কারে দিতাম। জেলার ৪টি সংসদীয় আসনের ৭টি উপজেলায় ঘুরে দেখাগেল শহর এলাকায় ভোটের হাওয়া সরগরম থাকলেও উল্টোদৃশ্য গ্রাম এলাকার। ভোট নিয়ে ভয়ভীতি থাকায় তারা আমন ধান ঘরে তোলা আর ক্ষেত খামার নিয়েই বেশি ব্যস্ত। নিরাপদ থাকার কৌশলে তারা কোন প্রার্থীরই পক্ষে কথা বলছেন না। এমনকি ভোট নিয়েও তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলা ৫টি পৌরসভা ও ৬৭টি ইউনিয়ন নিয়ে ৪টি সংসদীয় আসন। এই ৪টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৩,০৪০,৬৩ জন। ৪টি আসনে মোট ১৯ জন প্রার্থী অংশগ্রহন করেছেন। এর মধ্যে গনফোরামের প্রার্থী এডভোকেট শান্তি পদঘোষ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে এখন ১৮জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতায় রয়েছেন।
প্রবাসী ও পর্যটন অঞ্চল হিসেবে এজেলার রয়েছে ঐতিহ্য। চা,আগর,রাবার বাগান আর হাকালুকি হাওরের জন্য বিখ্যাত এ জেলাটি নজর কাড়ে দেশবাসীর। ভৌগলিক অবস্থানগত কারনে এখানে চা শ্রমিকের পাশাপাশি নদী ও হাওর পাড়ের কৃষি ও মৎস্যজীবীদের ভোটের সময় রয়েছে আলাদা কদর ও মর্যাদা। বরাবরই তাদের ভোটেই পাল্টে যায় জয় পরাজয়ের হিসাব নিকাশ। তাই ভোটের মাঠে প্রার্থীদের কাছে রয়েছে তাদের গুরুত্ব ও কদর। অথচ সেই তৃণমূলের ভোটারদের এবাকার ভোট নিয়ে আগ্রহের দেখা মিলছে কম। কারন এখনো পর্যন্ত তারা পাচ্ছেন না ভোটের সেই আমেজ কিংবা পরিবেশ। তাদের মত গায়েবী মামলা নিয়ে বিএনপি ও ঐক্যফন্টের প্রার্থী ও তাদের নেতাকর্মীরা চরম উদ্বিগ্ন। নির্বাচনের আর হাতে গুনা ক’দিন তারপরও পুলিশ তাদের বাসা বাড়িতে তল্লাশি করছে। বাড়ি বাড়ি হানা দিচ্ছে। নানা ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এমন অভিযোগ করে তা বন্ধ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের দাবিতে জেলা বিএনপির সভাপতি ও ঐক্যফন্ট মনোনীত মৌলভীবাজার-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নাসের রহমান মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় এপর্যন্ত ঐক্যফন্টের ২৪ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। একই অভিযোগ জেলার অন্য ৩টি আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের। ভোটারাও বলছেন ২০১৪ সালের ভোট স্মরণে এখন কাটছেনা তাদের ভয়ভীতি। শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্টিত হওয়া নিয়ে তাদের যত ভয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে হাটে মাঠে ঘাটে এজেলার ভোটারদের সাথে আলাপে এমনটিই আভাস দিচ্ছেন তারা। গণতন্ত্র ও আইনের শাসন রক্ষায় তারা সবাই অবাধ সুষ্ট নিরপেক্ষ ও সবদলের অংশগ্রহনের নির্বাচন চান। দীর্ঘদিন পর আসা জাতীয় নির্বাচনে যেন নিরাপদ ও নির্বিঘেœ নিজের পচন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন এখন এই নিশ্চয়তা চান গাঁও গেরামের ভোটাররা।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.